
ঢাকার জ্যামে বাসে ঝুলতে ঝুলতে কিংবা কোনো ক্যাফেতে বসে এক হাতে ফোন চালানোটা ইদানীং বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। স্ক্রিনগুলো এত বড় যে হাতের তালু যেন ছোট পড়ে যায়। ঠিক এই জায়গায় OnePlus 13s একটু ভিন্ন পথে হাঁটল। সম্প্রতি বাজারে আসা এই ফোনটি নিয়ে গ্যাজেটপ্রেমীদের মাঝে বেশ ভালো কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। যারা নিয়মিত সব মোবাইল রিভিউ দেখুন ক্যাটাগরিতে চোখ রাখেন, তাদের মনে বড় প্রশ্ন—এবারের oneplus দাম বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে কতটা যৌক্তিক? ২০২৬ সালের বাজার মাতাতে আসা এই কমপ্যাক্ট ফ্ল্যাগশিপটি নিয়ে আমাদের এই মোবাইল রিভিউ 2026। ঢাউস সাইজের ফোনের বাজারে OnePlus বাংলাদেশ-এর এই নতুন ফোনটি সত্যি বলতে একটা বড় স্বস্তি।
আমাদের পর্যবেক্ষণে প্রথম দেখাতেই ফোনটির সাইজ নজর কেড়েছে। অনেকদিন পর হাতের তালুতে ঠিকঠাক খাপ খেয়ে যাওয়ার মতো একটা ফোন পাওয়া গেল। আজকাল ফ্ল্যাগশিপ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভারী আর দানবাকৃতির এক একটা ডিভাইস। পকেটে নিয়ে হাঁটা কিংবা এক হাতে টাইপ করা—দুটোই যন্ত্রণার। এই চেনা ট্রেন্ড ভেঙে OnePlus 13s যেভাবে হালকা ও স্লিম গড়ন ধরে রেখেছে, তা বেশ প্রশংসনীয়। ঢাকার কারওয়ান বাজারের চিলিং ক্রাউড বা বাসের ভিড়ে এক হাতে মেসেজ পাঠানোর যে আরাম, তা বড় ফোনে স্রেফ কল্পনা করা যায়।
ফোনের বাজারে ফিচার বাড়ানোর তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে ঠিকই, তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের সহজতা যেন কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে। OnePlus 13s ঠিক এই ফাঁকা জায়গাটা পূরণ করতে চায়। যারা সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় এমন একটা ফোন চান যা এক হাতে সামলানো যাবে অথচ পারফরম্যান্সে কোনো ছাড় দেবে না, তাদের জন্য এটি দারুণ বিকল্প হতে পারে। চলুন, ফোনটির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা যাক।
প্রথম দেখায় চমক: OnePlus 13s এর ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটির আভিজাত্য

ডিভাইসটির লুক প্রথমবারেই বেশ প্রিমিয়াম একটা ভাইব দেয়। এর মেটাল ফ্রেম এবং গ্লাস ব্যাকের ফিনিশিং বেশ নিখুঁত। হাতে তোলার পর অবাক লেগেছে এর ওজন দেখে। আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও এটি বেশ হালকা মনে হয়েছে। পেছনের ম্যাট ফিনিশ ব্যাক প্যানেলটি আরেকটি প্লাস পয়েন্ট; দেশের ভ্যাপসা গরমেও এতে সহজে আঙুলের ছাপ বা দাগ বসে না। সাইডের কার্ভগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা দীর্ঘ সময় ধরে গেম খেলা বা স্ক্রোল করার পরেও হাতে কোনো অস্বস্তি তৈরি করে না।
যারা সাইজের দিক থেকে Samsung Galaxy S24 পছন্দ করেন, তাদের এই ডিভাইসটি ভালো লাগার কথা। Realme GT 7 Pro-এর মতো ভারী ফোনগুলো পকেটে নিয়ে হাঁটা যেখানে বেশ ঝামেলার, সেখানে OnePlus 13s-কে বেশ হালকা মনে হয়। মাঝেমধ্যে পকেটে আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে ছুঁয়ে দেখতে হয়। গরমে চনমনে রোদের মধ্যে ভারী গ্যাজেট বয়ে বেড়ানোর ক্লান্তি থেকে এটি আপনাকে বাঁচাবে। মেটাল আর গ্লাসের এই চমৎকার মেলবন্ধন ফোনটিকে শক্তপোক্ত করার পাশাপাশি একটা দামি ফিল দেয়।
বিল্ড কোয়ালিটিতে কাটছাঁট করা হয়নি, যা বাটনগুলোর ক্লিক করলেই টের পাওয়া যায়। ট্যাকটাইল ফিডব্যাক বেশ জুতসই। পোর্ট এবং বাটনগুলোর অবস্থানও এমন জায়গায় রাখা হয়েছে যাতে এক আঙুলেই সব নাগাল পাওয়া যায়। বাসে বা রিকশায় যাতায়াতের সময় যারা চটজলদি ফোন আনলক করে কাজ করতে চান, তাদের এটি বেশ সুবিধা দেবে। স্ক্রিনের চারপাশের চিকন বেজেল ফোনটির চেহারায় একটা আধুনিক ও ঝরঝরে ভাব এনে দিয়েছে।
পাওয়ার হাউস পকেটে: OnePlus 13s এ Snapdragon 8 Elite এর আসল জোর
সাইজ দেখে একে দুর্বল ভাবলে ভুল করবেন। ইঞ্জিনের নিচে রয়েছে কোয়ালকমের ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট Snapdragon 8 Elite। এই চিপের জোর এতটাই যে দৈনন্দিন সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং থেকে শুরু করে হেভি গেমিং—সবকিছুতেই ফোনটি মাখনের মতো চলে। ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপের মতো কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। ব্যাকগ্রাউন্ডে ১৫-২০টি অ্যাপ চালু রেখেও এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়া-আসা করার সময় কোনো হাঁসফাঁস ভাব চোখে পড়েনি।
ঢাকার কাঠফাটা গরমে বা লোডশেডিংয়ের সময় যেকোনো ফোনই অল্পতে তেতে ওঠে। আমরা যখন OnePlus 13s-এ টানা আধঘণ্টা হাই-গ্রাফিক্সে গেম খেললাম, বডি কিছুটা গরম হলেও পারফরম্যান্স একদম থমকে যায়নি। থার্মাল ম্যানেজমেন্টের দিক থেকে iQOO 13 বা এই ঘরানার অন্য ফোনের চেয়ে একে বেশ ঠান্ডা মনে হয়েছে। আপনি যদি আমাদের iQOO Z10 Turbo: iqoo দাম বাংলাদেশ ও বিস্তারিত রিভিউ পড়ে থাকেন, তবে বুঝবেন পারফরম্যান্সের মাঠে OnePlus 13s কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দী। হেভি অ্যাপ লোডিং বা ফাইল প্রসেসিংয়ের স্পিড সত্যি দেখার মতো।
কাজের চাপের কথা ভাবুন। অফিসে যাওয়ার পথে জ্যামে আটকে জুম মিটিং করা, ওদিকে ব্রাউজারে তথ্য খোঁজা আর একই সাথে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করা—এই সবই OnePlus 13s কোনো ক্লান্তি ছাড়াই সামলে নেয়। এর র্যাম অপ্টিমাইজেশন বেশ পরিপক্ক। যারা প্রতিদিনের পেশাদার কাজের জন্য একটা নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির ডিভাইস খুঁজছেন, তাদের হতাশ হতে হবে না। এই চিপসেটের কারণে আগামী ৩-৪ বছর ফোনটি খুব সহজেই টিকে যাবে বলে আশা করা যায়।
চোখ জুড়ানো ডিসপ্লে: OnePlus 13s এর মাধ্যমে শহরের আলোয় ঝলমলে অভিজ্ঞতা

কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতায় ডিসপ্লে একটা বড় ভূমিকা রাখে। OnePlus 13s-এ ব্যবহার করা অ্যামোলেড স্ক্রিনটির কালার কন্ট্রাস্ট ও ভাইব্রেন্সি বেশ চমৎকার। হাই-ডেফিনিশন ভিডিও প্লে করলে বা ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম স্ক্রোল করার সময় চোখের আরাম পাওয়া যায়। রিফ্রেশ রেট এতটাই স্মুথ যে প্রতিটা স্ক্রোল বা ট্রানজিশনে কোনো খসখসে ভাব টের পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখার সময় কালার রিপ্রোডাকশন বেশ নিখুঁত মনে হয়েছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। সত্যি বলতে, OnePlus 13s-এর ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা বা পিক ব্রাইটনেস বাজারে থাকা সেরা ফোনগুলোর মতো অতটা জোরালো নয়। দুপুরের কড়া রোদে চকবাজারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে যখন আপনি কোনো টেক্সট মেসেজ পড়তে যাবেন, স্ক্রিনটা কিছুটা মলিন লাগতে পারে। Samsung Galaxy S24-এর ডিসপ্লে যেখানে রোদের মধ্যেও কাঁচের মতো পরিষ্কার থাকে, সেখানে OnePlus 13s-এর ব্রাইটনেস স্লাইডার একদম ১০০% করে দেওয়ার পরেও কিছুটা চোখ কুঁচকে তাকাতে হয়। রোদের মধ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই একটি খামতি।
অবশ্য ঘরের ভেতরে বা সাধারণ আলোতে এই স্ক্রিন একদম নিখুঁত। ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল ভালো থাকায় যেকোনো কোণ থেকেই ডিসপ্লের কালার ঠিকঠাক দেখায়। রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস যাদের আছে, তাদের জন্য বিশেষ আই-কেয়ার মোড বেশ কাজে দেবে। বাইরের রোদের সামান্য সীমাবদ্ধতা বাদ দিলে, সাধারণ ব্যবহারের জন্য এটি বেশ তৃপ্তিদায়ক একটি প্যানেল।
স্মৃতির ফ্রেমে ঢাকার গল্প: OnePlus 13s এর ক্যামেরা কতটা পারদর্শী?

ক্যামেরার পারফরম্যান্স নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা বেশ মিশ্র। দিনের আলোতে OnePlus 13s দিয়ে চমৎকার ও ডিটেইলড ছবি তোলা যায়। ধানমন্ডি লেকের সবুজ বা লালবাগ কেল্লার লাল ইটের টেক্সচার ক্যামেরায় বেশ ফুটিয়ে তোলে ফোনটি। এর ডায়নামিক রেঞ্জ এবং কালার ব্যালেন্স আমাদের পছন্দ হয়েছে। বিশেষ করে পোর্ট্রেট মোডে ছবি তোলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্লার এবং সাবজেক্টের এজ ডিটেকশন বেশ নিখুঁত থাকে।
কিন্তু যখনই আপনি একে একদম প্রথম সারির আল্ট্রা-ফ্ল্যাগশিপ ফোনের সাথে মেলাবেন, তখনই এর সীমাবদ্ধতা ধরা পড়বে। উদাহরণ হিসেবে, Oppo Find X8 Ultra: বাংলাদেশে oppo দাম ও সম্পূর্ণ রিভিউ যারা পড়েছেন তারা জানেন আল্ট্রা-ফ্ল্যাগশিপের জুম এবং নাইট মোড কতটা শক্তিশালী হয়। সেই তুলনায় OnePlus 13s দিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছবি তুলতে গেলে হালকা নয়েজ চোখে পড়ে, ডিটেইলও কিছুটা কমে যায়। রাতের বেলা ঢাকার নিয়ন আলোয় ছবি তোলার সময় ফোকাস লক করতে মাঝে মাঝে কিছুটা সময় নেয়, যা বেশ বিরক্তিকর লাগতে পারে।
ভিডিওর ক্ষেত্রে অবশ্য ফোনটি আমাদের হতাশ করেনি। এর ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বেশ কাজের; রিকশায় বসে ঝাঁকুনির মধ্যেও ভিডিও রেকর্ড করলে আউটপুট বেশ স্থির আসে। যারা নিয়মিত ফেসবুকে রিলস দেন বা ভ্লগিং করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ফ্রন্ট ক্যামেরাটি জুতসই হবে। তবে আপনি যদি নিখুঁত ছবি তোলার জন্য পেশাদার মোবাইল ফটোগ্রাফির কথা ভাবেন, তবে হয়তো আরও ওপরের সেগমেন্টের কথা চিন্তা করা উচিত। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অবশ্য এই ক্যামেরা এক প্রকার অল-রাউন্ডার।
চার্জের চিন্তা শিকেয়: OnePlus 13s এর সারাদিনের সঙ্গী, ৮০W সুপারফাস্ট充电

সারাদিন বাইরে দৌড়ঝাঁপ করলে বা লোডশেডিংয়ের ঝামেলা থাকলে ফোনের ব্যাটারি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কমপ্যাক্ট সাইজের কারণে OnePlus 13s-এ হয়তো দানবাকৃতির কোনো ব্যাটারি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এর অক্সিজেনওএস-এর সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন বেশ কাজের। সাধারণ ব্যবহারে এটি অনায়াসে একটা দিন পার করে দেয়। ফলে কাজের ফাঁকে বারবার চার্জিং প্লাগ খুঁজতে দৌড়াতে হবে না।
সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হলো এর ৮০W ফাস্ট চার্জিং। সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ দেখলেন ফোনে চার্জ নেই, অথচ আধা ঘণ্টার মধ্যে বের হতে হবে—এমন বিপদে এই চার্জিং স্পিড লাইফ-সেভারের মতো কাজ করে। মাত্র ১৫-২০ মিনিট চার্জে দিলেই এটি সারা বেলার মতো ব্যাকআপ নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে। ঢাকার কর্মব্যস্ত জীবনে এই ফিচারটি আপনার মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে দেবে অনেকটাই।
চার্জে বসিয়ে রাখলে ফোন যাতে অতিরিক্ত গরম হয়ে না যায়, সেজন্য ভেতরে প্রয়োজনীয় কুলিং গার্ড রাখা হয়েছে। ফলে চার্জিংয়ের সময় বডি খুব একটা তেতে ওঠে না, যা ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। যারা ব্যাগে ভারী পাওয়ার ব্যাংক বয়ে বেড়াতে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এই কম্বিনেশনটা বেশ কাজের। ছোট ব্যাটারির যে আক্ষেপ ছিল, তা ৮০W চার্জারটি অনেকটাই মিটিয়ে দেয়।
অক্সিজেনওএস ১৫: OnePlus 13s এর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স কতটা মসৃণ?
সফটওয়্যার ভালো না হলে শক্তিশালী চিপসেটও কোনো কাজের থাকে না। OnePlus 13s-এ রয়েছে অক্সিজেনওএস ১৫ (OxygenOS 15)। এই ইন্টারফেসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর পরিচ্ছন্নতা। বাজারে অন্য ব্র্যান্ডের মতো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা বিরক্তি ধরানো অ্যাডস (bloatware) এখানে ঠাসা নেই। প্রতিটি অ্যানিমেশন চোখের জন্য আরামদায়ক এবং বেশ স্মুথ, যা ফোনটি ব্যবহারের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন ভালো হওয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরেও ফোন স্লো হওয়ার ভয় কম থাকে। এতে বেশ কিছু দরকারি কাস্টমাইজেশন সুবিধা আছে, যা দিয়ে আপনি নিজের মতো করে হোম স্ক্রিন সাজিয়ে নিতে পারবেন। জ্যামে বসে বা ঝুলে থাকার সময় এক হাতে কাজ করার জন্য চমৎকার কিছু জেসচার মোড দেওয়া হয়েছে। ফলে এক বুড়ো আঙুলেই নোটিফিকেশন বা অ্যাপ ড্রয়ার কন্ট্রোল করা সম্ভব। বড় কোনো বাগ বা ল্যাগের মুখোমুখি আমাদের হতে হয়নি।
সফটওয়্যার আপডেট এবং সিকিউরিটি প্যাচ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্র্যান্ডটির ভালো ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। নিয়মিত আপডেটের ফলে ফোনের সিকিউরিটি যেমন বজায় থাকে, তেমনি সিস্টেমের পারফরম্যান্সও সতেজ থাকে। যারা ঝামেলাহীন এবং গোছানো একটা ইউজার ইন্টারফেস চান, তাদের জন্য অক্সিজেনওএস ১৫ বেশ স্বস্তির একটা অভিজ্ঞতা দেবে। এটি একাধারে কাজের এবং দেখতেও দারুণ পরিপাটি।
ছোট প্যাকেজে বড় কথা: OnePlus 13s কম্প্যাক্ট ফ্ল্যাগশিপের সুবিধা ও অসুবিধা
বড় স্ক্রিনের রাজত্বে OnePlus 13s-এর এই ফিরে আসাটা বেশ সাহসী সিদ্ধান্ত। তবে সব ফোনেরই যেমন ভালো-মন্দ থাকে, এরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কমপ্যাক্ট সাইজের কারণে বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের সময় পকেটমার বা ফোন হাত থেকে হড়কে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিন্তু অনেক কম থাকে। ওদিকে আবার যারা বড় স্ক্রিনে পাবজি খেলা বা নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই ছোট স্ক্রিনটা বেশ খাটো বা অপূর্ণ মনে হতে পারে। এটি যার যার চাহিদার ওপর নির্ভর করে।
এর বাইরে বড় খামতি হলো এক্সটার্নাল এসডি কার্ড স্লট না থাকা। ৪-কে ভিডিও বা ভারী ফাইল যারা ফোনে জমিয়ে রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য স্টোরেজ শেষ হওয়াটা বড় সমস্যা হতে পারে। তাই কেনার সময়ই সঠিক ভেরিয়েন্টটি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—আমাদের দেশে অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল ফোনের দামের মধ্যে বড় একটা ফারাক থাকে। স্টারটেক বা দারাজের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ OnePlus 13s কিনলে অন্তত পরবর্তী সার্ভিসিং নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
আমাদের কাছে OnePlus 13s ডিভাইসটি বেশ ব্যালেন্সড একটা কমপ্যাক্ট ফ্ল্যাগশিপ মনে হয়েছে। যারা পকেটে ভারী বোঝা না রেখে একটি শক্তিশালী ও স্লিম ফোন ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য এটি চমৎকার হতে পারে। এই ফোনের খুঁটিনাটি স্পেসিফিকেশন বা ব্র্যান্ড ট্রেইল সম্পর্কে গভীর ধারণা নিতে চাইলে GSMArena এবং Wikipedia-এর অফিসিয়াল পেজগুলো দেখে নিতে পারেন। আর আপনি যদি বাজেটের মধ্যে বেশ টেকসই অন্য কোনো ব্র্যান্ডের বিকল্প দেখতে চান, তবে আমাদের লেখা Nokia G42 5G: nokia দাম বাংলাদেশ ও টেকসই ফোনের আসল রিভিউ পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
OnePlus 13s এর টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন
| ফিচার (Feature) | OnePlus 13s স্পেসিফিকেশন |
|---|---|
| মডেলের নাম | OnePlus 13s |
| রিলিজ স্ট্যাটাস | রিলিজড (Released) |
| প্রসেসর (Chipset) | Snapdragon 8 Elite |
| চার্জিং প্রযুক্তি | 80W সুপারফাস্ট চার্জিং (80W Superfast Charging) |
| মেমরি কার্ড স্লট (Card Slot) | নেই (No) |
| দাম (বাংলাদেশ) | অফিসিয়াল দাম নিশ্চিত হলে এই অংশ আপডেট করা হবে |
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. OnePlus 13s কি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি পাওয়া যাচ্ছে?
হ্যাঁ, OnePlus 13s বাংলাদেশে রিলিজ হয়েছে এবং এটি বিভিন্ন অনুমোদিত রিটেইলারের কাছে পাওয়া যাচ্ছে। তবে অফিসিয়াল দাম এবং ওয়ারেন্টিসহ কিনতে চাইলে অনুমোদিত শপ থেকে সংগ্রহ করাই শ্রেয়।
২. OnePlus 13s এর ব্যাটারি কি সারাদিন ব্যাকআপ দিতে পারে?
OnePlus 13s এর সাইজ কমপ্যাক্ট হলেও এর প্রসেসর এবং সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন বেশ জুতসই, যা সাধারণ ব্যবহারে সহজেই সারাদিনের ব্যাকআপ নিশ্চিত করে। তাছাড়া এর ৮০W ফাস্ট চার্জিং দ্রুত চার্জের সুবিধা দেয়।
৩. OnePlus 13s কি গেমিংয়ের জন্য ভালো হবে?
অবশ্যই। OnePlus 13s এ রয়েছে শক্তিশালী Snapdragon 8 Elite চিপসেট, যা যেকোনো হেভি গেম কোনো ল্যাগ ছাড়াই অত্যন্ত মসৃণভাবে চালাতে সক্ষম।
৪. OnePlus 13s এ কি মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যায়?
না, OnePlus 13s ফোনে কোনো ডেডিকেটেড বা হাইব্রিড মেমরি কার্ড স্লট নেই, তাই কেনার সময় আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক স্টোরেজ ভেরিয়েন্ট বেছে নেওয়া জরুরি।
৫. OnePlus 13s এর kamera পারফরম্যান্স কেমন?
OnePlus 13s এর রিয়ার ক্যামেরা দিয়ে দিনের আলোয় চমৎকার ছবি তোলা যায়, তবে আল্ট্রা-ফ্ল্যাগশিপ প্রতিযোগীদের তুলনায় এর কম আলোর পারফরম্যান্স কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
📌 সর্বশেষ কথা
বড় স্ক্রিনের ভিড়ে OnePlus 13s সত্যি বলতে এক স্বস্তির নাম। এর আরামদায়ক কমপ্যাক্ট ডিজাইন, শক্তিশালী Snapdragon 8 Elite প্রসেসর এবং ৮০W দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি একে বাজারের অন্য অনেক ফোন থেকে আলাদা করেছে। যদিও এর ক্যামেরা আল্ট্রা-ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের নয় এবং ডিসপ্লের ব্রাইটনেস কড়া রোদে কিছুটা কম মনে হতে পারে, তবুও এক হাতে সহজে ব্যবহারের জন্য এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ।
আপনার মতামত কি? আপনার কি বিশাল স্ক্রিনের ফোন পছন্দ নাকি OnePlus 13s এর মতো কমপ্যাক্ট ফ্ল্যাগশিপ আপনার মন কেড়েছে? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং এই রিভিউটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন! আরও নতুন নতুন স্মার্টফোনের তথ্য জানতে আমাদের আরও মোবাইল রিভিউ পড়ুন পেজে বুকমার্ক করে রাখুন।


