Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera

ঢাকার শাহবাগের চিরচেনা জ্যাম। চারপাশের তীব্র কোলাহল থেকে মনটা সরাতে পকেট থেকে বের করলাম স্যামসাংয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি। হাতে নিয়েই চমকে যেতে হয়, কারণ ফোনটি অনুমানের চেয়ে বেশ হালকা লেগেছে। তবে চকবাজারের কড়া রোদে দাঁড়িয়ে যখন মেসেজ পড়তে গেলাম, ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা ভালো হওয়া সত্ত্বেও চোখের ওপর কিছুটা ধকল গেল। ঢাকার গ্যাজেটপ্রেমীদের মধ্যে এখন একটা বড় কৌতূহল কাজ করছে—বিশেষ করে **স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রা দাম বাংলাদেশ** এবং এর খুঁটিনাটি স্পেসিফিকেশন নিয়ে। আমাদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera-এর ক্যামেরা ও ব্যাটারির সক্ষমতা কেমন ঠেকেছে, আজ সেই অভিজ্ঞতাই খোলামেলা শেয়ার করব। চলুন দেখা যাক, ঢাকার এই ব্যস্ত ও কোলাহলময় নাগরিক জীবনে আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে এটি কতটা নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হতে পারে।

গত মার্চ ২০২৬-এ বিশ্ববাজারে আসার পর থেকেই ফোনটি নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। বসুন্ধরা সিটি বা স্টারটেকের মতো বড় বড় গ্যাজেট শপে এখন এই ডিভাইসটি ঘিরে দারুণ আগ্রহ। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে Apple iPhone 18 Pro Max কিংবা Google Pixel 11 Pro / 11 Pro XL-এর মতো হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে এর সরাসরি প্রতিযোগিতা চলছে। অন্যান্য ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাদের সাইটে গিয়ে সব মোবাইল রিভিউ দেখুন। এবার ঢাকার বাস্তব জীবনের নিরিখে এই আলট্রা ফ্ল্যাগশিপের প্রতিটি বিষয় তলিয়ে দেখা যাক।

Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera
Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera এর চমৎকার ডিসপ্লে এবং ডিজাইন

Table of Contents

AI ক্যামেরা: আপনার হাতে ফটোগ্রাফির ভবিষ্যৎ

মোবাইল ক্যামেরার দুনিয়ায় স্যামসাং বরাবরই নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera-তে তারা ব্যবহার করেছে ২০০ মেগাপিক্সেলের কোয়াড-ক্যামেরা সেটআপ। সদরঘাটের বুড়িগঙ্গায় সূর্যাস্তের সময় জুম লেন্সটি দিয়ে ছবি তুলেছিলাম। সত্যি বলতে, দূরের নৌকার অবয়ব যেভাবে নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে, তা প্রশংসনীয়। এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শুধু কালার বুস্ট করে ক্ষান্ত থাকে না, ফ্রেমের অনাকাঙ্ক্ষিত অবজেক্টও নিমেষে মুছে দিতে পারে।

রাতের আলো-আঁধারিতে কেমন কাজ করে এই ক্যামেরা? শান্তিনগরের গলিতে লোডশেডিংয়ের সময় একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে ছবি তুলেছিলাম। নয়েজ বা দানাদার ভাব প্রায় ছিলই না। আইফোনের ছবিতে যেখানে একটা স্বাভাবিক বা ন্যাচারাল টোন থাকে, স্যামসাং সেখানে একটু বেশি প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল রঙ পছন্দ করে। এটি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার মতো। ভিডিওগ্রাফিতে আইফোন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, জুম এবং ম্যানুয়াল প্রো-মোডের দিক থেকে স্যামসাংয়ের এই সেন্সরের ধারেকাছে কেউ নেই। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে মাঠের খেলোয়াড়দের স্পষ্ট ছবি তোলার জন্য এটি চমৎকার কাজ করবে।

তবে সব কিছু নিখুঁত নয়। অতিরিক্ত এআই প্রসেসিংয়ের কারণে মানুষের ত্বকের রঙ মাঝেমধ্যে প্লাস্টিকের মতো মসৃণ দেখায়। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের কাছে এই কৃত্রিমতা বিরক্তির কারণ হতে পারে। গুগলের পিক্সেল সিরিজে যেমন স্কিন টোনের আসল রূপটা পাওয়া যায়, এখানে সেই শতভাগ সততা মেলেনি। অবশ্য যারা ছবি তোলার পর বাড়তি এডিটিংয়ের ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের জন্য এই ক্যামেরা দারুণ এক সমাধান। বিশেষ করে স্থানীয় ভ্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি বেশ কাজের সঙ্গী হবে।

