
তারিখটা ৬ জুলাই ২০২৬। ঢাকার জ্যামে আটকে থাকা বাসের উইন্ডো সিটে কিংবা গুলশানের কোনো হাই-প্রোফাইল মিটিংয়ে—হুট করে পকেট থেকে বের করা ফোনটা যখন খুলে একটা আস্ত ট্যাবলেটে রূপ নেয়, চারপাশের মানুষের নজর কাড়বেই। কিন্তু কেবলই কি দেখনদারি, নাকি Samsung Galaxy Z Fold 7 সত্যি কাজের কিছু করে দেখাতে পারল? ফোল্ডেবল স্ক্রিনের বাজারে স্যামসাং বেশ কিছুদিন ধরেই ছড়ি ঘোরাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আটপৌরে জীবনে এই লাখ টাকার প্রযুক্তি ঠিক কতটা খাপ খায়, সেই তর্কটা পুরনো। বিশেষ করে আমাদের দেশের বাজারে, যেখানে samsung দাম বাংলাদেশ-এর অংকটা ক্রেতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে বড় নিয়ামক। ডিভাইসটির ভালো-মন্দ সব দিক নিয়ে আমাদের এই নির্মোহ বিশ্লেষণ।
নতুন বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের মোবাইল রিভিউগুলোর দিকে তাকালে এই ফোনটিকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। ফোল্ডেবল টেকনোলজিতে স্যামসাংয়ের একচেটিয়া আধিপত্যকে এই নতুন সংস্করণ কতটা পোক্ত করল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। একই সাথে স্মার্টফোন দাম 2026-এর বাজারে এত বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে এই প্রিমিয়াম ডিভাইস কেনা আসলেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে কি না, তা-ও তলিয়ে দেখব আমরা।
লুক ও বিল্ড কোয়ালিটি: সত্যিই কি খাপ খায় আমাদের হাতে? Samsung Galaxy Z Fold 7
ডিভাইসটি হাতে নিলে প্রথমেই যে অনুভূতিটা হয় তা হলো, এটি আগের চেয়ে বেশ হালকা। এর পাতলা গড়ন আর স্ক্রিনের নতুন অনুপাত দেখে সত্যি বলতে আমরা একটু অবাকই হয়েছি। আগের মডেলগুলোর মতো এটিকে আর কোনো ভারী ইটের টুকরো মনে হয় না। ঢাকার ভিড়ে বা বাসে দাঁড়িয়ে এক হাতে অনায়াসে এটি ব্যবহার করা যায়। আমাদের দেশের মানুষের জন্য এই ছোট বদলটুকু বেশ বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে, কারণ আমরা অনেকেই এক হাতে ফোন চালাতে বেশি স্বচ্ছন্দ্য।

তৈরির দিক থেকে ফোনটি চমৎকার মজবুত। এর মেটাল ফ্রেম আর হিঞ্জ বা ভাঁজ করার জোড়াটি বেশ শক্তপোক্ত মনে হয়েছে। স্ক্রিনটি খোলা বা বন্ধ করার সময় কোনো ক্যাঁচক্যাচ শব্দ নেই, পুরো বিষয়টাই মসৃণ। তবে একটা বড় খটকা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। Samsung Galaxy Z Fold 7-এ দেওয়া হয়েছে IP48 রেটিং, যার মানে ধুলোবালির হাত থেকে সুরক্ষার ব্যাপারে এটি বেশ দুর্বল। বৃষ্টির ছাঁট বা পানির ফোঁটা হয়তো সামলে নেবে, কিন্তু চকবাজার বা মতিঝিলের ধুলো ওড়ানো রাস্তায় এই ফোন কতদিন টিকবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এত চড়া দামের একটা ফোনে ধুলো প্রতিরোধের ভালো ব্যবস্থা না থাকাটা আমাদের হতাশ করেছে।
ফোনের বাইরের বা কভার স্ক্রিনের অনুপাত বদলে যাওয়ায় এটি ব্যবহারে এখন আর টিভি রিমোটের মতো অদ্ভুত লাগে না। সাধারণ একটা ফ্ল্যাট ফোনের মতোই এটিতে টাইপ করা যায়। আমাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, জ্যামে বসে বা রিকশায় চলতে চলতে দ্রুত কোনো মেইল বা মেসেজের উত্তর দেওয়ার জন্য ভেতরের বড় স্ক্রিন খোলার দরকারই পড়ে না। তবে হ্যাঁ, ফোল্ডেবল ফোন যেহেতু, পকেটে এর একটু বাড়তি ওজন তো আপনাকে সহ্য করতেই হবে।
ভেতরের আর বাইরের স্ক্রিন: বড় পর্দার আসল আনন্দ Samsung Galaxy Z Fold 7
