
ঢাকার পিচগলা রাস্তা আর দীর্ঘ জ্যামের ক্লান্তি কাটানোর অন্যতম বড় ভরসা এখন হাতের স্মার্টফোনটি। নতুন কোনো হ্যান্ডসেট কেনার আগে আমরা শুধু ব্র্যান্ডের লোগো দেখি না, পকেটের টাকার বিপরীতে ঠিক কতটুকু পারফরম্যান্স মিলছে তার কড়া হিসাব মেলাই। ২০২৬ সালের বাজারে দাঁড়িয়ে যারা প্রিমিয়াম এবং বাজেটের একটা বাস্তবসম্মত মেলবন্ধন খুঁজছেন, তাদের নজরে নিশ্চয়ই motorola দাম বাংলাদেশ সংক্রান্ত আপডেটগুলো রয়েছে। আজকের এই মোবাইল রিভিউ 2026 আয়োজনে আমাদের টেবিলে রয়েছে সদ্য বাজারে আসা Motorola Edge 60 Pro। মটোরোলা ভক্তদের জন্য এই ফোনটি কি আসলেই কাজের কিছু নাকি শুধুই চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদ? চলুন, ঢাকার এই তপ্ত দুপুরে ফোনটির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে স্মার্টফোন দাম 2026-এর সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করি।
ফ্ল্যাগশিপ ফোনের দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পকেটে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে প্রিমিয়াম স্বাদ পেতে চাওয়াই স্বাভাবিক। Motorola Edge 60 Pro মূলত এই শূন্যস্থানটি পূরণের লক্ষ্যেই বাজারে এসেছে। একে কোনোভাবেই ‘আল্ট্রা’ শ্রেণির ফ্ল্যাগশিপ বলা যাবে না, তবে এর ডিজাইন ও দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্যতা সাধারণ ফোনের চেয়ে বেশ খানিকটা ওপরে। কিন্তু শুধু পিঠের মসৃণ ফিনিশিং দিয়ে কি একটা ফোন দীর্ঘকাল চালানো যায়? দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে এটি কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা নিয়েই আমাদের আজকের এই বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ।
প্রথম দেখায়: ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
হাতে নেওয়া মাত্রই টের পাওয়া যায় এর পরিমিত ওজন। Motorola Edge 60 Pro ফোনটি আমাদের ধারণার চেয়েও হালকা মনে হয়েছে। পেছনের ভেগান লেদার ফিনিশটি পাম-গ্রিপ বা হাতের মুঠোয় চমৎকার অনুভূতি দেয়, সস্তা প্লাস্টিকের খসখসে ভাব এখানে নেই। ঢাকার ধুলোবালি কিংবা ভ্যাপসা গরমে যেখানে গ্লাস বা কাঁচের পিঠে আঙুলের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যায়, সেখানে এই লেদার টেক্সচার বেশ কার্যকরী সমাধান। এর ক্যামেরা বাম্পের বাঁকানো অংশটি পেছনের প্যানেলের সঙ্গে বেশ মসৃণভাবে মিশে গেছে।

চারপাশের অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের কারণে ডিভাইসটি বেশ শক্তপোক্ত মনে হয়। ডানপাশের পাওয়ার ও ভলিউম বাটনগুলোর ট্যাকটাইল ফিডব্যাক বেশ কড়কড়ে। তবে ফোনটির লম্বা গড়নের কারণে একহাতে ওপরের নোটিফিকেশন প্যানেল টানতে বেশ কসরত করতে হয়। ছোট হাতের ব্যবহারকারীদের এটি দুই হাতেই সামলাতে হবে। সত্যি বলতে, এর দুই পাশের কার্ভড স্ক্রিনটি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও পকেটে থাকা অবস্থায় বা একহাতে ধরার সময় মাঝে মাঝেই অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা মিস-টাচ ডেকে আনে। ফ্ল্যাট স্ক্রিনের সোজা সাপটা ব্যবহারের চেয়ে এটি অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতেই পারে।
চোখ ধাঁধানো ডিসপ্লে: বিনোদন ও উৎপাদনশীলতার সেরা সঙ্গী
পর্দার ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি নিয়ে বড় কোনো অভিযোগের সুযোগ নেই। Motorola Edge 60 Pro-তে ব্যবহৃত pOLED প্যানেলটির কালার টিউনিং বেশ প্রাণবন্ত। ঘরে বসে নেটফ্লিক্স বা ইউটিউব দেখার অভিজ্ঞতা বেশ আরামদায়ক, বিশেষ করে ডার্ক সিন বা অন্ধকার দৃশ্যগুলোতে কালো রঙের গভীরতা নিখুঁত মনে হয়েছে। তবে দুপুরের কড়া রোদে রাজপথ বা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে স্ক্রিনের লেখা পড়তে কিছুটা চোখ কুঁচকাতে হয়। এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা বা পিক ব্রাইটনেস ইনডোরের জন্য দারুণ হলেও সরাসরি সূর্যের আলোতে কিছুটা হাঁপিয়ে ওঠে।

উচ্চ রিফ্রেশ রেটের কল্যাণে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রলিংয়ের সময় কোনো বাড়তি জড়তা চোখে পড়েনি। রাতের অন্ধকারে ব্যবহারের জন্য আই-প্রোটেকশন মোডটি বেশ কার্যকর। তবে কার্ভড ডিসপ্লের কারণে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও দেখার সময় দুই ধারের বাঁকানো অংশে সামান্য রিফ্লেকশন বা রঙের বিচ্যুতি চোখে পড়ে। কার্ভড প্যানেলের এই জন্মগত ত্রুটি মটোরোলাও এড়াতে পারেনি। অবশ্য এর পাতলা ব্যাজেল ফোনটিকে সামনের দিক থেকে দেখতে বেশ দামি লুক দেয়, যা এই বাজেটের অনেক ফোনেই অনুপস্থিত।
পারফরম্যান্সের দৌড়: MediaTek Dimensity 8350 Extreme কতটা শক্তিশালী?
ভেতরের মূল শক্তিতে নজর দেওয়া যাক। Motorola Edge 60 Pro-তে চিপসেট হিসেবে রয়েছে MediaTek Dimensity 8350 Extreme। বাস্তব ব্যবহারে দেখা গেছে, সাধারণ ব্রাউজিং, গান শোনা কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডে জিপিএস ম্যাপ চালু রেখে মেসেজিং করার মতো মাল্টিটাস্কিংয়ে এটি কোনো হেঁচকি তোলে না। এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে স্যুইচ করার গতি কিংবা র্যামে অ্যাপ্লিকেশন ধরে রাখার ক্ষমতা আমাদের হতাশ করেনি।

কিন্তু ভারী গেমারদের জন্য এই চিপসেট কতটা নির্ভরযোগ্য? আমরা পাবজি (PUBG Mobile) এবং জেনশিন ইমপ্যাক্ট (Genshin Impact) চালিয়ে দেখেছি। পাবজিতে ৬০ এফপিএস ফ্রেমরেট বেশ স্থিতিশীল থাকলেও জেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো গ্রাফিক্স-হাংরি গেম আধঘণ্টা চালালেই ফোনের পেছনের অংশ তেতে ওঠে। ঘরের তাপমাত্রা বেশি হলে কিংবা এসি ছাড়া দীর্ঘক্ষণ ভারী গেমিং করলে প্রসেসর নিজের তাপমাত্রা কমাতে পারফরম্যান্স কিছুটা কমিয়ে দেয় (থার্মাল থ্রটলিং)। কট্টর গেমারদের জন্য এই তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। এই সেগমেন্টের অন্যান্য ফোনের তুলনামূলক পারফরম্যান্স দেখতে আমাদের সব মোবাইল রিভিউ দেখুন ক্যাটাগরিটি ঘুরে আসতে পারেন।
ক্যামেরা ম্যাজিক: প্যান্টোন কালার ও ফটোগ্রাফি
ছবি তোলার ক্ষেত্রে মটোরোলা এবার প্যান্টোন (Pantone) কালার সার্টিফিকেশনের ওপর জোর দিয়েছে। এই টিউনিংয়ের সুবিধা হলো, ছবিতে মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক রঙ (স্কিন টোন) এবং আশেপাশের পরিবেশের প্রকৃত রঙ বেশ নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে। দিনের আলোয় তোলা ছবিতে পর্যাপ্ত ডিটেইলস এবং ডাইনামিক রেঞ্জের ভারসাম্য চোখে পড়ার মতো। উৎসব-পার্বণে বা পারিবারিক আড্ডায় চটজলদি ভালো ছবি তোলার জন্য এর মূল সেন্সরটি বেশ কাজের।

মুশকিল হলো রাতের বেলা বা ঘরের অল্প আলোতে। নাইট মোড ব্যবহার করলেও ছবির অন্ধকার অংশগুলোতে স্পষ্ট দানাদার ভাব বা নয়েজ চলে আসে। তবে সবচেয়ে বড় আপসটি করা হয়েছে ভিডিওগ্রাফি বিভাগে। ইন্টারনেটের কিছু জায়গায় হয়তো ভুলবশত 4K@60fps-এর দাবি দেখা যেতে পারে, কিন্তু আমাদের বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে Motorola Edge 60 Pro-তে ভিডিও রেকর্ডিং সর্বোচ্চ 4K@30fps-এ সীমাবদ্ধ। ২০২৬ সালের এই বাজেটের একটি ফোনে ৬০ ফ্রেমের ফোর-কে ভিডিও না থাকাটা মেনে নেওয়া কঠিন। যারা নিয়মিত রিলস বা ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় খামতি। ক্যামেরা ও ভিডিওর বিষয়ে কোনো আপস করতে না চাইলে আমাদের Oppo Find X8 Ultra দাম বাংলাদেশ: রিভিউ, স্পেকস ও ফটোগ্রাফি! লেখাটি দেখতে পারেন。
ব্যাটারি ও চার্জিং: সারাদিনের সঙ্গী
চার্জ শেষ হওয়া নিয়ে সাধারণ ব্যবহারে খুব একটা দুশ্চিন্তা করতে হবে না। সকালে পুরো চার্জ নিয়ে বের হয়ে স্বাভাবিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং, কিছু কল এবং গান শোনার পর রাতেও প্রায় ২০ শতাংশের মতো চার্জ টিকে থাকে। তবে সারাদিন ফোর-জি বা ফাইভ-জি মোবাইল ডেটা অন রেখে জিপিএস ব্যবহার করলে বা গেমিং করলে বিকেলের আগেই চার্জার খুঁজতে হবে—যা যেকোনো আধুনিক ফোনের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক।
মটোরোলার একটি অদ্ভুত খামখেয়ালি আমাদের চোখে পড়েছে চার্জিং বিভাগে। বাক্সে থাকা ক্যাবল চার্জার দিয়ে দ্রুত চার্জ হলেও, ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের গতিতে বড় ধরণের অবনমন ঘটেছে। আগের সংস্করণে যেখানে ৫০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং দেওয়া হয়েছিল, এবার সেটি নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১৫ ওয়াটে (15W)। আপগ্রেডের বদলে এই ধরণের ডাউনগ্রেড কেন করা হলো তা বোঝা দায়। ডেস্কে ওয়্যারলেস চার্জার ব্যবহারকারীদের জন্য এই ১৫ ওয়াটের গতি বেশ ধীরগতির ঠেকবে।
সフトওয়্যার অভিজ্ঞতা: স্টক অ্যান্ড্রয়েড ও Moto AI
সফটওয়্যার অভিজ্ঞতাই মূলত এই ফোনের প্রধান ইউএসপি বা বিক্রয় বিন্দু। Motorola Edge 60 Pro-তে কোনো অপ্রয়োজনীয় ব্লোটওয়্যার বা থার্ড-পার্টি অ্যাপের হিজিবিজি নেই। একদম ছিমছাম স্টক অ্যান্ড্রয়েডের স্বাদ মিলবে এখানে। মটোরোলার চেনা জেসচারগুলো (যেমন ফোন ঝাঁকিয়ে ফ্ল্যাশলাইট জ্বালানো বা কবজি মুচড়ে ক্যামেরা অন করা) দৈনন্দিন ব্যবহারে বেশ আরাম দেয়।
এর সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ড অপ্টিমাইজেশনের জন্য হালকা ‘Moto AI’ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বড় ধাক্কাটি খাবেন আপডেটের ক্ষেত্রে। স্যামসাং বা গুগলের মতো ব্র্যান্ডগুলো যখন দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার সমর্থনের দিকে ঝুঁকছে, মটোরোলা সেখানে আটকে আছে মাত্র ৩ বছরের সফটওয়্যার আপডেটে। ২০২৬ সালের একটি প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির হ্যান্ডসেট ২০২৯ সালের পর আর কোনো নতুন ওএস সংস্করণ পাবে না, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য ফোন কিনতে চাওয়া গ্রাহকদের জন্য বেশ বড় একটি নেতিবাচক দিক।
প্রতিযোগিতার মাঠে: কার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে Edge 60 Pro?
বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় Motorola Edge 60 Pro-এর সামনে রয়েছে শক্ত প্রতিপক্ষ। বিশেষ করে Xiaomi Redmi K70 Pro এবং Samsung Galaxy A57/A58-এর মতো মডেলগুলো একে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। কাঁচা পারফরম্যান্সের বিচারের শাওমি এগিয়ে থাকলেও সফটওয়্যারের পরিচ্ছন্নতায় মটোরোলা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আবার স্যামসাং দীর্ঘ সফটওয়্যার আপডেট দিলেও তাদের চার্জিং স্পিড ও বাক্সে চার্জার না রাখার নীতি অনেককেই হতাশ করে।
নিচে সমপর্যায়ের কিছু ফোনের তুলনামূলক অবস্থান দেওয়া হলো:
- Motorola Edge 50 Pro: আগের এই সংস্করণের চেয়ে নতুন মডেলে প্রসেসর আপগ্রেড হলেও ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের গতি কমে গেছে অনেকটাই।
- Xiaomi Redmi K70 Pro: প্রসেসিং ক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও এর ইউজার ইন্টারফেসে বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি এবং ডিজাইন বেশ সাধারণ।
- Samsung Galaxy A57/A58: দীর্ঘ সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড ভ্যালু পেলেও এর ধীরগতির চার্জিং এবং বক্সে চার্জার না থাকাটা বড় আপস।
যারা বাজেটের সীমা বাড়িয়ে আরও ভালো কোনো অপশন খুঁজছেন, তারা আমাদের Vivo X200 Ultra দাম বাংলাদেশে: ক্যামেরা, পারফরম্যান্স ও সম্পূর্ণ রিভিউ বিশ্লেষণটি পড়ে দেখতে পারেন। এটি ক্যামেরা ও আল্ট্রা-লেভেল ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্সের জন্য দারুণ বিকল্প হতে পারে।
Motorola Edge 60 Pro-এর বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন টেবিল
নিচে এই ফোনটির সমস্ত জানা এবং নিশ্চিত তথ্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো। কোনো মনগড়া বা অনুমিত তথ্য এখানে দেওয়া হয়নি।
| ফিচার (Feature) | স্পেসিফিকেশন (Specification) |
|---|---|
| ব্র্যান্ড | Motorola |
| মডেল | Motorola Edge 60 Pro |
| রিলিজ ডেট | ২৭ জুন ২০২৬ (রিলিজড) |
| প্রসেসর/চিপসেট | MediaTek Dimensity 8350 Extreme |
| ডিসপ্লে টাইপ | pOLED (Curved Display) |
| ভিডিও রেকর্ডিং | 4K @ 30fps (সর্বোচ্চ) |
| ওয়্যারলেস চার্জিং | 15W |
| সফটওয়্যার আপডেট | ৩ বছর (3 Years OS Updates) |
| বাংলাদেশি প্রাইস | অফিসিয়াল দাম নিশ্চিত হলে এই অংশ আপডেট করা হবে |
স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে ফোনটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ হলেও কিছু কিছু জায়গায় কাটছাঁট করা হয়েছে যা স্পষ্ট। বিশেষ করে যারা ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের ভক্ত বা যারা ভিডিওগ্রাফি করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই তথ্যগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আপনি যদি আরও বাজেট-বান্ধব এবং বৈচিত্র্যময় ডিভাইসের খোঁজ পেতে চান, তবে আমাদের আরও মোবাইল রিভিউ পড়ুন লিংকে গিয়ে আপনার পছন্দের ফোনটি খুঁজে নিতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. Motorola Edge 60 Pro-এর অফিসিয়াল দাম বাংলাদেশে কত?
আমাদের দেশের বাজারে এখনো এর নির্দিষ্ট অফিশিয়াল দাম ঘোষণা করা হয়নি। মটোরোলা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাম নিশ্চিত করা মাত্রই আমরা এই অংশটি আপডেট করে দেব। তবে দেশের খুচরা বিক্রেতা ও আনঅফিশিয়াল চ্যানেলে এটি ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।
২. এই ফোনে কি 4K 60fps ভিডিও রেকর্ড করা যায়?
না, Motorola Edge 60 Pro-এর ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা সর্বোচ্চ 4K @ 30fps পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কিছু অনলাইন লিস্টিংয়ে ৬০ এফপিএস-এর কথা বলা থাকলেও বাস্তবে এটি সাপোর্ট করে না।
৩. এই ফোনের ওয়্যারলেস চার্জিং গতি কেমন?
এখানে মাত্র ১৫ ওয়াটের (15W) ওয়্যারলেস চার্জিং পাবেন। পূর্ববর্তী সংস্করণের ৫০ ওয়াটের চার্জিং গতির তুলনায় এটি বেশ বড় একটি ডাউনগ্রেড।
৪. গেমারদের জন্য Dimensity 8350 Extreme কেমন পারফর্ম করে?
মাঝারি ও ভারী গেমিংয়ের জন্য এটি ভালো পারফর্ম করে। তবে দীর্ঘসময় একটানা জেনশিন ইমপ্যাক্ট বা সমমানের ভারী গেম খেললে ফোনটি গরম হয়ে পারফরম্যান্স কিছুটা ড্রপ করতে পারে।
৫. এই ফোনটি কত বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট পাবে?
মটোরোলা এই ফোনটির জন্য ৩ বছরের ওএস (OS) এবং সিকিউরিটি আপডেটের নিশ্চয়তা দিয়েছে। সমসাময়িক প্রতিযোগীদের তুলনায় এই সমর্থন কিছুটা কম।
শেষ কথা: আপনার জন্য কতটা উপযুক্ত?
Motorola Edge 60 Pro সবার মন জয় করতে না পারলেও নির্দিষ্ট একদল ব্যবহারকারীকে বেশ আকৃষ্ট করবে। যারা পরিষ্কার ইউজার ইন্টারফেস, হালকা ও প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি এবং মসৃণ একটি স্ক্রিন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপযোগী হ্যান্ডসেট। দিনের আলোতে এর প্যান্টোন কালার ক্যামেরা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার মতো চমৎকার ছবি তোলা সম্ভব।
অন্যদিকে আপনি যদি ভিডিওর ফ্রেমে বা গতিতে কোনো আপস করতে না চান (যেমন 4K@60fps) কিংবা দ্রুতগতির ওয়্যারলেস চার্জিং আপনার প্রাত্যহিক প্রয়োজন হয়ে থাকে, তবে তালিকায় এই ফোনটিকে পিছিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মাত্র ৩ বছরের সফটওয়্যার সমর্থনের বিষয়টিও দীর্ঘমেয়াদী ক্রেতাদের জন্য বড় ভাবনার বিষয়। শেষমেশ বলা যায়, বড় কোনো ফ্ল্যাগশিপের পেছনে বিপুল অর্থ ঢালতে না চাইলে, এটি একটি বিকল্প পছন্দ হতে পারে।
📌 শেষ মূল্যায়ন
Motorola Edge 60 Pro দেখতে দারুণ এবং ব্যবহারে আরামদায়ক হলেও ভিডিওগ্রাফি ও ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের গতিতে কিছুটা আপস করেছে। পরিচ্ছন্ন স্টক অ্যান্ড্রয়েডের অভিজ্ঞতা ও প্রিমিয়াম ডিজাইনই যদি আপনার মূল চাওয়া হয়, তবে এই ফোনে বিনিয়োগ করতে পারেন।
আপনার মতামত কী? ভিডিওর সীমাবদ্ধতা এবং ৩ বছরের আপডেট পলিসি মেনে নিয়ে আপনি কি এই ফোনটি কিনতে আগ্রহী? নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার ভাবনা আমাদের জানান!
নতুন সব গ্যাজেটের বাস্তব ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পেতে আমাদের চোখ রাখুন। আপনি চাইলে আমাদের তালিকাভুক্ত পেজ থেকে সব মোবাইল রিভিউ দেখুন এবং আপনার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিন।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই রিভিউটি আন্তর্জাতিক বাজারে ফোনটির রিলিজ এবং প্রাপ্ত স্পেসিফিকেশনের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে এর প্রাপ্যতা ও দামের পরিবর্তন হতে পারে। বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য GSMArena এবং মটোরোলা ব্র্যান্ডের ইতিহাস জানতে Wikipedia দেখতে পারেন।)
📌 সর্বশেষ কথা: Motorola Edge 60 Pro নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আপনার মতামত নিচে কমেন্টে জানান, আর নতুন মোবাইল রিভিউ পেতে সাইট বুকমার্ক করুন।