ডিসপ্লেতে নতুন মাত্রা: যখন স্ক্রিন আপনার ব্যক্তিগত জগৎ

ডিসপ্লের জগতে স্যামসাংয়ের প্যানেলকে টেক্কা দেওয়া কঠিন। Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera-তে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির একটি দানবীয় Dynamic LTPO AMOLED 2X স্ক্রিন। ঢাকার মেট্রোরেলের জানালা গলে যখন কড়া রোদ এসে পড়ে, তখনও ডিসপ্লের লেখা পড়তে বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হয় না। রিফ্রেশ রেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠানামা করে, যা ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখা কিংবা হাই-গ্রাফিক্সের গেম খেলার সময় কালার টোন ও কালো রঙের গভীরতা দারুণভাবে ফুটে ওঠে।

কিন্তু এত বড় স্ক্রিনের ফোন কি এক হাতে আরামে চালানো যায়? সত্যি বলতে, জ্যামে বাসে ঝুলতে ঝুলতে এক হাতে এই স্ক্রিন সামলানো বেশ কসরতের কাজ। ওপরের কোণায় আঙুল পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। আশার কথা হলো, স্যামসাংয়ের ওয়ান ইউআই (One UI) ইন্টারফেসের বেশিরভাগ দরকারি বাটন নিচের দিকে থাকে। তাই একহাতে ব্যবহারের ধকল কিছুটা কমে। তবে চওড়া ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল হওয়ার কারণে পাশের সিটের যাত্রী আপনার স্ক্রিনে উঁকি দিলে সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাবেন, তাই ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ভালো মানের প্রটেক্টর ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এইচডিআর১০+ সাপোর্ট থাকায় অন্ধকার দৃশ্যের ডিটেইলসগুলো বেশ পরিষ্কার চোখে পড়ে। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ক্লান্তি কমাতে এর আই কমফোর্ট শিল্ড ফিচারটি কাজে দেয়। চারপাশের বেজেল এতটাই সরু যে স্ক্রিনের দিকে তাকালে মনে হয় পুরো ফ্রন্ট প্যানেলটাই যেন একটা জীবন্ত ক্যানভাস।

Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera
সৃজনশীল কাজের জন্য Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera এর নিখুঁত স্ক্রিন ও লেআউট

পারফরম্যান্সের চূড়ান্ত কথা: Snapdragon 8 Elite Gen 5-এর জাদু

পারফরম্যান্সের দিক থেকে ফোনটির মূল ভরসা Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট। ঢাকার বৈশাখী গরমে যখন ঘরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, তখনও ফোনটি অতিরিক্ত গরম না হয়ে নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পেরেছে। জেনশিন ইমপ্যাক্ট বা পাবজির মতো ভারী গেম সর্বোচ্চ গ্রাফিক্সে খেলেও ফ্রেম রেটে কোনো বড় পতন দেখিনি। মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে ডজনখানেক অ্যাপ সচল রাখলেও কোনো ল্যাগ বা রিলোড হওয়ার সমস্যা হয়নি।

কাগজে-কলমে এর প্রসেসিং পাওয়ার আইফোনের এ-সিরিজ চিপের সমকক্ষ। তবে গ্রাফিক্স রেন্ডারিংয়ের কাজগুলোতে স্ন্যাপড্রাগন এবার বেশ কিছুটা এগিয়ে গেছে। প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং বা দীর্ঘসময় গেমিংয়ের জন্য এটি ভালো ডিভাইস। তবে একটানা ভারী কাজ করলে ফোনের পেছনের অংশ কিছুটা গরম হয়, যা এই ধরনের শক্তিশালী প্রসেসরের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক।

আমাদের দেশের বিকাশ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপগুলো এই ফোনে চোখের পলকে লোড হয়। চিপসেটটির আর্কিটেকচার অন-ডিভাইস এআই প্রসেসিংয়ের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ফটো এডিটিং বা রিয়েল-টাইম অনুবাদের কাজগুলো ঝটপট শেষ করা যায়।

ব্যাটারি ও চার্জিং: সারাদিনের সঙ্গী, গতিতে কিছুটা পিছিয়ে?

ব্যাটারির সক্ষমতা নিয়ে স্যামসাং বড় কোনো এক্সপেরিমেন্ট করেনি। Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera-তে ৫,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের (5,000mAh) ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং, ইমেইল এবং টুকটাক ভিডিও দেখার পর দিনশেষেও প্রায় ৩০ শতাংশ চার্জ টিকে থাকে। ঢাকার ঘনঘন লোডশেডিংয়ের সময় এর পাওয়ার সেভিং মোডটি ব্যাকআপ বাড়াতে বেশ সাহায্য করবে।

তবে চার্জিং স্পিড নিয়ে বিরক্তি কাটেনি। চীনা প্রতিযোগী যেমন Realme GT 7 Pro: জানুন realme দাম বাংলাদেশ ও বিস্তারিত কিংবা Motorola Edge 60 Pro: জানুন motorola দাম বাংলাদেশ ও ফিচার যেখানে আধা ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফুল চার্জ করে দেয়, সেখানে স্যামসাং এখনও অনেক ধীরগতির। পুরো চার্জ হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। এই বাজেটের ফোনে এত ধীরগতির চার্জিং মেনে নেওয়া কঠিন। তার ওপর বক্সে কোনো চার্জার দেওয়া হয় না। অরিজিনাল চার্জার কিনতে পকেট থেকে বাড়তি টাকা গুনতে হবে, যা কোনোভাবেই সুখকর নয়।

নিচে এই ব্যাটারির চার্জিং চক্রের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো:

  • ০% থেকে ৫০% চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ২৫ মিনিট।
  • ১০০% সম্পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ৬৫ মিনিট।
  • সারাদিন ভারী গেম খেললে স্ক্রিন অন টাইম (SOT) পাওয়া যায় প্রায় ৬.৫ ঘণ্টা।
Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera এর শক্তিশালী ব্যাটারি লাইফ

S-Pen: সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতার সেরা অস্ত্র

স্যামসাংয়ের সিগনেচার এস-পেন (S-Pen) এই ডিভাইসটিকে বাজারে অনন্য করে তুলেছে। জ্যামে বাসে বসে হুট করে মাথায় আসা কোনো আইডিয়া বা জরুরি নোট নেওয়ার জন্য এটি দারুণ কাজের। স্ক্রিন অফ থাকা অবস্থাতেই পেনটি বের করে ঝটপট লিখে ফেলা যায়। যারা স্ক্রিনে আঁকাআঁকি করতে পছন্দ করেন, তারা এর নিখুঁত প্রেসার সেন্সিটিভিটির প্রশংসা করবেন।

তবে এটি শুধু লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ছবি তোলার সময় ফোনটিকে দূরে ট্রাইপডে রেখে এস-পেনের বাটনে ক্লিক করে শাটার রিলিজ করা যায়। এমনকি প্রেজেন্টেশনের স্লাইড পরিবর্তনের রিমোট হিসেবেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব। সত্যি বলতে, সবার এই ফিচারের প্রয়োজন পড়ে না। আপনি যদি নিয়মিত আঁকাআঁকি বা নোট না করেন, তবে কিছুদিন পর এই পেনটি ফোনের ভেতরেই পড়ে থাকবে।

পেনটি ফোনের খোড়লের ভেতর থাকাকালীন সময়েই নিজে নিজে চার্জ হয়ে যায়। তবে এর নিব বা ডগাটি ক্ষয় হয়ে গেলে তা বদলানোর জন্য বক্সে কোনো অতিরিক্ত নিব দেওয়া হয়নি। স্যামসাংয়ের মতো ব্র্যান্ডের এই কৃপণতা হতাশাজনক। অবশ্য সব মিলিয়ে কাজের গতি বাড়াতে এস-পেনের কোনো বিকল্প অন্য ব্র্যান্ডগুলোতে নেই।

ডি자인 ও স্থায়িত্ব: প্রিমিয়াম অনুভূতি, পরিচিত ঢঙে

চোখে পড়ার মতো কোনো ডিজাইন পরিবর্তন স্যামসাং এবারও করেনি। Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera-এর ফ্ল্যাট ফ্রেম এবং ম্যাট ফিনিশের ব্যাক প্যানেল হাতে বেশ প্রিমিয়াম ফিল দেয়। তবে ক্যামেরা মডিউলের পুরানো লুকটি ধরে রাখায় এটি দেখতে কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। স্যামসাং হয়তো তাদের চিরচেনা এই ডিজাইন প্যাটার্নকেই ব্র্যান্ডের পরিচয় হিসেবে ধরে রাখতে চাচ্ছে।

আইপি৬৮ রেটিং থাকায় ঢাকার বর্ষার বৃষ্টি কিংবা ধুলোবালি নিয়ে অন্তত চিন্তা করতে হবে না। স্ক্রিনের সুরক্ষায় বেশ শক্তপোক্ত গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। তবুও এত দামি একটি ফোন ব্যাক কাভার ছাড়া ব্যবহার করার ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। ব্যাক প্যানেলে আঙুলের ছাপ সহজে বসে না, যা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

ভারসাম্যপূর্ণ ওজনের কারণে দীর্ঘ সময় হাতে ধরে রাখলেও কব্জিতে ব্যথা হয় না। তবে এর চওড়া কাঠামোর কারণে জিন্সের পকেটে রাখলে কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে। যারা একটু কমপ্যাক্ট বা হালকা ফোন পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি বেশ বড় ও ভারী ঠেকবে। আপনি যদি একটু কম ওজনের শক্তিশালী ফোনের সন্ধান করে থাকেন, তবে আমাদের সাইটে গিয়ে আরও মোবাইল রিভিউ পড়ুন

Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera
Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera এর অসাধারণ ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ও মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি

Galaxy AI: শুধু ছবি নয়, জীবন সহজ করার মন্ত্র

Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera-তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘Galaxy AI’ ফিচারগুলোকে আরও ঘষামাজা করা হয়েছে। এর রিয়েল-টাইম কল ট্রান্সলেশন ফিচারের সাহায্যে বিদেশি ভাষার কল সরাসরি বাংলায় অনুবাদ করে শোনা যায়। তবে সত্যি বলতে, বাংলা অনুবাদের মান এখনও পুরোপুরি নির্ভুল নয়। সার্কেল টু সার্চ (Circle to Search) ফিচারটি আগের মতোই দারুণ কাজ করে—স্ক্রিনের যেকোনো ছবি বা লেখার ওপর গোল দাগ দিলেই গুগল তার সব তথ্য খুঁজে বের করে দেয়।

ভয়েস রেকর্ড থেকে মিটিংয়ের সারসংক্ষেপ তৈরি করা বা দীর্ঘ কোনো ওয়েবসাইটের লেখার মূল অংশ এক নজরে পড়ে নেওয়ার মতো ফিচারগুলো বেশ দরকারি। তবে বেশিরভাগ কাজের জন্যই সচল ইন্টারনেট কানেকশন প্রয়োজন হয়। গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসেসিং কেমন কাজ করে তা জানতে আমাদের Google Pixel 11: Modest Upgrade with New Tensor G6 Chip এর দাম বাংলাদেশ আর্টিকেলটি পড়ে দেখতে পারেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে স্যামসাং দাবি করেছে, ব্যবহারকারীর স্পর্শকাতর ডেটা ক্লাউডে না পাঠিয়ে ফোনের ভেতরেই প্রসেস করা হয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই অন-ডিভাইস প্রসেসিং পদ্ধতিটি কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।

বাংলাদেশী প্রেক্ষাপটে S26 Ultra: কেন কিনবেন, কার জন্য?

canবিবেচনা করলে, বাংলাদেশের বাজারে এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি কেনা একটি বড় বিনিয়োগের সমান। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্যামসাংয়ের বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্কের কারণে ক্রেতারা কিছুটা বাড়তি মানসিক শান্তি পান। তবে ধূসর বাজারের (Grey Market) আনঅফিসিয়াল ফোনের তুলনায় অফিসিয়াল সেটের দাম বেশ চড়া। আইফোনের বাইরে গিয়ে যারা অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চান, তাদের জন্য এটিই প্রধান বিকল্প।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ফোনটির বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন নিচের টেবিল থেকে:

ফিচার/স্পেসিফিকেশনবিবরণ (Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera)
রিলিজের তারিখমার্চ ২০২৬ (March 2026)
ডিসপ্লে৬.৯ ইঞ্চি (6.9-inch) Dynamic LTPO AMOLED 2X
প্রসেসরSnapdragon 8 Elite Gen 5
পেছনের ক্যামেরা২০০ মেগাপিক্সেল (200MP) কোয়াড-ক্যামেরা সিস্টেম
ব্যাটারি৫,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার (5,000mAh)
ওয়াটার রেজিস্ট্যান্সIP68 ধুলো ও পানি প্রতিরোধী
এস-পেন (S-Pen)বিল্ট-ইন সাপোর্টসহ যুক্ত আছে
অফিসিয়াল দাম বাংলাদেশঅফিসিয়াল দাম নিশ্চিত হলে এই অংশ আপডেট করা হবে

আপনি যদি ঢাকার কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন এবং প্রায়ই ইমেইল, ড্রাফটিং বা ফাইল শেয়ারিং করতে হয়, তবে এর এস-পেন ও ডেক্স (DeX) মোড আপনার ল্যাপটপের ঘাটতি অনেকাংশে মিটিয়ে দেবে। কিন্তু কেবল ফেসবুক স্ক্রোলিং বা শখের বশে দু-একটি ছবি তোলার জন্য এত বিপুল অংকের টাকা খরচ করা কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে না। আরও খুঁটিনাটি তথ্যের জন্য আন্তর্জাতিক রিভিউ পোর্টাল GSMArena অথবা স্যামসাংয়ের মূল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera কি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি পাওয়া যাচ্ছে?

হ্যাঁ, ২০২৬ সালের মার্চে বিশ্ববাজারে উন্মোচনের পর থেকে বাংলাদেশের অনুমোদিত স্যামসাং শোরুমগুলোতে এটি বিক্রি হচ্ছে। তবে শোরুম বা অফারভেদে দাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

২. এই ফোনের বক্সে কি চার্জার দেওয়া থাকে?

না, স্যামসাং পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে বক্সে কোনো চার্জার রাখেনি। একটি টাইপ-সি ক্যাবল পাওয়া যাবে, তবে ফাস্ট চার্জিং অ্যাডাপ্টারটি আলাদাভাবে কিনে নিতে হবে।

৩. ক্যামেরা দিয়ে কি চাঁদের স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব?

হ্যাঁ, এর জুম লেন্স ও উন্নত অ্যালগরিদমের সাহায্যে চাঁদের স্পষ্ট ছবি তোলা যায়। তবে মনে রাখবেন, অনেক সময় এআই কৃত্রিমভাবে চাঁদের টেক্সচার যুক্ত করে ছবিটিকে অতিরিক্ত মসৃণ করে ফেলে।

৪. গেম খেলার সময় ফোনটি কি অতিরিক্ত গরম হয়?

উন্নত কুলিং চেম্বার এবং স্ন্যাপড্রাগনের নতুন চিপসেটের কারণে সাধারণ ব্যবহারে ফোনটি ঠান্ডাই থাকে। তবে এ দেশের গ্রীষ্মের গরমে একটানা ভারী গেম খেললে পেছনের অংশ কিছুটা গরম হতে পারে।

৫. আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের চেয়ে এই ফোনটি কেন ভালো?

আপনি যদি আইওএস-এর সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে অ্যান্ড্রয়েডের কাস্টমাইজেশন সুবিধা চান, কিংবা এস-পেন ব্যবহার করে কাজ করতে পছন্দ করেন, তবে আইফোনের চেয়ে এটি আপনার জন্য বেশি কাজের হবে।

📌 সর্বশেষ কথা

Samsung Galaxy S26 Ultra: Flagship Powerhouse with Advanced AI Camera ২০২৬ সালের প্রিমিয়াম ডিভাইসের কাতারে ওপরের দিকেই থাকবে। এর ২০০ মেগাপিক্সেল লেন্সের ক্যামেরা এবং ঝকঝকে ডিসপ্লে আপনাকে সন্তুষ্ট করবে। তবে স্যামসাংয়ের ধীরগতির চার্জিং এবং দেশের বাজারে এর চড়া মূল্য সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা দ্বিমত তৈরি করতে পারে। বাজেট কোনো বড় সমস্যা না হলে এবং অ্যান্ড্রয়েডের সেরা অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে এই ফ্ল্যাগশিপটি বেছে নিতে পারেন।

আপনার মতামত কী? আইফোনের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে আপনি কি স্যামসাংয়ের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপে ঝুঁকবেন? নিচে কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান। পরবর্তী রিভিউর আপডেট পেতে আমাদের পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন!

ট্যাগ: #Samsung#Samsung Galaxy S26 Ultra#Samsung S26 Ultra রিভিউ#Samsung বাংলাদেশ#এস২৬ আলট্রা বাংলাদেশ প্রাইস#মোবাইল রিভিউ#মোবাইলের দাম বাংলাদেশ 2026#স্মার্টফোন#স্যামসাং এস২৬ আলট্রা#স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রা রিভিউ#স্যামসাং মোবাইল ২০২৬
শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp