
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৬-২৭-এর অনলাইন আবেদন শুরু হচ্ছে ১১ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২টায়, চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা হবে ৫ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে। শুধু ২০২৬ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবে। আবেদন করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি পোর্টাল admission.eis.du.ac.bd-তে।
এইচএসসি ফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই — ঢাবিতে ভর্তির সুযোগটা কীভাবে কাজে লাগাব? ফল বের হওয়ার (সম্ভাব্য ২৫–২৯ অক্টোবর) মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই আবেদন শুরু। এই অল্প সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত মানে এক বছরের অপেক্ষা। তাই এই পোস্টে আমি আবেদনের তারিখ, ইউনিটভিত্তিক যোগ্যতা, পরীক্ষার ধরন, ফি, কেন্দ্র আর ধাপে ধাপে আবেদন পদ্ধতি — সব এক জায়গায় সাজিয়ে দিলাম, যাতে তুমি একবার পড়েই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারো।
এক নজরে ঢাবি ভর্তি ২০২৬-২৭
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আবেদন শুরু | ১১ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২টা |
| আবেদন শেষ | ২৫ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯টা |
| আবেদনের মাধ্যম | admission.eis.du.ac.bd (অনলাইন) |
| মোট ইউনিট | ৫টি (বিজ্ঞান, কলা-আইন-সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, চারুকলা, আইবিএ) |
| ভর্তি পরীক্ষা | ৫–২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| যোগ্য প্রার্থী | শুধু ২০২৬ সালের HSC/সমমান উত্তীর্ণ |
| মোট নম্বর | ১২০ (পরীক্ষা ১০০ + জিপিএ ২০) |
| ক্লাস শুরু | ২৮ মার্চ ২০২৭ |
ঢাবি ভর্তি আবেদন কবে শুরু ও শেষ?
২০২৬-২৭ সেশনের অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২টায় এবং শেষ হবে ২৫ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১:৫৯টায়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২ আগস্ট ২০২৬-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল অ্যাডমিশন কমিটির সভায়, যার সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আবেদনের সময়সীমা মাত্র ১৫ দিন, এবং গত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা বলে শেষ দিনে সার্ভারে চাপ বাড়ে।
আমার পরামর্শ — শেষ দিনের অপেক্ষা না করে প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আবেদন শেষ করে রাখো। কারণ আবেদনের পর ছবি-স্বাক্ষর যাচাই, ফি পেমেন্ট আর প্রবেশপত্র ডাউনলোড — প্রতিটা ধাপেই ছোটখাটো ভুল হতে পারে। আগে আবেদন করলে সংশোধনের সময় পাবে। আর মনে রেখো, নির্ধারিত সময়ের পর আবেদনের কোনো সুযোগ থাকে না।
আবেদনের যোগ্যতা কী কী?
পাঁচ ইউনিটের জন্য আলাদা আলাদা জিপিএ শর্ত রয়েছে। নিচের টেবিলে ইউনিটভিত্তিক ন্যূনতম যোগ্যতা দেওয়া হলো (চতুর্থ বিষয়সহ SSC ও HSC-এর সম্মিলিত জিপিএ):
| ইউনিট | সম্মিলিত জিপিএ (SSC+HSC) | প্রতিটিতে ন্যূনতম |
|---|---|---|
| বিজ্ঞান ইউনিট (A) | ৮.০০ | ৩.৫০ |
| কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান (B) | ৭.৫০ | ৩.০০ |
| ব্যবসায় শিক্ষা (C) | ৭.৫০ | ৩.০০ |
| চারুকলা (F) | ৬.৫০ | ৩.০০ |
| আইবিএ (IBA) | ৮.০০ | ৩.৫০ |
এছাড়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে। প্রথমত, ২০২৬-২৭ সেশনে শুধু ২০২৬ সালের HSC বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবে — অর্থাৎ সেকেন্ড টাইমের সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, ও-লেভেল ও এ-লেভেল প্রার্থীদের জন্য ইকুইভ্যালেন্স নিয়ম প্রযোজ্য হবে (যেমন ও-লেভেলে গণিতসহ ৫টি বিষয়ে ন্যূনতম B গ্রেড)।
একটা কথা পরিষ্কার করে রাখি: ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করলেই চান্স পাওয়া যায় না। গত বছর বিজ্ঞান ইউনিটে পাসের হার ছিল মাত্র ৭.৪৬% আর কলা ইউনিটে ৭.২৯%। তাই লক্ষ্য শুধু “আবেদনের যোগ্য হওয়া” নয়, বরং পরীক্ষায় টপ র্যাঙ্ক করা।
এই সেশনটা আরেকটা কারণে বিশেষ — সেকেন্ড টাইম বন্ধ থাকায় প্রতিযোগী সবাই প্রথমবারের পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ মাঠ সবার জন্য সমান। যে এখন থেকে গুছিয়ে প্রস্তুতি নেবে, সুবিধাটা তারই।
পাঁচটি ইউনিট: কোনটিতে কী পড়ানো হয়?
বিজ্ঞান ইউনিট (A Unit): বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। পদার্থ, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞানসহ বিজ্ঞান অনুষদের সব বিভাগে ভর্তির পথ এখান দিয়ে। সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ইউনিট এটি।
কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট (B Unit): মানবিক বিভাগের মূল ইউনিট। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আইনসহ কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলো এখানে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করতে পারে — বিস্তারিত সার্কুলারে দেখো।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (C Unit): বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্টসহ বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের বিভাগগুলোতে ভর্তি এই ইউনিটের মাধ্যমে।
চারুকলা ইউনিট (F Unit): চারুকলা অনুষদে ভর্তির জন্য। এখানে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ড্রয়িং টেস্ট থাকে — তাই শিল্পচর্চা করা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি আলাদা সুযোগ।
আইবিএ ইউনিট: ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে বিবিএ ভর্তির জন্য। যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারে, তবে যোগ্যতার শর্ত সবচেয়ে কঠিনগুলোর একটি। করপোরেট ক্যারিয়ারের স্বপ্ন যাদের, তাদের প্রধান লক্ষ্য এই ইউনিট।
ভর্তি পরীক্ষা কবে হবে? (ইউনিটভিত্তিক তারিখ)
| ইউনিট | পরীক্ষার তারিখ | সময় |
|---|---|---|
| আইবিএ | ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ (শনিবার) | সকাল ১০টা – দুপুর ১২টা |
| বিজ্ঞান | ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ (শনিবার) | সকাল ১১টা – দুপুর ১২:৩০ |
| কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৬ (শনিবার) | সকাল ১১টা – দুপুর ১২:৩০ |
| চারুকলা | ২২ ডিসেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) | সকাল ১১টা – দুপুর ১২:৩০ |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ (শনিবার) | সকাল ১১টা – দুপুর ১২:৩০ |
প্রতিটা পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিই আমি। ঢাকার বাইরের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিলে আগের দিনই শহরে পৌঁছে যাও — পরীক্ষার দিন সকালে যাত্রার ঝুঁকি নিও না।
পরীক্ষার ধরন ও নম্বর বণ্টন কেমন?
বেশিরভাগ ইউনিটে পরীক্ষা হবে মিশ্র পদ্ধতিতে — ৬০ নম্বরের MCQ আর ৪০ নম্বরের লিখিত। দুটি ইউনিটে ধরন আলাদা:
- বিজ্ঞান, কলা, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট: MCQ ৬০ + লিখিত ৪০ = ১০০ নম্বর
- চারুকলা ইউনিট: MCQ ৪০ + ড্রয়িং ৬০ = ১০০ নম্বর
- আইবিএ ইউনিট: MCQ ৭০ + বর্ণনামূলক ৩০ = ১০০ নম্বর
মোট মূল্যায়ন ১২০ নম্বরে — ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের সঙ্গে SSC ও HSC ফলাফলের ভিত্তিতে ২০ নম্বর যোগ হবে। লিখিত অংশটাই অনেকের জন্য গেম-চেঞ্জার; শুধু MCQ প্র্যাকটিস করে লিখিত অবহেলা করলে মেধা তালিকায় পিছিয়ে পড়বে।
পরীক্ষার কেন্দ্র কোথায় হবে?
আইবিএ ও চারুকলা ছাড়া বাকি তিন ইউনিটের পরীক্ষা একযোগে আটটি কেন্দ্রে হবে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
আবেদনের সময়ই পছন্দের কেন্দ্র বেছে নেওয়া যায়। নিজের বিভাগের নিকটতম কেন্দ্র বেছে নিলে যাতায়াতের ধকল কমে, পরীক্ষার দিন মনোযোগ বাড়ে। প্রবেশপত্র ডাউনলোডের পর কেন্দ্রের নাম-ঠিকানা ভালো করে মিলিয়ে নিও।
অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে? (ধাপে ধাপে)
- পোর্টালে যাও: admission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে “Apply” বা আবেদন অপশনে ক্লিক করো।
- তথ্য দাও: HSC ও SSC-এর রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ড ও পাসের সাল সঠিকভাবে লিখো। ভুল রোল নম্বর সবচেয়ে সাধারণ ভুল — অ্যাডমিট কার্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নাও।
- ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড: নির্দিষ্ট সাইজের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করো। ঝাপসা বা পুরনো ছবি দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- ইউনিট ও কেন্দ্র বাছাই: কোন কোন ইউনিটে পরীক্ষা দেবে আর কোন কেন্দ্রে — সাবধানে নির্বাচন করো। একাধিক ইউনিটে আবেদন করা যায় (আলাদা ফি দিয়ে)।
- ফি পেমেন্ট: মোবাইল ব্যাংকিং বা নির্ধারিত মাধ্যমে ফি জমা দাও। পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করো।
- প্রবেশপত্র ডাউনলোড: আবেদন শেষ হওয়ার পর একই পোর্টাল থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করো। এতে কেন্দ্রের নাম-ঠিকানা থাকবে।
একটা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর শুধু অফিসিয়াল পোর্টালেই দেবে। ফেসবুকে “ভর্তি ফরম পূরণ করে দেব” টাইপের পোস্ট থেকে দূরে থাকো — এগুলো তথ্য চুরি বা প্রতারণার ফাঁদ হতে পারে।
আবেদন ফি কত টাকা?
২০২৬-২৭ সেশনের আবেদন ফি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি — পূর্ণাঙ্গ সার্কুলারে জানানো হবে। তবে ধারণা পেতে গত বছরের তথ্য কাজে লাগে: ২০২৫-২৬ সেশনে সাধারণ ইউনিটগুলোর ফি ছিল ১,০৫০ টাকা।
আমার অভিজ্ঞতা বলে, ফি সাধারণত আগের বছরের কাছাকাছিই থাকে। তবু নিশ্চিত তথ্যের জন্য অফিসিয়াল সার্কুলার প্রকাশের অপেক্ষা করো, কারো মুখের কথায় টাকা পাঠিও না।
SSC-HSC ফলাফলের ২০ নম্বর কীভাবে হিসাব হবে?
মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে ২০ নম্বর আসবে SSC ও সমমান এবং HSC ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল থেকে। তবে ২০২৬-২৭ সেশনের সুনির্দিষ্ট হিসাব-পদ্ধতি (ফর্মুলা) এখনো প্রকাশ করা হয়নি — পূর্ণাঙ্গ ভর্তি সার্কুলারে এটি জানানো হবে।
এখানে একটা বাস্তব পরামর্শ দিই: এই ২০ নম্বর নিয়ে দুশ্চিন্তা করে লাভ নেই, কারণ এটা তোমার হাতে আর নেই — HSC ফল যা হওয়ার হয়ে গেছে। তোমার নিয়ন্ত্রণে আছে বাকি ১০০ নম্বর। তাই শক্তি খরচ করো পরীক্ষার প্রস্তুতিতে, ফলাফলের হিসাব-নিকাশে নয়।
HSC রেজাল্টের পর করণীয়: আমার সাজানো টাইমলাইন
HSC ফল (সম্ভাব্য ২৫–২৯ অক্টোবর) থেকে ঢাবি আবেদন (১১ নভেম্বর) — মাঝে মাত্র দুই সপ্তাহ। এই সময়টাকে আমি চার ভাগে ভাগ করেছি:
সপ্তাহ ১ (ফল প্রকাশের পরপর): ফল যাচাই করো — মার্কশিটে নাম, রোল, বিষয়ভিত্তিক গ্রেড ঠিক আছে কিনা দেখো। ভুল থাকলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের (পুনঃনিরীক্ষণ) আবেদন করো; ফল প্রকাশের ২-৩ দিনের মধ্যে আবেদন শুরু হয়। একই সঙ্গে কোন কোন ইউনিটে তোমার যোগ্যতা আছে, সেটা উপরের টেবিল মিলিয়ে ঠিক করে ফেলো।
সপ্তাহ ২ (নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ): আবেদনের কাগজপত্র গুছিয়ে রাখো — সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি, HSC অ্যাডমিট কার্ড, মোবাইল নম্বর (OTP আসবে)। ১১ নভেম্বর পোর্টাল খোলার প্রথম ২-৩ দিনের মধ্যে আবেদন শেষ করো।
১৬ নভেম্বর – ৪ ডিসেম্বর: আইবিএ পরীক্ষা (৫ ডিসেম্বর) আগে হলে আইবিএ প্রার্থীরা এখন পূর্ণ গতিতে মক টেস্টে নামো। বাকিরা ইউনিটভিত্তিক সিলেবাস শেষ করে রিভিশনে যাও।
পরীক্ষার সপ্তাহগুলো: প্রতিটা পরীক্ষার ২-৩ দিন আগে প্রবেশপত্র, কলম, প্রয়োজনীয় কাগজ গুছিয়ে রাখো। কেন্দ্রের রুট আগে থেকে দেখে নাও।
প্রতিটি ইউনিটের প্রস্তুতি: কোথায় জোর দেবে?
সব ইউনিটের প্রস্তুতি এক রকম নয়। আমার পর্যবেক্ষণ থেকে ইউনিটভিত্তিক ফোকাস পয়েন্ট দিলাম:
বিজ্ঞান ইউনিট: HSC-এর মূল বই-ই প্রধান অস্ত্র। পদার্থ-রসায়নের সূত্র আর গণিতের শর্টকাট টেকনিক নিয়মিত ঝালিয়ে নাও। লিখিত অংশে ধাপে ধাপে সমাধান দেখানোর অভ্যাস করো — শুধু উত্তর লিখলে পূর্ণ নম্বর মেলে না। জীববিজ্ঞানের চিত্রভিত্তিক প্রশ্নে লেবেলিং প্র্যাকটিস করো।
কলা ইউনিট: বাংলা ব্যাকরণ আর ইংরেজি গ্রামার-ভোকাবুলারিতে সবচেয়ে বেশি নম্বর তোলা যায়। সাধারণ জ্ঞান অংশের জন্য গত ছয় মাসের জাতীয়-আন্তর্জাতিক ঘটনা নোট করে রাখো। লিখিত অংশে অনুচ্ছেদ ও ভাব-সম্প্রসারণের কাঠামো আগে থেকে ঠিক করে রাখো।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট: হিসাববিজ্ঞানের জাবেদা-খতিয়ান আর ফিন্যান্সের সূত্রভিত্তিক অঙ্কে গতি বাড়াও। ব্যবসায় সংগঠন অংশে সংজ্ঞা মুখস্থ না করে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝে পড়ো — লিখিত অংশে এটাই কাজে লাগে।
চারুকলা ইউনিট: প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা স্কেচ প্র্যাকটিস করো — ফিগার ড্রয়িং, স্টিল লাইফ, কম্পোজিশন। MCQ অংশে শিল্পকলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের শিল্পীদের নাম-কর্ম মনে রাখো।
আইবিএ ইউনিট: ইংরেজি ও গণিতের MCQ-তে গতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — ৭০ নম্বরের MCQ সীমিত সময়ে শেষ করতে হয়। বর্ণনামূলক অংশে যুক্তি-কাঠামো পরিষ্কার রেখে লেখো।
৪ সপ্তাহের মডেল প্রস্তুতি রুটিন
নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত একটা বাস্তবসম্মত রুটিন দিলাম — নিজের দুর্বলতা অনুযায়ী সাজিয়ে নিও:
সপ্তাহ ১–২ (ভিত্তি মজবুত): প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা পড়াশোনা। সকালে কঠিন বিষয় (গণিত/গ্রামার), বিকেলে তত্ত্বীয় অংশ। প্রতিটা অধ্যায় শেষে বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান। সপ্তাহ শেষে একটা পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট।
সপ্তাহ ৩ (গতি ও নির্ভুলতা): মক টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে ৩টা করো। প্রতিটা মকের ভুল নোটবুকে লিখে রাখো — এই “ভুলের খাতা” পরীক্ষার আগের রাতে সবচেয়ে দামি সম্পদ। লিখিত অংশের জন্য টাইমার ধরে উত্তর লেখার প্র্যাকটিস শুরু করো।
সপ্তাহ ৪ (রিভিশন ও মানসিক প্রস্তুতি): নতুন টপিক নয়, শুধু রিভিশন। ভুলের খাতা, সূত্রের তালিকা, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ — এগুলো ঝালিয়ে নাও। ঘুমের রুটিন ঠিক রাখো; পরীক্ষার আগের রাতে জেগে পড়া আত্মঘাতী।
ভর্তি-প্রতারণা থেকে সাবধান
প্রতি বছর ভর্তি মৌসুমে কিছু চক্র সক্রিয় হয়। সতর্ক থাকো:
- “প্রশ্নপত্র ফাঁস” বা “আগে প্রশ্ন দেওয়া হবে” — শতভাগ প্রতারণা। টাকা দিলে টাকাও যাবে, ভবিষ্যতও।
- ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে “ভর্তি নিশ্চিত করে দেব” টাইপের পোস্ট এড়িয়ে চলো।
- অফিসিয়াল পোর্টাল (admission.eis.du.ac.bd) আর du.ac.bd ছাড়া অন্য কোনো সাইটে রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিও না।
- কোনো “এজেন্ট” ফি-র বাইরে অতিরিক্ত টাকা চাইলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করো।
মনে রেখো — ঢাবিতে ভর্তির একমাত্র পথ মেধা তালিকা। শর্টকাটের প্রলোভন মানেই ফাঁদ।
অভিভাবকদের জন্য ৫টি পরামর্শ
- চাপ নয়, পরিবেশ দিন: “চান্স পেতেই হবে” টাইপের কথা শিক্ষার্থীর মানসিক চাপ বাড়ায়। বরং নিয়মিত পড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
- আর্থিক প্রস্তুতি আগেই: আবেদন ফি, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া — মোট খরচের একটা হিসাব নভেম্বরেই করে রাখুন।
- কেন্দ্র দূরে হলে আগেভাগে যান: পরীক্ষার আগের দিন কেন্দ্রের শহরে পৌঁছে যাওয়া নিরাপদ।
- বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন: ঢাবি একমাত্র লক্ষ্য না রেখে GST, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার দিকেও নজর দিন।
- স্বাস্থ্যের খেয়াল: পরীক্ষার মৌসুমে পর্যাপ্ত ঘুম ও খাবার নিশ্চিত করুন — অসুস্থ শরীরে মেধা কাজ করে না।
যেসব ভুলে আবেদন বাতিল হতে পারে
- ভুল রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া
- ঝাপসা/পুরনো ছবি বা অস্পষ্ট স্বাক্ষর আপলোড
- ফি পেমেন্ট না করে আবেদন “সাবমিট” ভাবা — পেমেন্ট কনফার্মেশন যাচাই করো
- শেষ দিনে আবেদন করতে গিয়ে সার্ভার জ্যামে পড়া
- ভুয়া ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া — শুধু admission.eis.du.ac.bd ব্যবহার করো
- পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা ক্যালকুলেটর নেওয়া — এগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
পুরো ভর্তি ক্যালেন্ডার: এক নজরে টাইমলাইন
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৫–২৯ অক্টোবর ২০২৬ (সম্ভাব্য) | HSC ও সমমান ফল প্রকাশ |
| ফলের ২–৩ দিন পর | বোর্ড চ্যালেঞ্জ (পুনঃনিরীক্ষণ) আবেদন শুরু |
| ১১ নভেম্বর ২০২৬ | ঢাবি ভর্তি আবেদন শুরু (দুপুর ১২টা) |
| ২৫ নভেম্বর ২০২৬ | আবেদন শেষ (রাত ১১:৫৯টা) |
| ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ | আইবিএ ইউনিট পরীক্ষা |
| ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ | বিজ্ঞান ইউনিট পরীক্ষা |
| ১৯ ডিসেম্বর ২০২৬ | কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান পরীক্ষা |
| ২২ ডিসেম্বর ২০২৬ | চারুকলা ইউনিট পরীক্ষা |
| ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ | ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট পরীক্ষা |
| ডিসেম্বর ২০২৬ | মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (সম্ভাব্য) |
| জানুয়ারি ২০২৭ | রাবি, জাবি, চবি ও কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষা |
| মার্চ ২০২৭ | GST গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা |
| ২৮ মার্চ ২০২৭ | ঢাবিতে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু |
এই টেবিলটা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখো — পুরো মৌসুমের পরিকল্পনা এক ছবিতে।
সর্বশেষ ও নির্ভরযোগ্য আপডেট কোথায় পাবেন?
ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য প্রতিদিন বদলাতে পারে। নির্ভরযোগ্য উৎসের তালিকা:
- admission.eis.du.ac.bd — অনলাইন আবেদন ও প্রবেশপত্রের একমাত্র অফিসিয়াল পোর্টাল
- du.ac.bd — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট; নোটিশ বোর্ডে সার্কুলার প্রকাশ হয়
- The Business Standard / Jagonews24 — যাচাইকৃত শিক্ষা সংবাদ
ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলের “ব্রেকিং” দাবি দেখে আতঙ্কিত হয়ো না — অফিসিয়াল ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেটা গুজবই। পূর্ণাঙ্গ সার্কুলার প্রকাশ হলে এই পোস্ট আমরা হালনাগাদ করব।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৬-২৭-এর আবেদন কবে শুরু?
অনলাইন আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২টায়, শেষ ২৫ নভেম্বর রাত ১১:৫৯টায়। আবেদন করতে হবে admission.eis.du.ac.bd পোর্টালে।
DU admission 2026-27-এ কারা আবেদন করতে পারবে?
শুধু ২০২৬ সালের HSC বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। সেকেন্ড টাইমের সুযোগ নেই। ও-লেভেল/এ-লেভেল প্রার্থীদের জন্য ইকুইভ্যালেন্স নিয়ম প্রযোজ্য।
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে হবে?
আইবিএ ৫ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ১২ ডিসেম্বর, কলা-আইন-সামাজিক বিজ্ঞান ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬।
ঢাবি ভর্তির আবেদন ফি কত?
২০২৬-২৭ সেশনের ফি এখনো ঘোষণা হয়নি। ২০২৫-২৬ সেশনে সাধারণ ইউনিটে ফি ছিল ১,০৫০ টাকা। পূর্ণাঙ্গ সার্কুলারে চূড়ান্ত ফি জানানো হবে।
ভর্তি পরীক্ষা কত নম্বরের?
মোট ১২০ নম্বর — ভর্তি পরীক্ষা ১০০ (MCQ + লিখিত) এবং SSC-HSC ফলাফলের ভিত্তিতে ২০ নম্বর। চারুকলায় ড্রয়িং ৬০, আইবিএতে MCQ ৭০ নম্বর থাকে।
একজন শিক্ষার্থী কয়টি ইউনিটে আবেদন করতে পারে?
যোগ্যতা থাকলে একাধিক ইউনিটে আবেদন করা যায়, প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। পরীক্ষার তারিখ আলাদা হওয়ায় সময়-সংঘাতের ঝামেলা নেই।
পরীক্ষার কেন্দ্র কীভাবে ঠিক হবে?
আবেদনের সময় পছন্দের কেন্দ্র বেছে নেওয়া যায়। ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। প্রবেশপত্রে চূড়ান্ত কেন্দ্রের ঠিকানা থাকবে।
পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর বা মোবাইল নেওয়া যাবে?
না। পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার ও মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম ভাঙলে পরীক্ষা বাতিল হতে পারে।
ঢাবিতে চান্স না পেলে বিকল্প কী?
একই মৌসুমে মেডিকেল (ডিসেম্বর), রাজশাহী-জাহাঙ্গীরনগর-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গুচ্ছ (জানুয়ারি), এবং ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের GST গুচ্ছ (মার্চ) ভর্তি পরীক্ষা হবে। একাধিক লক্ষ্য রাখলে চাপ কমে।
শেষ কথা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৬-২৭-এর ঘড়ি টিকটিক করছে — HSC ফলের পর হাতে সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ। আবেদনের তারিখ (১১–২৫ নভেম্বর), যোগ্যতার শর্ত আর পরীক্ষার তারিখ এখন তোমার জানা। পরের ধাপ: আজই তোমার যোগ্য ইউনিটগুলো চিহ্নিত করো, কাগজপত্র গুছিয়ে রাখো, আর প্রস্তুতিতে নামো।
এই পোস্টটি উপকারী মনে হলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো — হয়তো তোমার একটা শেয়ারই কারো ভর্তি-স্বপ্ন বাঁচিয়ে দেবে। ভর্তি সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা এলে আমরা আপডেট দেব — সাইটটি বুকমার্ক করে রাখো।
তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল অ্যাডমিশন কমিটির ঘোষণা (২ আগস্ট ২০২৬), The Business Standard, Jagonews24। পূর্ণাঙ্গ সার্কুলার প্রকাশ হলে এই পোস্ট হালনাগাদ করা হবে।