স্ক্রিনের মান নিয়ে স্যামসাংকে সবসময়ই ফুল মার্কস দেওয়া যায়। রোদের মধ্যে বাইরে দাঁড়িয়ে স্ক্রিন দেখতে কোনো বেগ পেতে হয় না, রঙের দেখনদারিও বেশ চমৎকার। তবে কড়া দুপুরে চকবাজারের মতো ঘিঞ্জি রোডে কিছু পড়ার সময় সামান্য প্রতিফলনের সমস্যা পোহাতে হতে পারে। যখনই আপনি মূল ডিসপ্লেটি মেলবেন, এটি আস্ত একটা ট্যাবলেটে পরিণত হয়। আমাদের ব্যবহারে আমরা একই সাথে দারাজে পছন্দের জিনিস খুঁজছিলাম, প্রথম আলোর খবর পড়ছিলাম এবং অন্য কোণায় হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করছিলাম—সব কাজই চলেছে পানিভাতের মতো সহজ উপায়ে।

সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, ভেতরের পর্দার মাঝখানের ভাঁজ বা ‘ক্রিস’ আগের চেয়ে অনেকখানি হালকা করা হয়েছে। সোজা তাকিয়ে ভিডিও দেখার সময় বা বই পড়ার সময় এই ভাঁজটি এখন আর চোখকে বিরক্ত করে না। রিফ্রেশ রেট আর স্ক্রিনের ব্রাইটনেস নিয়েও কোনো অভিযোগ করার জায়গা নেই। বাজারে থাকা Oppo Find N6, Honor Magic V6 কিংবা Google Pixel 10 Pro Fold-এর স্ক্রিনের তুলনায় Samsung Galaxy Z Fold 7-এর ডিসপ্লে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই, বরং রঙের গভীরতায় এটি অনেক ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার: স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট আর অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর জোর Samsung Galaxy Z Fold 7
ভেতরের শক্তির দিক থেকে এই ডিভাইসে কোনো আপস করা হয়নি। স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপ আর অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর মেলবন্ধন ফোনটিকে দিয়েছে দারুণ গতি। গ্রাফিক্সের ভারী কাজ হোক বা গেম—সবকিছুই চোখের পলকে লোড হয়। পাবজি বা কল অফ ডিউটির মতো ভারী গেমগুলো সর্বোচ্চ গ্রাফিক্সে চালালেও ফ্রেম ড্রপ বা ল্যাগের কোনো বালাই মেলেনি।
আমাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাকগ্রাউন্ডে এক ডজন অ্যাপ ফেলে রাখলেও ফোনের গতি কমে না। ভিডিও এডিটিংয়ের মতো ভারী প্রোডাক্টিভিটির কাজ কিংবা বড় ফাইল আদান-প্রদান—Samsung Galaxy Z Fold 7 সামলে নেয় চোখের পলকে। অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর সাথে স্যামসাংয়ের নিজস্ব One UI ইন্টারফেসের সমন্বয় বেশ চমৎকার ও ছিমছাম লেগেছে। যারা ফোনকে একটু বেশি খাটিয়ে নিতে ভালোবাসেন, তারা এই ডিভাইসে কোনো রকম খামতি পাবেন না।
প্রতিদ্বন্দ্বী Oppo Find N6 কিংবা Honor Magic V6 গতির লড়াইয়ে কাছাকাছি থাকলেও স্যামসাং এগিয়ে থাকবে তাদের পরিপক্ক সফটওয়্যার ও দীর্ঘদিনের আপডেটের প্রতিশ্রুতির কারণে। স্যামসাংয়ের নিজস্ব ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন ছোটখাটো ফিচার একে অন্যদের চেয়ে বেশি কাজের করে তুলেছে।
ক্যামেরা পরীক্ষা: দামের তুলনায় কি সেরা ছবি দেয়? Samsung Galaxy Z Fold 7
ক্যামেরার পারফরম্যান্স আমাদের মনে একটু মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এর মূল সেন্সরটি খুবই জবরদস্ত, দিনের আলোয় তোলা ছবিতে চমৎকার ডিটেইল ও বাস্তবসম্মত রঙ পাওয়া যায়। লালবাগের কেল্লা বা পুরোনো ঢাকার গলির ছবি তুলতে গিয়ে ইটের খাঁজগুলোও পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। তবে হতাশার জায়গা হলো এর আল্ট্রাওয়াইড আর টেলিফটো লেন্স। এত চড়া দামের ফোনে এই দুটি লেন্সে কোনো বড় ধরনের আপগ্রেড না দেওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন। এই বাজেটে ক্রেতারা আরও আধুনিক কিছু দাবি করতেই পারেন।

রাতে বা কম আলোতে মূল ক্যামেরাটি চলনসই ছবি তুললেও একেবারে নিখুঁত ডিটেইল দেয় না। এই জায়গায় Google Pixel 10 Pro Fold কম আলোতেও অনেক বেশি পরিষ্কার ছবি তুলে বাজিমাত করে। সেলফি ক্যামেরা দুটির কাজ অবশ্য বেশ ভালোভাবেই চলে যায়। ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও স্থায়িত্ব ও শব্দ বেশ পরিষ্কার, তবে যারা খাঁটি পেশাদার মানের ভিডিও চান, তাদের হয়তো অন্য কোনো ফ্ল্যাগশিপের কথা ভাবতে হবে। এ বিষয়ে আরও কারিগরি খুঁটিনাটি জানতে চাইলে GSMArena-এর মতো সাইটগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।
অবশ্য ফোল্ডেবল আকৃতির কারণে একটা বাড়তি সুবিধা আছে। ফোনটিকে অর্ধেক ভাঁজ করে টেবিল বা সমতল জায়গায় বসিয়ে অর্থাৎ ‘ফ্লেক্স মোড’ ব্যবহার করে ট্রাইপড ছাড়াই দারুণ সব গ্রুপ ছবি বা লং-এক্সপোজার শট নেওয়া যায়। সাধারণ ফোন হিসেবে বিবেচনা করলে এর ক্যামেরা হয়তো আপনাকে হতাশ করবে না, কিন্তু বাজারের সেরা ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফোনের সাথে তুলনা করতে গেলে কিছু খামতি চোখে পড়বেই।
ব্যাটারি ব্যাকআপ ও চার্জিং স্পিড: সারাদিন কি চলবে? Samsung Galaxy Z Fold 7
ব্যাটারির স্থায়িত্ব এই ফোনের আরেকটি দুর্বল জায়গা। আপনি যদি জিপিএস ম্যাপ অন করে ঢাকার রাস্তায় ঘোরেন, অনবরত সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করেন আর সাথে ভিডিও দেখেন—তাহলে সন্ধ্যা নামার আগেই চার্জার খুঁজতে হবে। আমাদের দেশের তীব্র গরমে এবং লোডশেডিংয়ের দিনগুলোতে এই ফোন সাথে নিয়ে বের হলে পকেটে একটি পাওয়ার ব্যাংক রাখা বেশ জরুরি মনে হতে পারে।
এর চেয়েও বড় বিরক্তির জায়গা হলো চার্জিং স্পিড। Oppo Find N6 কিংবা Honor Magic V6 যেখানে চোখের পলকে ফোন ফুল চার্জ করে দিচ্ছে, সেখানে স্যামসাং এখনো পুরোনো ধীরগতির প্রযুক্তিতেই আটকে আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে বেরোনোর আগে ১৫-২০ মিনিট চার্জে বসিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। এত চড়া দাম দিয়ে যারা ফোন কিনবেন, তারা নিশ্চয়ই চার্জিংয়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে চাইবেন না।
তবে সাধারণ ব্যবহারে, অর্থাৎ কেবল টুকটাক কল করা আর মেসেজ আদান-প্রদান করলে পুরো দিন পার করে দেওয়া অসম্ভব নয়। দুটি বড় স্ক্রিন আর শক্তিশালী প্রসেসর যেহেতু অনেক বেশি চার্জ টানে, স্যামসাং সফটওয়্যার দিয়ে সেই খরচটা সামলানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সেই সাথে ওয়্যারলেস আর রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের মতো সুবিধাগুলো বিপদের সময়ে বেশ কাজে দেয়।
এআই (AI) ফিচার: দৈনন্দিন কাজে সত্যিই কি সাহায্য করে? Samsung Galaxy Z Fold 7
ফোনে যুক্ত হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ফিচারগুলো নিয়ে একটু কথা বলা যাক। এর মধ্যে ‘সার্কেল টু সার্চ’ ফিচারটি আমাদের কাছে সবচেয়ে কাজের মনে হয়েছে। ধরুন, ধানমন্ডির কোনো ক্যাফের নতুন কোনো খাবারের ছবি বা নাম স্ক্রিনে দেখলেন; শুধু সেটির ওপর একটা গোল দাগ দিলেই গুগল তার খুঁটিনাটি আপনার সামনে হাজির করবে। দেশীয় বিভিন্ন পণ্য বা রেস্তোরাঁ চটজলদি খুঁজে পেতে এটি দারুণ ওস্তাদ। বিভিন্ন অ্যাপ রিভিউ পড়ার সময়েও এই এআই প্রযুক্তি দারুণ সাহায্য করে।

এর বাইরে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো মানুষ বা জিনিস এক ট্যাপে মুছে ফেলার ফিচারটিও বেশ নিখুঁতভাবে কাজ করে। Samsung Galaxy Z Fold 7-এর এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফিচারগুলো স্রেফ লোকদেখানো নয়, এগুলো আসলেই প্রয়োজনের সময়ে কাজে আসে। ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের সাবলীল কথা বলা এবং তাৎক্ষণিক অনুবাদের সুবিধাগুলো ভিনদেশী যোগাযোগের জড়তা দূর করতে সাহায্য করবে। ২০২৬ সালের প্রিমিয়াম রেঞ্জের বাজারে এই এআই ফিচারগুলো ফোনটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক।
আমাদের দেশের বাজারে: কার কেনা উচিত এই ফোন? Samsung Galaxy Z Fold 7
এবার আসা যাক আসল কথায়—আমাদের বাজারে এই অতি-প্রিমিয়াম ডিভাইসের উপযোগিতা কতটুকু? দেশের বাজারে এর অফিশিয়াল দাম বা পর্যাপ্ত ওয়ারেন্টি ও সহজলভ্যতার বিষয়টি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটু গোলমেলে হতে পারে। স্টারটেক বা দারাজের মতো প্ল্যাটফর্মে আনঅফিসিয়াল কেনাবেচায় দামের ব্যাপক হেরফের দেখা যায়। তবে, কম বাজেটের Tecno Phantom V Fold 2: tecno দাম বাংলাদেশ কিংবা গেমিংয়ের জন্য পরিচিত Poco F7 Pro রিভিউ: গেমিং কিং ও poco দাম বাংলাদেশ-এর সাথে এর তুলনা চলে না। এটি সম্পূর্ণ আলাদা স্তরের গ্রাহকদের জন্য তৈরি।
বাইরের স্ক্রিনটি চওড়া হওয়ায় জ্যামে আটকে থাকার সময়ে কিংবা বাসে ঝুলতে ঝুলতেও এক হাতে এই ফোন চালানো যায়। আবার কোনো দোকানে গিয়ে কোনো অচেনা পণ্যের ছবি দেখে ‘সার্কেল টু সার্চ’ দিয়ে সাথে সাথেই সেটির বাংলা দাম বা রিভিউ জেনে নেওয়ার সুবিধাটি দারুণ কার্যকর।
ডিভাইসটি একাধারে আভিজাত্য এবং নতুন প্রযুক্তির চমৎকার মিশেল। করপোরেট পেশাদার বা যারা সবসময় প্রযুক্তির প্রথম সারিতে থাকতে পছন্দ করেন, তাদের পকেটে এটি দারুণ মানাবে। তবে বারবার লোডশেডিংয়ের ঝামেলা পোহানো মফস্বলের কোনো গ্রাহকের জন্য এর দুর্বল ব্যাটারি আর ধীরগতির চার্জিং বড় মাথাবহ্যার কারণ হতে পারে।
বাজারের তীব্র লড়াই: প্রতিদ্বন্দীদের চেয়ে কতটা এগিয়ে? Samsung Galaxy Z Fold 7
স্যামসাং ফোল্ডেবল সেগমেন্টের পথপ্রদর্শক হলেও বাজার এখন আর ফাঁকা নেই। Oppo Find N6, Honor Magic V6 আর Google Pixel 10 Pro Fold-এর মতো বাঘা বাঘা প্রতিদ্বন্দীরা এখন ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। তবে Samsung Galaxy Z Fold 7 নিজের ঝরঝরে ডিজাইন, দারুণ ডিসপ্লে আর অপ্রতিদ্বন্দ্বী গতির জোরে লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর সাথে One UI-এর অনবদ্য বোঝাপড়া একে ব্যবহারে অনন্য স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।
তবুও খামতিগুলো এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কম আলোর ক্যামেরার কারিশমায় গুগল পিক্সেল ফোল্ড একে পেছনে ফেলে দেয়। আবার চার্জিংয়ের গতি কিংবা ব্যাটারি ব্যাকআপের বেলায় অপো এবং অনর স্যামসাংয়ের চেয়ে ঢের এগিয়ে। স্যামসাং যেখানে সামান্য ধুলোবালি প্রতিরোধে ভয় পায়, সেখানে অন্য কিছু ব্র্যান্ড আরও জোরালো সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
দিনশেষে, এটি এমন একটি ডিভাইস যা কেবল কাজের ফোন নয়, বরং আপনার আধুনিক রুচির এক অনন্য বিজ্ঞাপন। সাধারণ প্রিমিয়াম ফোন যেমন OnePlus 13s রিভিউ: এক নজরে জানুন oneplus দাম বাংলাদেশ-এর চেয়ে এই ফোনের কাজের পরিধি ও আবেদন সম্পূর্ণ আলাদা।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
Samsung Galaxy Z Fold 7 কি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি পাওয়া যাচ্ছে?
বিশ্ববাজারে ফোনটি চলে এসেছে। তবে বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের অফিশিয়াল শোরুমগুলোতে এটি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে বা এর সুনির্দিষ্ট দাম কত হবে, তা জানতে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের দিকে চোখ রাখতে হবে। তবে দেশের কিছু বড় রিটেইল শপে অনানুষ্ঠানিক বা ইমপোর্টেড ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে।
Samsung Galaxy Z Fold 7 এর ব্যাটারি লাইফ কেমন?
এর ব্যাটারি ব্যাকআপ চলনসই, তবে আহামরি কিছু নয়। সাধারণ ব্যবহারে কোনোমতে দিন পার করা গেলেও গেমার বা যারা সারাক্ষণ বড় স্ক্রিনে কাজ করেন, তাদের দিনে অন্তত দুবার চার্জে বসাতে হতে পারে। এর ওপর ধীরগতির চার্জিং প্রযুক্তি বিরক্তির কারণ হতে পারে。
এই ফোনটির ক্যামেরা পারফরম্যান্স কেমন?
প্রধান ক্যামেরাটি দিয়ে দারুণ সব ল্যান্ডস্কেপ বা পোর্ট্রেট ছবি তোলা যায়। তবে এর আল্ট্রাওয়াইড ও জুম লেন্সগুলোতে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। রাতের বেলার ছবিও ঠিকঠাক আসে, কিন্তু বাজারের সেরা ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফোনগুলোর মতো ডিটেইল এতে মিলবে না।
Samsung Galaxy Z Fold 7 কি ওয়াটারপ্রুফ?
ফোনটিতে IP48 রেটিং দেওয়া হয়েছে। এর মানে হলো এটি সীমিত আকারে পানি ও ধুলোবালি প্রতিরোধ করতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি ওয়াটারপ্রুফ কিংবা ডাস্টপ্রুফ নয়, তাই অতিরিক্ত ধুলোবালি বা পানির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Samsung Galaxy Z Fold 7 এর AI ফিচারগুলো কি বাংলাদেশে কার্যকর?
অবশ্যই। ‘সার্কেল টু সার্চ’ থেকে শুরু করে রিয়েল-টাইম অনুবাদ বা ছবি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস মুছে ফেলার এআই টুলগুলো আমাদের দেশেও চমৎকারভাবে কাজ করে। বাংলা ভাষা বা দেশীয় পণ্যের তথ্য অনুসন্ধানে এগুলো বেশ ভালো সাহায্য করে।
📌 সর্বশেষ কথা
স্যামসাংয়ের তৈরি এই ডিভাইসটি আধুনিক প্রযুক্তির চমৎকার এক নিদর্শন। চমৎকার পাতলা গড়ন, উন্নত ডিসপ্লে আর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে এটি নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। আমাদের দেশের বাস্তবতায় এর কভার স্ক্রিনের ডিজাইন আর এআই ফিচারগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তবে ব্যাটারির আয়ু, মন্থর চার্জিং গতি এবং ক্যামেরার কিছু ক্ষেত্রে স্থবিরতা স্যামসাংয়ের মতো বড় ব্র্যান্ডের কাছ থেকে আশা করা যায় না। এটি আপনার পকেটে জায়গা পাবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আপনার বাজেট এবং ব্যবহারের চাহিদার ওপর। যদি ভাঁজ করা স্ক্রিনের অভিনবত্ব আর দুর্দান্ত গতির জন্য বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে আপনার আপত্তি না থাকে, তবে ডিভাইসটি আপনাকে হতাশ করবে না।
নতুন এই মডেলটি নিয়ে আপনার ভাবনা কী? অন্য কোনো ফোল্ডেবল ব্র্যান্ড কি আপনার মনে ধরেছে? নিচে কমেন্ট করে আমাদের সাথে আপনার মতামত শেয়ার করুন!
নতুন সব ফোনের সৎ বিশ্লেষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন কিংবা সরাসরি আমাদের সব মোবাইল রিভিউ দেখুন। এছাড়া আমাদের চাকরির সার্কুলার পাতা থেকে প্রতিদিনের কাজের খবরও জেনে নিতে পারেন।


