নবম-দশম শ্রেণি পদার্থবিজ্ঞান ২য় অধ্যায় গতির ফিচার্ড গ্রাফিক — দ্রুতগামী গাড়ি, স্পিডোমিটার ও গতির সমীকরণের ইলাস্ট্রেশন

ভূমিকা: কেন এই অধ্যায়টা পরীক্ষায় এত গুরুত্বপূর্ণ

পরীক্ষার হলে বসে অনেক ছাত্রের হাত কাঁপে গাণিতিক সমস্যা দেখলেই। সূত্রটা মনে আছে — v = u + at — কিন্তু বসাতে গিয়ে ভুল হয় এককে, নয়তো দিকের চিহ্নে। আমি নিজে দেখেছি, টিউশনিতে পড়ানোর সময় দশজনের মধ্যে ছয়জনই 36 km/h-কে সরাসরি সূত্রে বসিয়ে দেয়, মিটার-সেকেন্ডে না বদলেই। ফলাফল: জানা অঙ্কেও নম্বর কাটা।

নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান ২য় অধ্যায় “গতি” থেকে SSC পরীক্ষায় প্রতি বছরই MCQ আর সৃজনশীল — দুটোই আসে। সরাসরি উত্তরটা আগে জেনে নাও, তারপর বিস্তারিত পড়ো: এই অধ্যায়ে শিখবে — সময়ের সাথে বস্তুর অবস্থান বদলের নিয়ম; মূল বিষয় হলো স্থিতি বনাম গতি, দূরত্ব বনাম সরণ, দ্রুতি বনাম বেগ, ত্বরণ ও মন্দন, গতির তিনটি সমীকরণ (v = u + at, s = ut + ½at², v² = u² + 2as) এবং পড়ন্ত বস্তুর সূত্র। এই নোটে প্রতিটা সূত্রের সহজ ব্যাখ্যা, ধাপে ধাপে ৪টি গাণিতিক সমাধান, ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ ও ২টি মডেল সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আছে।

এই নোটটা পড়লে তুমি পাবে: অধ্যায়ের প্রতিটা সংজ্ঞা পরীক্ষামুখী ভাষায়, কোন সমীকরণ কখন ব্যবহার করবে তার সিদ্ধান্ত-টেবিল, পরীক্ষায় নম্বর কাটার ৫টি সাধারণ ভুল, আর শেষে নিজেকে যাচাই করার প্রশ্নব্যাংক। আর ইংরেজি ভার্সনের বন্ধুরা — তোমরা যারা SSC physics chapter 2 motion note বা equations of motion bangla লিখে খোঁজো, এই পোস্টের সূত্র, একক আর উদাহরণগুলো তোমাদের কাজেও লাগবে।

গতি কাকে বলে? স্থিতি ও গতির পার্থক্য কী?

সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হলে তাকে বলে স্থিতি, আর অবস্থান বদলালে তাকে বলে গতি। ব্যাপারটা আপেক্ষিক — ট্রেনে বসে থাকা যাত্রী নিজের সিটের সাপেক্ষে স্থির, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের সাপেক্ষে গতিশীল।

পরীক্ষায় এই সংজ্ঞাটা এক লাইনে লিখলেই পূর্ণ নম্বর: “সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে গতি বলে।”

বিষয়স্থিতিগতি
সংজ্ঞাঅবস্থানের পরিবর্তন হয় নাঅবস্থানের পরিবর্তন হয়
উদাহরণটেবিলে রাখা বইরাস্তায় চলা রিকশা
বৈশিষ্ট্যসময় গেলেও জায়গা একইসময়ের সাথে জায়গা বদলায়

গতির প্রকারভেদ কী কী? দৈনন্দিন উদাহরণসহ

পাঠ্যবইয়ে গতিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, সাথে আছে পর্যাবৃত্ত গতি। প্রতিটা ধরনের দৈনন্দিন উদাহরণ মনে রাখলে MCQ-তে ভুল হবে না।

  • চলন গতি: বস্তুর সব কণা একই সময়ে একই দিকে একই দূরত্ব অতিক্রম করে। যেমন — সোজা রাস্তায় চলা গাড়ি। পথ সোজা হলে সরলরৈখিক, বাঁকা হলে বক্ররৈখিক চলন গতি।
  • ঘূর্ণন গতি: বস্তু কোনো নির্দিষ্ট অক্ষের চারদিকে ঘোরে। যেমন — বৈদ্যুতিক পাখার ব্লেড, ঘড়ির কাঁটা।
  • কম্পন বা দোলন গতি: বস্তু নির্দিষ্ট বিন্দুর দুই পাশে বারবার যাওয়া-আসা করে। যেমন — দোলনার দোলন, গিটারের তারের কম্পন।
  • পর্যাবৃত্ত গতি: নির্দিষ্ট সময় পরপর গতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। যেমন — ঘড়ির কাঁটার ঘূর্ণন, দোলনার দোলন। খেয়াল করো, ঘূর্ণন ও কম্পন গতির অনেকটাই পর্যাবৃত্ত।

একটা মজার পর্যবেক্ষণ: সাইকেলের চাকা একই সাথে চলন গতিও করে (সামনে এগোয়) আবার ঘূর্ণন গতিও করে (অক্ষের চারদিকে ঘোরে)। পরীক্ষায় “মিশ্র গতির উদাহরণ দাও” এলে এই উত্তরটাই দেবে।

দূরত্ব ও সরণের মধ্যে পার্থক্য কী?

এই দুটো গুলিয়ে ফেলাই অধ্যায়ের সবচেয়ে সাধারণ ভুল। দূরত্ব হলো বস্তুর অতিক্রান্ত মোট পথের দৈর্ঘ্য — দিকের কোনো ব্যাপার নেই, তাই এটি স্কেলার রাশি। সরণ হলো আদি অবস্থান থেকে শেষ অবস্থানের সরলরৈখিক দূরত্ব, দিকসহ — তাই এটি ভেক্টর রাশি।

উদাহরণ: তুমি বাড়ি থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্বে বাজারে গিয়ে আবার ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে বাড়ি ফিরে এলে — দূরত্ব ৬ কিলোমিটার, কিন্তু সরণ শূন্য। কারণ শেষ অবস্থান আদি অবস্থানেই। দুটোরই একক মিটার।

বৈশিষ্ট্যদূরত্বসরণ
সংজ্ঞাঅতিক্রান্ত মোট পথআদি-শেষ অবস্থানের সরলরৈখিক ব্যবধান
রাশির ধরনস্কেলার (দিক নেই)ভেক্টর (দিক আছে)
মানকখনো ঋণাত্মক বা শূন্য নয়*ধনাত্মক, ঋণাত্মক বা শূন্য হতে পারে
এককমিটার (m)মিটার (m)

*বাড়ি ফিরে এলেও দূরত্ব শূন্য হয় না — পথ তো অতিক্রম করেছ। এই লাইনটা মনে রাখলে MCQ-তে “সরণ কখন শূন্য হয়” ধরনের প্রশ্নে আটকাবে না।

দ্রুতি ও বেগের পার্থক্য কী? এককসহ

দ্রুতি হলো একক সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব — দ্রুতি = দূরত্ব ÷ সময়। দিক নেই, তাই স্কেলার। বেগ হলো একক সময়ে সরণ — বেগ = সরণ ÷ সময়। দিক আছে, তাই ভেক্টর। দুটোরই একক মিটার/সেকেন্ড (ms⁻¹)।

গাড়ির স্পিডোমিটার যা দেখায় তা দ্রুতি, বেগ নয় — কারণ তাতে দিকের তথ্য নেই। আর সময়ের ব্যবধান খুব কম হলে যে দ্রুতি পাওয়া যায়, তাকে বলে তাৎক্ষণিক দ্রুতি।

বৈশিষ্ট্যদ্রুতিবেগ
সূত্রদূরত্ব ÷ সময়সরণ ÷ সময়
রাশির ধরনস্কেলারভেক্টর
এককms⁻¹ms⁻¹
মানসবসময় ধনাত্মকধনাত্মক বা ঋণাত্মক

ত্বরণ ও মন্দন কাকে বলে?

সময়ের সাথে বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে। সূত্র: ত্বরণ (a) = (শেষবেগ − আদিবেগ) ÷ সময়, অর্থাৎ a = (v − u) ÷ t। একক মিটার/সেকেন্ড² (ms⁻²)। আর বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে — এটি আসলে ঋণাত্মক ত্বরণ।

  • সুষম ত্বরণ: নির্দিষ্ট দিকে বেগ একই হারে বাড়তে থাকলে — যেমন স্থির অবস্থা থেকে সমানভাবে গতি বাড়ানো গাড়ি।
  • অসুষম ত্বরণ: বেগ বৃদ্ধির হার সমান না থাকলে — যেমন ভিড় রাস্তায় থেমে থেমে চলা বাস।
  • মন্দন: ব্রেক কষে গাড়ি থামানোর সময় বেগ কমে — ত্বরণ ঋণাত্মক, এটাই মন্দন।

সুষম বেগে চলা বস্তুর ত্বরণ শূন্য — কারণ বেগের কোনো পরিবর্তনই হচ্ছে না। এই এক লাইনের যুক্তিটা “ব্যাখ্যা করো” ধরনের প্রশ্নে সরাসরি লিখবে।

গতির তিনটি সমীকরণ কী? কখন কোনটি ব্যবহার করবে

সুষম ত্বরণে চলা বস্তুর জন্য তিনটি সমীকরণ আছে — এগুলোকেই গতির সমীকরণ বলে। এগুলো তখনই প্রযোজ্য যখন ত্বরণ ধ্রুব থাকে আর বস্তু সরলরেখায় চলে।

  • প্রথম সমীকরণ: v = u + at (শেষবেগ = আদিবেগ + ত্বরণ × সময়)
  • দ্বিতীয় সমীকরণ: s = ut + ½at² (সরণ = আদিবেগ × সময় + ½ × ত্বরণ × সময়²)
  • তৃতীয় সমীকরণ: v² = u² + 2as

এখানে u = আদিবেগ, v = শেষবেগ, a = ত্বরণ, t = সময়, s = সরণ। একটা বোনাস রূপও মনে রাখো: s = (u + v)t ÷ 2 — গড়বেগ দিয়ে সরণ।

পরীক্ষার হলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — কোন অঙ্কে কোন সূত্র? নিচের টেবিলটা মুখস্থ না করে বুঝে নাও:

যা বের করতে হবেযা দেওয়া আছেব্যবহার করো
শেষবেগ vu, a, tv = u + at
সরণ su, a, ts = ut + ½at²
শেষবেগ vu, a, s (সময় নেই)v² = u² + 2as
সময় tu, v, av = u + at থেকে t বের করো

কৌশলটা সহজ: প্রশ্নে যে রাশিটা নেই আর বেরও করতে হবে না, সেই রাশিবিহীন সূত্রটাই বেছে নাও। সময় t-এর উল্লেখ না থাকলে সরাসরি তৃতীয় সমীকরণ।

গাণিতিক সমস্যার সমাধান: ধাপে ধাপে ৪টি উদাহরণ

উদাহরণ ১: একটি গাড়ি স্থির অবস্থা থেকে 2 ms⁻² সুষম ত্বরণে চলতে শুরু করল। 6 সেকেন্ড পর এর বেগ কত হবে?
সমাধান: এখানে u = 0 (স্থির অবস্থা), a = 2 ms⁻², t = 6 s। প্রথম সমীকরণ v = u + at = 0 + 2 × 6 = 12 ms⁻¹। উত্তর: 12 ms⁻¹।

উদাহরণ ২: 10 ms⁻¹ বেগে চলা একটি বস্তু 2 ms⁻² ত্বরণে 75 m পথ অতিক্রম করল। শেষবেগ কত?
সমাধান: সময় দেওয়া নেই, তাই তৃতীয় সমীকরণ: v² = u² + 2as = 10² + 2 × 2 × 75 = 100 + 300 = 400। সুতরাং v = 20 ms⁻¹।

উদাহরণ ৩ (দিকের চিহ্ন): একটি গাড়ি পূর্ব দিকে 8 ms⁻¹ বেগে চলছিল। হঠাৎ চালক পশ্চিম দিকে 5 ms⁻² ত্বরণ প্রয়োগ করল। কত সময় পর গাড়ির বেগ পশ্চিম দিকে 32 ms⁻¹ হবে?
সমাধান: পূর্ব দিককে ধনাত্মক ধরলে u = +8, a = −5 (বিপরীত দিক বলে ঋণাত্মক), v = −32। প্রথম সমীকরণ: −32 = 8 + (−5)t → −40 = −5t → t = 8 s। উত্তর: 8 সেকেন্ড। এই ধরনের অঙ্কে দিকের চিহ্ন ঠিক রাখাই আসল পরীক্ষা।

উদাহরণ ৪ (একক রূপান্তর): 36 km/h বেগে চলা গাড়ি 5 s-এ থেমে গেল। মন্দন কত?
সমাধান: আগে একক বদলাও — 36 km/h = 36 × 1000 ÷ 3600 = 10 ms⁻¹। অর্থাৎ u = 10, v = 0, t = 5। a = (v − u) ÷ t = (0 − 10) ÷ 5 = −2 ms⁻²। মন্দন 2 ms⁻²। km/h থেকে ms⁻¹-এ নিতে 3.6 দিয়ে ভাগ করো — এই ধাপটা বাদ দিলেই অঙ্ক ভুল।

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র কী? গ্যালিলিওর তিনটি সূত্র

স্থির অবস্থা থেকে বিনা বাধায় নিচে পড়া বস্তুর জন্য গ্যালিলিও তিনটি সূত্র দেন। শর্তটা মনে রাখো — বাতাসের বাধা থাকলে সূত্র খাটে না, তাই পাথর আর পালক একসাথে ছাড়লে পাথর আগে পড়ে।

  • প্রথম সূত্র: নির্দিষ্ট দিকে পড়ন্ত বস্তুর বেগ সময়ের সমানুপাতিক (v ∝ t)। অর্থাৎ v = gt।
  • দ্বিতীয় সূত্র: অতিক্রান্ত দূরত্ব (উচ্চতা) সময়ের বর্গের সমানুপাতিক (h ∝ t²)। অর্থাৎ h = ½gt²।
  • তৃতীয় সূত্র: স্থির অবস্থা থেকে পড়ন্ত বস্তু পরপর সমান সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাদের অনুপাত 1 : 3 : 5 : 7 …

এখানে ত্বরণ a-এর জায়গায় বসে অভিকর্ষজ ত্বরণ g = 9.8 ms⁻², আর সরণ s-এর জায়গায় উচ্চতা h। তাই পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র: v = gt, h = ½gt², v² = 2gh।

উদাহরণ: স্থির অবস্থা থেকে একটি বল ছেড়ে দেওয়া হলো। 2 সেকেন্ড পর এর বেগ ও অতিক্রান্ত উচ্চতা কত? (g = 9.8 ms⁻²)
সমাধান: v = gt = 9.8 × 2 = 19.6 ms⁻¹। h = ½gt² = 0.5 × 9.8 × 4 = 19.6 m। দেখো, সংখ্যা দুটো একই এলেও একক আলাদা — এটাই পরীক্ষকের ফাঁদ।

বেগ-সময় লেখচিত্র থেকে সরণ বের করার নিয়ম

এই অংশটা চিত্রনির্ভর, কিন্তু নিয়মটা এক লাইনের: বেগ-সময় লেখচিত্রের অধীন ক্ষেত্রফলই সরণ। আর লেখচিত্রের ঢাল বলে দেয় ত্বরণ — ঢাল ধনাত্মক হলে ত্বরণ, ঋণাত্মক হলে মন্দন, শূন্য হলে সুষম বেগ।

উদাহরণ: বেগ-সময় লেখচিত্রে 0 থেকে 4 সেকেন্ডে বেগ 0 থেকে 8 ms⁻¹-এ উঠলে ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = ½ × 4 × 8 = 16 m — এটাই 4 সেকেন্ডে সরণ। লেখচিত্রে সময়কে X-অক্ষে আর বেগকে Y-অক্ষে নেওয়া হয়, কারণ সময় স্বাধীন চলক।

পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বরের ৫টি কৌশল (আমার পর্যবেক্ষণ)

বেশ কয়েক বছর ধরে ছাত্রদের খাতা দেখে যে ভুলগুলো বারবার চোখে পড়ে, সেগুলোই এখানে তুলে দিলাম।

  1. একক আগে ঠিক করো: km/h থাকলে ms⁻¹-এ বদলে নাও (3.6 দিয়ে ভাগ)। একক না মিলিয়ে সূত্রে বসানোই সবচেয়ে বড় নম্বর-কাটা ভুল।
  2. দিকের চিহ্ন: একদিক ধনাত্মক ধরলে বিপরীত দিকের বেগ-ত্বরণ ঋণাত্মক লিখতে হবে — উদাহরণ ৩-এর মতো অঙ্কে এটাই মূল কথা।
  3. u = 0 কখন: “স্থির অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু” মানেই আদিবেগ শূন্য। এটা না লিখে অঙ্ক শুরু কোরো না।
  4. সূত্র বাছাই: প্রশ্নে যা নেই, সেই রাশিবিহীন সূত্র বেছে নাও। সময় না থাকলে v² = u² + 2as।
  5. উত্তরে একক: শুধু সংখ্যা লিখে থেমো না — শেষ লাইনে একক (ms⁻¹, ms⁻², m) অবশ্যই লিখো।

এককের রূপান্তরে দুর্বলতা থাকলে অষ্টম শ্রেণির পরিমাপ অধ্যায়ের নোটটা একবার দেখে নাও — সেখানে একক রূপান্তরের নিয়ম বিস্তারিত আছে। আর বিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি রসায়নের প্রস্তুতির জন্য রসায়ন ১ম অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোট কাজে লাগবে। পাঠ্যবইয়ের নির্ভুল তথ্যের জন্য NCTB-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে পারো।

অধ্যায়ের ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ (উত্তরসহ)

  1. নিচের কোনটি গতির সমীকরণ নয়? — (ক) v = u + at (খ) s = ut + ½at² (গ) v² = u² + 2as (ঘ) a = (v + u) ÷ t → উত্তর: (ঘ)
  2. সরণের একক কোনটি? — (ক) ms⁻¹ (খ) ms⁻² (গ) m (ঘ) N → উত্তর: (গ)
  3. 36 km/h সমান কত ms⁻¹? — (ক) 6 (খ) 8 (গ) 10 (ঘ) 12 → উত্তর: (গ)
  4. কোনটি ভেক্টর রাশি? — (ক) দ্রুতি (খ) দূরত্ব (গ) বেগ (ঘ) কাজ → উত্তর: (গ)
  5. স্থির অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করলে আদিবেগ — (ক) 1 (খ) 0 (গ) 9.8 (ঘ) অসীম → উত্তর: (খ)
  6. পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ কত? — (ক) 8.9 ms⁻² (খ) 9.8 ms⁻² (গ) 10.8 ms⁻² (ঘ) 0 → উত্তর: (খ)
  7. মন্দন বলতে বোঝায় — (ক) ধনাত্মক ত্বরণ (খ) ঋণাত্মক ত্বরণ (গ) শূন্য ত্বরণ (ঘ) সুষম বেগ → উত্তর: (খ)
  8. পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ কোনটি? — (ক) সোজা পথে হাঁটা (খ) ঘড়ির কাঁটার ঘূর্ণন (গ) পাথর ছোড়া (ঘ) গাড়ি থামানো → উত্তর: (খ)
  9. বেগ-সময় লেখচিত্রের অধীন ক্ষেত্রফল নির্দেশ করে — (ক) ত্বরণ (খ) সরণ (গ) ভরবেগ (ঘ) বল → উত্তর: (খ)
  10. সরণ কখন শূন্য হয়? — (ক) সরলপথে গেলে (খ) বৃত্তাকার পথে ঘুরে ফিরে এলে (গ) দ্রুত চললে (ঘ) কখনোই না → উত্তর: (খ)
  11. u = 0, a = 4 ms⁻², t = 5 s হলে v = ? — (ক) 9 (খ) 16 (গ) 20 (ঘ) 25 → উত্তর: (গ)
  12. সুষম বেগে চলা বস্তুর ত্বরণ — (ক) ধনাত্মক (খ) ঋণাত্মক (গ) শূন্য (ঘ) অসীম → উত্তর: (গ)
  13. v² = u² + 2as — এটি গতির কততম সমীকরণ? — (ক) প্রথম (খ) দ্বিতীয় (গ) তৃতীয় (ঘ) চতুর্থ → উত্তর: (গ)
  14. তাৎক্ষণিক দ্রুতি বলতে বোঝায় — (ক) গড় দ্রুতি (খ) খুব কম সময়ের দ্রুতি (গ) সর্বোচ্চ দ্রুতি (ঘ) শূন্য দ্রুতি → উত্তর: (খ)
  15. পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে সরণের পরিবর্তে ব্যবহার হয় — (ক) সময় (খ) উচ্চতা (গ) ভর (ঘ) বেগ → উত্তর: (খ)

মডেল সৃজনশীল প্রশ্ন ২টি (উত্তরসহ)

সৃজনশীল ১: রাকিব তার বাইক নিয়ে স্থির অবস্থা থেকে 3 ms⁻² সুষম ত্বরণে যাত্রা শুরু করে 10 সেকেন্ড চলল। এরপর সে ত্বরণ বন্ধ করে পরবর্তী 20 সেকেন্ড সুষম বেগে চলল।
ক) ত্বরণ কাকে বলে? ১
খ) “সুষম বেগে গতিশীল বস্তুর ত্বরণ শূন্য” — ব্যাখ্যা করো। ২
গ) প্রথম 10 সেকেন্ডে বাইকের শেষবেগ নির্ণয় করো। ৩
ঘ) মোট 30 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব নির্ণয় করে গতির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো। ৪

উত্তর: ক) সময়ের সাথে বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে। খ) সুষম বেগে বেগের পরিবর্তন হয় না, পরিবর্তন শূন্য বলে ত্বরণও শূন্য। গ) v = u + at = 0 + 3 × 10 = 30 ms⁻¹। ঘ) প্রথম 10 s-এ সরণ s₁ = ut + ½at² = 0 + 0.5 × 3 × 100 = 150 m। পরের 20 s সুষম বেগে: s₂ = vt = 30 × 20 = 600 m। মোট দূরত্ব = 750 m। প্রথম অংশে ত্বরণ থাকায় বেগ বেড়েছে, দ্বিতীয় অংশে ত্বরণ শূন্য বলে বেগ স্থির ছিল — অর্থাৎ গতি প্রথমে ত্বরণযুক্ত পরে সুষম।

সৃজনশীল ২: একটি ভবনের ছাদ থেকে একটি বল স্থির অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হলো। বলটি 3 সেকেন্ডে মাটিতে পড়ল। (g = 10 ms⁻² ধরো)
ক) পড়ন্ত বস্তু কাকে বলে? ১
খ) পাথর ও পালক একসাথে ছাড়লে পাথর আগে পড়ে কেন? ২
গ) 3 সেকেন্ডে বলটির শেষবেগ নির্ণয় করো। ৩
ঘ) ভবনের উচ্চতা নির্ণয় করে দেখাও যে দ্বিতীয় সূত্র (h ∝ t²) সত্য। ৪

উত্তর: ক) স্থির অবস্থা থেকে বিনা বাধায় নিচে পড়া বস্তুকে পড়ন্ত বস্তু বলে। খ) বাতাসের বাধা পালকের ওপর তুলনামূলক বেশি ক্রিয়া করে, তাই গ্যালিলিওর সূত্রের শর্ত (বিনা বাধা) ভঙ্গ হয়। গ) v = gt = 10 × 3 = 30 ms⁻¹। ঘ) h = ½gt² = 0.5 × 10 × 9 = 45 m। t = 1, 2, 3 s-এ h = 5, 20, 45 m — অনুপাত 1 : 4 : 9 = 1² : 2² : 3², অর্থাৎ উচ্চতা সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: গতি ও বেগের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: গতি হলো অবস্থান পরিবর্তনের সাধারণ ধারণা, আর বেগ হলো এর পরিমাপ — একক সময়ে সরণ। গতি স্কেলার ধারণা হিসেবে বলা হলেও, বেগ ভেক্টর রাশি যার মান ও দিক দুটোই আছে।

প্রশ্ন ২: মন্দন কি ঋণাত্মক ত্বরণ?
উত্তর: হ্যাঁ। বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে, গাণিতিকভাবে এটি ঋণাত্মক ত্বরণ। ব্রেক কষলে গাড়ির ত্বরণ ঋণাত্মক হয় — সেটাই মন্দন।

প্রশ্ন ৩: গতির সমীকরণ কয়টি ও কী কী?
উত্তর: প্রধান তিনটি — v = u + at, s = ut + ½at², v² = u² + 2as। এগুলো শুধু সুষম ত্বরণ ও সরলরৈখিক গতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রশ্ন ৪: পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ কত?
উত্তর: অভিকর্ষজ ত্বরণ g = 9.8 ms⁻²। পরীক্ষার অঙ্কে অনেক সময় হিসাব সহজ করতে g = 10 ms⁻² ধরা হয় — প্রশ্নে যা বলা থাকবে সেটাই ব্যবহার করবে।

প্রশ্ন ৫: km/h থেকে m/s-এ রূপান্তর কীভাবে করব?
উত্তর: 3.6 দিয়ে ভাগ করো। যেমন 72 km/h = 72 ÷ 3.6 = 20 ms⁻¹। উল্টোটা (m/s থেকে km/h) করতে 3.6 দিয়ে গুণ করো।

প্রশ্ন ৬: SSC পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?
উত্তর: MCQ আসে সংজ্ঞা, একক ও সূত্র-চেনা থেকে; সৃজনশীলে উদ্দীপক দিয়ে গাণিতিক সমস্যা (গ) ও লেখচিত্র বা সূত্রের সত্যতা যাচাই (ঘ) আসে। এই নোটের উদাহরণগুলো সেই ধাঁচেই সাজানো।

উপসংহার

গতি অধ্যায়টা আসলে ভয়ের কিছু নয় — মাত্র তিনটি সমীকরণ আর কয়েকটা সংজ্ঞা। যেটা নম্বর এনে দেয়, সেটা হলো শৃঙ্খলা: একক ঠিক রাখা, দিকের চিহ্ন ঠিক রাখা, আর প্রশ্ন পড়ে সঠিক সূত্র বাছা। এই নোটের MCQ গুলো নিজে নিজে সমাধান করে দেখো, আর সৃজনশীল দুটো খাতায় লিখে অনুশীলন করো। নিয়মিত চর্চাই এই অধ্যায়ে পূর্ণ নম্বরের চাবি।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp