পুলিশ সিআইডি নিয়োগ ২০২৬ ফিচার্ড গ্রাফিক — পুলিশ ব্যাজ ও আবেদনের নথিপত্র

পুলিশের চাকরির স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু শারীরিক ফিটনেস টেস্টের ভয়ে কনস্টেবলের আবেদন থেকে পিছিয়ে আছেন? তাহলে এই খবরটা আপনার জন্য। বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তদন্ত সংস্থা — ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) — ৩টি ভিন্ন পদে মোট ১৮ জনকে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এখানে কোনো দৌড়-ঝাঁপের শারীরিক পরীক্ষা নেই; লিখিত পরীক্ষা, প্র্যাকটিক্যাল ও ভাইভাতেই নির্বাচন হবে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: পুলিশ সিআইডি নিয়োগ ২০২৬ (CID job circular 2026)-এ অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (৮), গবেষণা সহকারী (১) ও অফিস সহায়ক (৯) — এই ৩টি পদে ১৮ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসএসসি পাসেই অফিস সহায়ক পদে আবেদন করা যায়; বয়সসীমা ১৮–৩২ বছর। অনলাইন আবেদন চলছে ১১ অক্টোবর থেকে, শেষ তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৬ বিকাল ৪টা। আবেদন ফি ৫৬–১১২ টাকা, ফি জমা দিতে হবে টেলিটক প্রিপেইড সিমে এসএমএসের মাধ্যমে।

আমার অভিজ্ঞতায়, সিআইডির এই ধরনের সাপোর্ট-স্টাফ নিয়োগে প্রতিযোগিতা কনস্টেবল নিয়োগের চেয়ে তুলনামূলক কম হয়, অথচ বেতন-ভাতা পুরোপুরি সরকারি গ্রেড অনুযায়ী। এই পোস্টে আমি বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত ভেঙে ভেঙে বুঝিয়ে দিয়েছি — কোন পদে আপনার যোগ্যতা মিলবে, আবেদনের প্রতিটি ধাপ, ফি জমার এসএমএস ফরম্যাট, ভাইভার কাগজপত্রের চেকলিস্ট, আর আবেদনকারীরা যে ভুলগুলো বারবার করে বসেন।

Table of Contents

এক নজরে সিআইডি নিয়োগ ২০২৬

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠানবাংলাদেশ পুলিশ, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)
মন্ত্রণালয়স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
স্মারক নম্বরপ্রশাসন/জিএ/১১১-২০২৬/৮৪০৪
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ০৭ অক্টোবর ২০২৬
পদের ক্যাটাগরি৩টি
মোট শূন্যপদ১৮ জন
চাকরির ধরনসরকারি, সরাসরি নিয়োগ (স্থায়ী)
আবেদনযোগ্য জেলাসকল জেলা
প্রার্থীর লিঙ্গনারী ও পুরুষ
বয়সসীমা১৮–৩২ বছর (০১/১০/২০২৬ অনুযায়ী)
আবেদন পদ্ধতিঅনলাইন (cid.teletalk.com.bd)
আবেদন শুরু১১ অক্টোবর ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ০৮ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪টা

সিআইডি নিয়োগ ২০২৬-এ কোন কোন পদে আবেদন করা যাবে?

তিনটি পদের মধ্যে দুটি গ্রেড-১৬-এর আর একটি গ্রেড-২০-এর। নিচের টেবিলে এক নজরে দেখে নিন, তারপর প্রতিটি পদের বিস্তারিত শর্ত পড়ুন।

ক্রমপদের নামপদসংখ্যাবেতন স্কেল (গ্রেড)ন্যূনতম যোগ্যতা
১অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক৮২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা (গ্রেড-১৬)এইচএসসি + টাইপিং দক্ষতা
২গবেষণা সহকারী১২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা (গ্রেড-১৬)এইচএসসি (বিজ্ঞান)
৩অফিস সহায়ক৯২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা (গ্রেড-২০)এসএসসি

কোন পদে আপনার সার্টিফিকেট মিলবে — এই সিদ্ধান্তটা এখানেই নিয়ে ফেলুন। ভুল পদে আবেদন করে ফি নষ্ট করার চেয়ে একবার ভালো করে মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বেতন কত?

১. অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (৮ জন)

বেতন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী গ্রেড-১৬: মূল বেতন ২১,৯০০ থেকে ৫২,৯০০ টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা যোগ হয়ে হাতে পাওয়া বেতন আরও কিছুটা বাড়বে।

যোগ্যতার শর্ত তিনটি, আর তিনটিই পূরণ করতে হবে:

  • কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএতে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ;
  • কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা থাকতে হবে;
  • কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে সর্বনিম্ন গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে ২০ শব্দ।

আমার পরামর্শ: এইচএসসি পাস অনেকেরই আছে, কিন্তু টাইপিং স্পিডের শর্তটাই আসলে ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। বাংলা টাইপিংয়ে মিনিটে ২০ শব্দ শুনতে সহজ মনে হলেও বিজয় বা অভ্রতে অভ্যস্ত না থাকলে পরীক্ষার হলে গতি ধরে রাখা কঠিন। হাতে এখনো দুই সপ্তাহের বেশি সময় আছে — প্রতিদিন ৩০ মিনিট টাইপিং প্র্যাকটিস করলেই এই বাধা পার হওয়া সম্ভব।

২. গবেষণা সহকারী (১ জন)

বেতন একই — গ্রেড-১৬, মূল বেতন ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা। শর্ত: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে অন্যূন দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএতে উত্তীর্ণ হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

পদ মাত্র একটি, তাই প্রতিযোগিতা এখানে সবচেয়ে তীব্র হবে — এটা মাথায় রেখেই আবেদন করুন। তবে বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য এটাই একমাত্র গ্রেড-১৬-এর বিকল্প যেখানে টাইপিং স্পিডের শর্ত নেই।

৩. অফিস সহায়ক (৯ জন)

সবচেয়ে বেশি পদ (৯টি) এই ক্যাটাগরিতে। বেতন গ্রেড-২০: মূল বেতন ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা। যোগ্যতা সবচেয়ে সহজ — কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই চলবে।

শুধু এসএসসি পাস করে যারা সরকারি চাকরির অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য এটাই এই বিজ্ঞপ্তির সেরা সুযোগ। পদসংখ্যাও বেশি, যোগ্যতার বাধাও কম। তবে মনে রাখবেন — সহজ যোগ্যতা মানেই আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হবে, তাই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্ত কী কী?

সব পদের জন্য বয়সসীমা একই: ০১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না — অর্থাৎ জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তারিখই চূড়ান্ত।

বাকি শর্তগুলো সংক্ষেপে:

  • প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে আবেদন করতে হবে; অনলাইন ফরমে “বিভাগীয় প্রার্থী” অপশন নির্বাচন করতে হবে।
  • কর্মরত প্রার্থীদের নিয়োগের নির্ধারিত পর্যায়ে মূল অনাপত্তি সনদ (এনওসি) জমা দিতে হবে।
  • নির্বাচিত প্রার্থীকে সিআইডি সদর দপ্তর অথবা বাংলাদেশের যেকোনো জেলায় পদায়ন করা হতে পারে।
  • লিখিত, ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিএ/ডিএ দেওয়া হবে না।
  • নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ পদের সংখ্যা বাড়ানো-কমানো বা বিজ্ঞপ্তি বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করে।

একটা বিষয় খেয়াল করুন — আবেদনপত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল বা গোপন তথ্য দিলে পরে পদোন্নতিসহ চাকরিগত সুবিধা দাবির অধিকারও হারাতে পারেন। তাই ফরমে যা লিখবেন, সার্টিফিকেটের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখুন।

আবেদন কবে থেকে কবে পর্যন্ত?

গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো এক জায়গায়:

ঘটনাতারিখ ও সময়
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ০৭ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন আবেদন শুরু১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯টা
আবেদনের শেষ তারিখ০৮ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪টা
ফি জমার শেষ সময়আবেদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (টেলিটক এসএমএসে)

আবেদনকারীদের জন্য আমার পরামর্শ: শেষ তারিখের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। টেলিটকের সার্ভারে শেষ দিনগুলোতে চাপ বাড়ে, আর ফি জমা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার জানালাটা মনে রাখতে হবে — ৮ নভেম্বর বিকালে ফরম জমা দিয়ে ফি পাঠানোর সময় পাবেন না ভেবে আগেই আবেদন সেরে ফেলুন।

অনলাইনে আবেদন করার ধাপগুলো কী কী?

আবেদন করতে হবে শুধুমাত্র সিআইডির টেলিটক পোর্টাল থেকে — ঠিকানা cid.teletalk.com.bd। অন্য কোনো মাধ্যমে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ধাপগুলো:

  1. cid.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে যান।
  2. পছন্দের পদ নির্বাচন করে অনলাইন আবেদন ফরম খুলুন।
  3. ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও যোগাযোগের সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  4. সদ্য তোলা রঙিন ছবি (৩০০×৩০০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) আপলোড করুন।
  5. স্বাক্ষর স্ক্যান করে আপলোড করুন (৩০০×৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কেবি)।
  6. প্রিভিউ ভালো করে দেখে নিয়ে ফরম সাবমিট করুন।
  7. সফলভাবে জমা হলে Applicant’s Copy ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন — এতে আপনার User ID থাকবে।
  8. ফরম জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল থেকে এসএমএসে ফি পরিশোধ করুন।

মনে রাখবেন — শুধু অনলাইন ফরম জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয় না। ফি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গৃহীত হবে না। User ID আর পাসওয়ার্ড পরে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডে লাগবে, তাই কনফার্মেশন এসএমএসটি যত্নে সংরক্ষণ করুন।

আবেদন ফি কত ও কীভাবে জমা দেবেন?

পদ/প্রার্থীর ধরনফি
ক্রমিক ১ ও ২ (অফিস সহকারী, গবেষণা সহকারী)১০০ টাকা পরীক্ষা ফি + ১২ টাকা সার্ভিস চার্জ = ১১২ টাকা
ক্রমিক ৩ (অফিস সহায়ক)৫০ টাকা পরীক্ষা ফি + ৬ টাকা সার্ভিস চার্জ = ৫৬ টাকা
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী৫০ টাকা + ৬ টাকা সার্ভিস চার্জ = ৫৬ টাকা

ফি জমা দিতে হবে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে দুটি এসএমএসে, ১৬২২২ নম্বরে:

প্রথম এসএমএস: CID লিখে পাঠান 16222 নম্বরে

উদাহরণ: CID ABCDEF

ফিরতি এসএমএসে আপনার নাম, ফির পরিমাণ ও একটি PIN নম্বর পাবেন।

দ্বিতীয় এসএমএস: CID YES লিখে পাঠান 16222 নম্বরে

উদাহরণ: CID YES 12345678

সফল পেমেন্টের কনফার্মেশন এসএমএসে User ID ও পাসওয়ার্ড পাবেন। User ID বা PIN ভুলে গেলে CID HELP USER বা CID HELP PIN লিখে 16222-তে পাঠিয়ে পুনরুদ্ধার করা যায়।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন?

নির্বাচন হবে তিন ধাপে — তবে সব পদের জন্য সব ধাপ প্রযোজ্য নয়:

  1. লিখিত পরীক্ষা — সব পদের প্রার্থীদের জন্য।
  2. ব্যবহারিক পরীক্ষা — শুধুমাত্র অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের জন্য; লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এখানেই টাইপিং স্পিড যাচাই হবে।
  3. মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) — লিখিত (ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ভাইভায় ডাক পাবেন।

অ্যাডমিট কার্ডের তথ্য বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট ও সিআইডির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, আর যোগ্য প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএসে জানিয়ে দেওয়া হবে। User ID ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে হবে — এতে রোল নম্বর, পদের নাম, ছবি, পরীক্ষার তারিখ-সময় ও কেন্দ্র থাকবে। অ্যাডমিট কার্ড রঙিন প্রিন্ট করে লিখিত পরীক্ষার হলে সঙ্গে নিতে হবে; ব্যবহারিক ও ভাইভার সময়ও এটি দেখাতে হতে পারে।

একটা বাস্তব পরামর্শ দিই — আবেদনের সময় যে মোবাইল নম্বর দেবেন, সেটা পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সচল রাখুন। অনেক প্রার্থী সিম বদলে ফেলে অ্যাডমিট কার্ডের এসএমএস মিস করেন, আর তখন দৌড়ঝাঁপ করে সময় নষ্ট হয়।

ভাইভার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?

মৌখিক পরীক্ষার সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে হবে এবং এক সেট সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। আগেভাগে গুছিয়ে রাখলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো যায়:

  • সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (মূল কপি)
  • অভিজ্ঞতার সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ
  • সরকারের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী কোটা দাবির সমর্থনে সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ৯ম গ্রেডের ঊর্ধ্বতন গেজেটেড কর্মকর্তার দেওয়া চারিত্রিক সনদ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপি
  • অনলাইন আবেদনের Applicant’s Copy
  • কর্মরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ (এনওসি)

মিথ্যা, ভুল বা জাল তথ্য প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে — এটা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা আছে।

আবেদনকারীরা যে ৫টি ভুল বারবার করেন

বছরের পর বছর চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়ে লিখতে লিখতে আমি দেখেছি — অযোগ্যতার চেয়ে ভুল আবেদনের কারণেই বেশি প্রার্থী বাদ পড়েন। এই বিজ্ঞপ্তিতে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন:

১. ছবি ও স্বাক্ষরের মাপ না মিলিয়ে আপলোড করা। ৩০০×৩০০ পিক্সেলের বেশি বা ১০০ কেবির বেশি ছবি সিস্টেম নেবে না। মোবাইলে তোলা ছবি সরাসরি আপলোড না করে আগে রিসাইজ করে নিন।

২. ফি জমা দিতে দেরি করা। ফরম জমা মানেই আবেদন শেষ নয় — ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসে ফি না পাঠালে আবেদন বাতিল। অনেকেই “পরে দেব” ভেবে ভুলে যান। ফরম জমার সঙ্গে সঙ্গেই ফি পাঠিয়ে দিন।

৩. টাইপিং শর্ত উপেক্ষা করে অফিস সহকারী পদে আবেদন। বাংলা-ইংরেজি দুটোতেই মিনিটে ২০ শব্দের গতি ব্যবহারিক পরীক্ষায় যাচাই হবে। আত্মবিশ্বাস না থাকলে বরং যোগ্যতা মিলিয়ে অন্য পদে আবেদন করুন।

৪. শিক্ষাগত তথ্য গোপন বা ভুল দেওয়া। বেশি যোগ্যতা দেখাতে গিয়ে বা অসতর্কতায় ভুল তথ্য দিলে শুধু প্রার্থিতাই বাতিল হয় না — পরে চাকরিগত সুবিধা দাবির অধিকারও হারাতে পারেন।

৫. শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করা। সার্ভার জ্যাম, ভুল সংশোধনের সুযোগ না থাকা, ফি’র ৭২ ঘণ্টা — সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তের আবেদন ঝুঁকিপূর্ণ। হাতে সময় থাকতেই সেরে ফেলুন।

সিআইডিতে চাকরি: বেতনের বাইরেও যা পাবেন

শুধু বেতন স্কেল দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না — সিআইডির মতো সংস্থায় চাকরির কিছু অদৃশ্য সুবিধা আছে যা বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে না। প্রথমত, এটা দেশের প্রধান অপরাধ তদন্ত সংস্থা; এখানকার অভিজ্ঞতা আপনার সার্ভিস রেকর্ডে আলাদা মর্যাদা যোগ করে। দ্বিতীয়ত, সিআইডির কর্মপরিবেশে ফরেনসিক, সাইবার অপরাধ তদন্তের মতো আধুনিক বিষয়ের সংস্পর্শে থাকবেন — অফিস সহকারী বা গবেষণা সহকারী হিসেবেও এই এক্সপোজার ভবিষ্যতে অন্য সরকারি নিয়োগে কাজে লাগে।

তৃতীয়ত, সরকারি চাকরির নিয়মিত সুবিধাগুলো তো আছেই — বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি। গ্রেড-১৬ থেকে শুরু করে পদোন্নতির ধারায় উপরের গ্রেডে ওঠার সুযোগও রয়েছে, যদি সার্ভিস রেকর্ড ভালো থাকে। আমার মতে, যারা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি চাকরিতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এই ১৮টি পদের যেকোনো একটি হতে পারে দারুণ শুরু।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি: কোথা থেকে শুরু করবেন?

বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস বিস্তারিত বলা নেই — তবে এই গ্রেডের (১৬ ও ২০) সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার ধরন মোটামুটি একই থাকে। আমার অভিজ্ঞতায়, প্রস্তুতির ভিত্তি হওয়া উচিত:

  • বাংলা: ব্যাকরণ (সন্ধি, সমাস, কারক, এক কথায় প্রকাশ), সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
  • ইংরেজি: গ্রামার (parts of speech, tense, voice, narration), ভোকাবুলারি, ট্রান্সলেশন।
  • গণিত: পাটিগণিত (শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদ), বীজগণিতের মৌলিক অংশ।
  • সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশ বিষয়াবলি, সাম্প্রতিক ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান; সঙ্গে সিআইডি ও পুলিশ-সম্পর্কিত মৌলিক তথ্য।

অফিস সহায়ক পদের (এসএসসি যোগ্যতা) প্রশ্ন সাধারণত এসএসসি মানের হয়, আর গ্রেড-১৬ পদের প্রশ্ন এইচএসসি মানের। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা পাবেন — এজন্য নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

সিআইডি নিয়োগ ২০২৬-এ মোট কতজন নিয়োগ পাবেন?

৩টি পদের ক্যাটাগরিতে মোট ১৮ জন — অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৮ জন, গবেষণা সহকারী ১ জন এবং অফিস সহায়ক ৯ জন।

শুধু এসএসসি পাস করে কি আবেদন করা যাবে?

হ্যাঁ। অফিস সহায়ক পদে (৯টি) শুধু এসএসসি বা সমমান পাসই যথেষ্ট। তবে অফিস সহকারী ও গবেষণা সহকারী পদের জন্য এইচএসসি লাগবে।

বয়সসীমা কীভাবে হিসাব করা হবে?

০১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয় — এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তারিখই চূড়ান্ত।

আবেদন ফি কীভাবে জমা দেব?

শুধুমাত্র টেলিটক প্রিপেইড সিম থেকে ১৬২২২ নম্বরে দুটি এসএমএসে। প্রথমে CID , ফিরতি PIN পেলে CID YES । ফরম জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পাঠাতে হবে।

অফিস সহকারী পদে টাইপিং স্পিড কত লাগবে?

বাংলা ও ইংরেজি — দুটোতেই প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২০ শব্দ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় এই গতি যাচাই করা হবে।

কোন জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন?

বাংলাদেশের সব জেলার নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন। জেলাভিত্তিক কোনো কোটা বা সীমাবদ্ধতা এই বিজ্ঞপ্তিতে নেই।

অ্যাডমিট কার্ড কবে পাব?

পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার পর যোগ্য প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএসে জানানো হবে। User ID ও পাসওয়ার্ড দিয়ে cid.teletalk.com.bd থেকে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে হবে।

সরকারি চাকরিতে থাকলে কি আবেদন করা যাবে?

যাবে, তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এবং অনলাইন ফরমে “বিভাগীয় প্রার্থী” অপশন বেছে নিতে হবে। নির্ধারিত পর্যায়ে মূল অনাপত্তি সনদ জমা দিতে হবে।

অফিসিয়াল লিংক

  • অনলাইন আবেদন: cid.teletalk.com.bd
  • সিআইডির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: www.cid.gov.bd
  • বাংলাদেশ পুলিশ: www.police.gov.bd

সম্পর্কিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

পুলিশে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তাহলে এই পোস্টগুলোও দেখুন:

শেষ কথা

সিআইডির মতো বিশেষায়িত সংস্থায় চাকরি শুধু বেতনের জন্য নয় — এটা একটা মর্যাদার জায়গা। ১৮টি পদের মধ্যে আপনার যোগ্যতার সঙ্গে যেটা মিলবে, সেটাতে নির্ভুলভাবে আবেদন করুন, ফি সময়মতো জমা দিন, আর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি আজ থেকেই শুরু করুন। ৮ নভেম্বর বিকাল ৪টার আগেই আবেদন সেরে ফেলুন — শেষ মুহূর্তের ভিড়ে নিজের সুযোগটা হারাবেন না।

আবেদন-সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্টে জানান — উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আর নতুন নতুন সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp