এইচএসসি আইসিটি ২য় অধ্যায়: কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং

এইচএসসি আইসিটি ২য় অধ্যায়ের মূল প্রশ্নটা এক লাইনে বললে দাঁড়ায় এরকম: এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে, এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের কাছে ডেটা ঠিকঠাক পৌঁছায় কীভাবে? উত্তরটা হলো কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং। এই অধ্যায়ে ডেটা কমিউনিকেশনের উপাদান, ব্যান্ডউইথ, ট্রান্সমিশন পদ্ধতি ও মোড, তারযুক্ত ও তারবিহীন মাধ্যম, নেটওয়ার্কের ধরন, টপোলজি, নেটওয়ার্ক ডিভাইস আর মোবাইল প্রজন্ম — সবকিছু একসাথে গুছিয়ে দেওয়া হলো, যাতে একবার পড়লেই পুরো অধ্যায়টা মাথায় বসে যায়।

আমার অভিজ্ঞতায় এই অধ্যায়টা মুখস্থ করে পার পাওয়া যায় না, বুঝে পড়লে পার পাওয়া যায়। কারণ প্রশ্নগুলো ঘুরেফিরে একই জায়গা থেকে আসে, কিন্তু উদ্দীপকটা প্রতিবার নতুন হয়। একবার যদি বুঝে ফেলো কেন অপটিক্যাল ফাইবার দ্রুত, কেন স্টার টপোলজিতে একটা কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিরা চলে, আর কেন মোবাইল ফোন ফুল-ডুপ্লেক্স — তাহলে উদ্দীপক যেমনই হোক, উত্তর লেখা কঠিন হবে না। যারা HSC ICT Chapter 2 communication system and networking note খুঁজছিলে, তাদের জন্য এই লেখাটাই একটা সম্পূর্ণ রিভিশন নোট হিসেবে সাজানো হয়েছে।

Table of Contents

ডেটা কমিউনিকেশন কী? এর উপাদান কয়টি ও কী কী?

ডেটা কমিউনিকেশন মানে হলো কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ডেটা পাঠানো। তুমি যখন বন্ধুকে মেসেজ পাঠাও, তখন তোমার ফোন থেকে সিগন্যাল টাওয়ার হয়ে বন্ধুর ফোনে ডেটা যায় — এটাই ডেটা কমিউনিকেশন। আর কমিউনিকেশন সিস্টেম হলো সেই পুরো ব্যবস্থাটা, যার মধ্যে উৎস, প্রেরক, মাধ্যম, গ্রাহক আর গন্তব্য সব যুক্ত থাকে।

ডেটা কমিউনিকেশনের মৌলিক উপাদান পাঁচটি। প্রথমে উৎস, অর্থাৎ যেখান থেকে ডেটা তৈরি হয় — যেমন কম্পিউটার বা মোবাইল। দ্বিতীয় প্রেরক, যে ডেটাকে পাঠানোর উপযোগী সিগন্যালে বদলে দেয় — এখানে মডেমের কাজটা মনে রাখো। তৃতীয় মাধ্যম, যার মধ্য দিয়ে ডেটা যায় — তার, ফাইবার কিংবা বাতাস। চতুর্থ গ্রাহক বা প্রাপক, যে সিগন্যাল গ্রহণ করে আবার ব্যবহারযোগ্য ডেটায় ফেরায়। আর পঞ্চম গন্তব্য, অর্থাৎ শেষ ঠিকানা — যে কম্পিউটার বা মানুষের কাছে ডেটাটা পৌঁছানোর কথা।

একটা ভালো ডেটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থার তিনটা গুণ থাকতে হয়। ডেলিভারি, মানে ডেটা ঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে, অন্য কারো কাছে নয়। অ্যাকুরেসি, মানে ডেটা যেমন পাঠানো হয়েছে, ঠিক তেমনই পৌঁছাতে হবে, মাঝপথে বদলে গেলে চলবে না। আর টাইমলিনেস, মানে সময়মতো পৌঁছাতে হবে — ভিডিও কলের ডেটা দুই মিনিট দেরিতে এলে তার কোনো মূল্য থাকে না। পরীক্ষায় এই তিনটা শব্দ প্রায়ই জ্ঞানমূলক প্রশ্নে আসে, তাই শুধু নাম নয়, এক লাইনের ব্যাখ্যাসহ মনে রাখো।

ব্যান্ডউইথ কী? ন্যারো, ভয়েস ও ব্রডব্যান্ডের পার্থক্য কী?

ব্যান্ডউইথ হলো প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু ডেটা এক ডিভাইস থেকে আরেক ডিভাইসে পাঠানো যায়, তার পরিমাপ। এর একক বিট পার সেকেন্ড, সংক্ষেপে bps। মনে রাখার সহজ সূত্র: ৮ বিটে ১ বাইট। তাই ৮০০০ bps মানে প্রতি সেকেন্ডে মোটামুটি ১০০০ বাইট, অর্থাৎ প্রায় ১ কিলোবাইট ডেটা। এই হিসাবটা বুঝে রাখলে ব্যান্ডউইথের অঙ্কে কখনো আটকাবে না।

গতির ভিত্তিতে ব্যান্ডউইথকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। ন্যারো ব্যান্ড সবচেয়ে ধীর — এতে খুব অল্প গতিতে ডেটা যায়, পুরোনো টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা এর উদাহরণ। ভয়েস ব্যান্ড টেলিফোন লাইনের জন্য ব্যবহৃত হয়, গতি মাঝারি — সাধারণ কথাবার্তা আর ধীরগতির ডেটা পাঠাতে এটাই যথেষ্ট ছিল। আর ব্রডব্যান্ড হলো উচ্চগতির ব্যান্ড, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে ১ মেগাবিট বা তার বেশি ডেটা পাঠানো যায়। আজকের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ফাইবার সংযোগ — সবই এই শ্রেণির।

আমি দেখেছি, অনেকেই ব্যান্ডউইথ আর ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিডকে আলাদা জিনিস ভেবে গুলিয়ে ফেলে। আসলে এই অধ্যায়ের ভাষায় দুটো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত — ব্যান্ডউইথই বলে দেয় একটা চ্যানেল দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে কত বিট যেতে পারবে। পরীক্ষায় যখন প্রশ্ন আসে “কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরের ব্যান্ডউইথ বুঝিয়ে লেখো”, তখন উত্তরটা হবে ভয়েস ব্যান্ডের ধারণা দিয়ে — কারণ কীবোর্ডের মতো ধীর ডিভাইসের জন্য খুব বেশি গতির দরকার পড়ে না।

ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি: সিনক্রোনাস, অ্যাসিনক্রোনাস ও আইসোক্রোনাস কী?

ডেটা পাঠানোর সময় প্রেরক আর গ্রাহকের মধ্যে সময়ের মিল থাকা জরুরি। এই মিলের ধরন অনুযায়ী ট্রান্সমিশন পদ্ধতি তিন রকম। অ্যাসিনক্রোনাস পদ্ধতিতে প্রতিটা ক্যারেক্টারের আগে একটা স্টার্ট বিট আর পরে একটা স্টপ বিট জুড়ে দেওয়া হয়। ফলে গ্রাহক বুঝতে পারে কোথা থেকে একটা অক্ষর শুরু আর কোথায় শেষ। এটা সহজ আর সস্তা, কিন্তু স্টার্ট-স্টপ বিটের কারণে গতি কিছুটা কমে যায়। কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডেটা পাঠানো এর চেনা উদাহরণ।

সিনক্রোনাস পদ্ধতিতে ডেটা ব্লক আকারে পাঠানো হয়, প্রতিটা অক্ষরের জন্য আলাদা স্টার্ট-স্টপ বিট লাগে না। প্রেরক আর গ্রাহক একই ক্লক সিগন্যালে চলে, তাই গতি অনেক বেশি। তবে এর জন্য প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের দরকার হয়, আর ব্যবস্থাটা তুলনামূলক জটিল। বড় ফাইল ট্রান্সফার বা কম্পিউটারের মধ্যে দ্রুত ডেটা আদান-প্রদানে সিনক্রোনাস পদ্ধতি ব্যবহার হয়।

আইসোক্রোনাস পদ্ধতি সিনক্রোনাসেরই উন্নত রূপ বলা যায়। এখানে ডেটা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে, নিয়মিত বিরতিতে পাঠানো হয়। ভিডিও কনফারেন্সিং বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মতো কাজে এটা দরকার, কারণ সেখানে শুধু ডেটা পৌঁছালেই হবে না, ঠিক সময়ে পৌঁছাতে হবে। মনে রাখার কৌশল: অ্যাসিনক্রোনাস মানে “অক্ষরে অক্ষরে থেমে থেমে”, সিনক্রোনাস মানে “ব্লকে ব্লকে একটানা”, আর আইসোক্রোনাস মানে “ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট তালে”।

ডেটা ট্রান্সমিশন মোড: সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্স কী?

ডেটা কোন দিকে যাবে, সেটা বোঝায় ট্রান্সমিশন মোড। সিমপ্লেক্স মোডে ডেটা যায় শুধু এক দিকে — প্রেরক শুধু পাঠায়, গ্রাহক শুধু গ্রহণ করে। রেডিও, টেলিভিশন আর পেজার এর উদাহরণ। তুমি রেডিও শুনতে পারো, কিন্তু রেডিও স্টেশনকে কিছু পাঠাতে পারো না। হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে দুই দিকেই ডেটা যায়, কিন্তু একই সময়ে নয়। ওয়াকিটকি এর সেরা উদাহরণ — একজন বলার সময় আরেকজন শোনে, তারপর ভূমিকা বদলায়।

ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে দুই দিকেই একই সময়ে ডেটা আদান-প্রদান চলে। মোবাইল ফোন আর ল্যান্ডফোন এর উদাহরণ — তুমি কথা বলার সময়ই অপর পাশের কথা শুনতে পাও। এছাড়া প্রাপকের সংখ্যার ভিত্তিতে আরও তিনটা মোড আছে। ইউনিকাস্টে একজন প্রেরক থেকে একজন প্রাপক, মাল্টিকাস্টে একজন থেকে নির্দিষ্ট একটা দল, আর ব্রডকাস্টে একজন থেকে সবাই। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে মাল্টিকাস্ট মোড ব্যবহৃত হয়, আর টেলিভিশন সম্প্রচার ব্রডকাস্টের উদাহরণ।

এখানে একটা সাধারণ ভুল হয়: অনেকে হাফ-ডুপ্লেক্স আর ফুল-ডুপ্লেক্সের উদাহরণ উল্টে দেয়। সহজ করে মনে রাখো — ওয়াকিটকিতে “ওভার” বলতে হয়, কারণ একসাথে দুজন বলতে পারে না, তাই হাফ। আর ফোনে “ওভার” বলতে হয় না, দুজন একসাথে বলতে পারে, তাই ফুল। এই একটা বাস্তব ছবি মনে থাকলে MCQ-তে ভুল হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

তারযুক্ত মাধ্যম: টুইস্টেড পেয়ার, কো-অ্যাক্সিয়াল ও অপটিক্যাল ফাইবার

তারযুক্ত মাধ্যম মানে তারের মধ্য দিয়ে ডেটা পাঠানো। সবচেয়ে পরিচিত তিনটা তার হলো টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল আর অপটিক্যাল ফাইবার। টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে দুটো তামার তার পেঁচিয়ে জোড়া বানানো হয়। এই প্যাঁচের কারণে বাইরের তড়িৎচুম্বকীয় হস্তক্ষেপ কিছুটা কমে। এর দুই রকম আছে — আনশিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার, অর্থাৎ UTP, আর শিল্ডেড টুইস্টেড পেয়ার, অর্থাৎ STP। বাড়ির ল্যান সংযোগে আর টেলিফোন লাইনে এই ক্যাবল প্রচুর ব্যবহৃত হয়। দাম কম, সহজে পাওয়া যায় — এটাই এর বড় সুবিধা। তবে দূরত্ব বাড়লে সিগন্যাল দুর্বল হয়, আর গতি ফাইবারের ধারেকাছেও নয়।

কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবলে মাঝখানে একটা তামার তার থাকে, তার চারপাশে অন্তরক, তারপর ধাতব জালি, আর সবশেষে বাইরের আবরণ। টেলিভিশনের ক্যাবল সংযোগে এই ক্যাবল তুমি দেখেছো। টুইস্টেড পেয়ারের চেয়ে এতে হস্তক্ষেপ কম, আর তুলনামূলক বেশি দূরত্ব পর্যন্ত সিগন্যাল ঠিক থাকে। তবে এটা ভারী, আর আধুনিক উচ্চগতির নেটওয়ার্কে ফাইবারের কাছে পিছিয়ে পড়েছে।

অপটিক্যাল ফাইবার কীভাবে কাজ করে?

অপটিক্যাল ফাইবার কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত সরু তন্তু। এর গঠনে তিনটা স্তর থাকে — মাঝখানে কোর, তার চারপাশে ক্ল্যাডিং, আর সবচেয়ে বাইরে জ্যাকেট বা আবরণ। আলো কোরের মধ্য দিয়ে যায়, আর ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরাঙ্ক কোরের চেয়ে কম হওয়ায় আলো বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে কোরের ভেতরেই থেকে যায়। এভাবেই আলোর পালস আকারে ডেটা দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেয়, প্রায় আলোর গতিতে।

ফাইবারের সুবিধা অনেক। গতি অত্যন্ত বেশি, ব্যান্ডউইথ বিশাল, তড়িৎচুম্বকীয় হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, ওজন হালকা, আর সিগন্যাল ক্ষয় খুব কম — তাই সমুদ্রের তলা দিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ইন্টারনেট যায় এই ফাইবার দিয়েই। অসুবিধাও আছে: দাম বেশি, স্থাপন করা কঠিন, আর U আকারে বেশি বাঁকানো যায় না। বোর্ড পরীক্ষায় “ডেটা ট্রান্সমিশনে আলোকরশ্মি পরিবাহী তার উত্তম — ব্যাখ্যা করো” টাইপের প্রশ্নে এই সুবিধা-অসুবিধার তালিকাটাই মূল উত্তর।

তারবিহীন মাধ্যম: রেডিও, মাইক্রোওয়েভ, ইনফ্রারেড ও স্যাটেলাইট

তারবিহীন মাধ্যমে কোনো তার লাগে না — তরঙ্গের মাধ্যমে ডেটা যায়। রেডিও ওয়েভ দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে, তাই রেডিও সম্প্রচার আর মোবাইল যোগাযোগে এর ব্যবহার। মাইক্রোওয়েভ সরলরেখায় যায়, তাই টাওয়ার থেকে টাওয়ারে ডেটা পাঠাতে দুই প্রান্তে অ্যান্টেনা মুখোমুখি থাকতে হয়। ইনফ্রারেড স্বল্প দূরত্বে কাজ করে — টিভির রিমোট এর চেনা উদাহরণ, দেয়ালের ওপারে এটা কাজ করে না। আর স্যাটেলাইট যোগাযোগে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের মাধ্যমে দূরবর্তী জায়গায় সিগন্যাল পাঠানো হয়, যেখানে তার বসানো অসম্ভব বা ব্যয়বহুল।

তারবিহীন প্রযুক্তির মধ্যে যেগুলো পরীক্ষায় বারবার আসে, সেগুলো আলাদা করে মনে রাখো। ওয়াইফাই হলো স্বল্প পরিসরের বেতার নেটওয়ার্ক — বাড়ি, স্কুল, অফিসের ভেতরে ল্যাপটপ-ফোন যুক্ত করতে এটাই ব্যবহৃত হয়। ওয়াইম্যাক্স এর চেয়ে বড় পরিসরে কাজ করে, একটা শহরজুড়ে ব্রডব্যান্ড দিতে পারে। ব্লুটুথ খুব স্বল্প দূরত্বের জন্য — ফোন থেকে হেডফোন, ফোন থেকে ল্যাপটপে ছবি পাঠানো। আর হটস্পট হলো সেই জায়গা বা ডিভাইস, যেখান থেকে বেতার ইন্টারনেট পাওয়া যায়। বোর্ডের উদ্দীপকে “IEEE 802.15 স্ট্যান্ডার্ডের প্রটোকলে ছবি পাঠানো হলো” লেখা থাকলে বুঝবে, সেটা ব্লুটুথের দিকে ইঙ্গিত করছে।

এখানে একটা তুলনা মনে রাখলে সৃজনশীলে কাজে দেবে। ওয়াইফাইয়ের পরিসর ছোট কিন্তু গতি ভালো, ওয়াইম্যাক্সের পরিসর বড় কিন্তু স্থাপন ব্যয় বেশি, আর ব্লুটুথের পরিসর সবচেয়ে ছোট কিন্তু বিদ্যুৎ খরচ কম। তাই উদ্দীপকে যখন প্রশ্ন হবে “কলেজের তিন ভবনকে তার ছাড়া যুক্ত করতে কোন প্রযুক্তি উপযুক্ত”, তখন উত্তরটা হবে পরিসর আর ব্যয়ের যুক্তি দিয়ে — শুধু নাম লিখে দিলে পূর্ণ নম্বর মেলে না।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী? PAN, LAN, MAN ও WAN-এর পার্থক্য

দুই বা ততোধিক কম্পিউটার যখন পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে এবং ডেটা ও রিসোর্স ভাগাভাগি করতে পারে, তখন তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে। নেটওয়ার্কের সুবিধা চোখের সামনেই আছে — একটা প্রিন্টার দিয়ে পুরো অফিসের সবাই প্রিন্ট নিতে পারে, একটা ফাইল এক কম্পিউটার থেকে আরেকটায় মুহূর্তে পাঠানো যায়, আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায়।

ভৌগোলিক পরিসর অনুযায়ী নেটওয়ার্ক চার ধরনের। PAN, অর্থাৎ পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক — একজন মানুষের চারপাশের ছোট পরিসর, যেমন ফোন-ল্যাপটপ-হেডফোনের সংযোগ। LAN, অর্থাৎ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক — একটা ভবন বা স্কুল-অফিসের ভেতরে। MAN, অর্থাৎ মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক — একটা শহরজুড়ে। আর WAN, অর্থাৎ ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক — দেশজুড়ে বা বিশ্বজুড়ে, ইন্টারনেটই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। পরিসরের ক্রমটা মনে রাখো: PAN সবচেয়ে ছোট, তারপর LAN, তারপর MAN, সবচেয়ে বড় WAN।

নেটওয়ার্কের কাঠামো অনুযায়ী আরও দুটো ধারণা আছে। ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে একটা শক্তিশালী কম্পিউটার সার্ভার হিসেবে কাজ করে, বাকিরা ক্লায়েন্ট হিসেবে তার কাছ থেকে সেবা নেয়। আর পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে সব কম্পিউটার সমান মর্যাদার — প্রতিটাই প্রয়োজনে সার্ভার হতে পারে, আবার ক্লায়েন্টও হতে পারে। ছোট অফিসে পিয়ার-টু-পিয়ার চলে, কিন্তু বড় প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ আর নিরাপত্তার জন্য ক্লায়েন্ট-সার্ভারই উপযুক্ত।

নেটওয়ার্ক টপোলজি: বাস, রিং, স্টার, মেশ, ট্রি ও হাইব্রিড

টপোলজি মানে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে কীভাবে যুক্ত আছে, তার নকশা। বাস টপোলজিতে সব কম্পিউটার একটা মূল ক্যাবলের সাথে যুক্ত থাকে। সস্তা আর সহজ, কিন্তু মূল ক্যাবল নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল। রিং টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো বৃত্তাকারে যুক্ত, ডেটা এক দিকে ঘুরে ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছায়। একটা কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো বৃত্ত ভেঙে যেতে পারে, যদিও আধুনিক ব্যবস্থায় এর সমাধান আছে।

স্টার টপোলজিতে সব কম্পিউটার একটা কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচের সাথে যুক্ত থাকে। এটাই আজ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত টপোলজি, কারণ একটা কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিরা চলতে থাকে, আর নতুন কম্পিউটার যোগ করা সহজ। তবে কেন্দ্রীয় ডিভাইস নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। মেশ টপোলজিতে প্রতিটা কম্পিউটার প্রতিটার সাথে সরাসরি যুক্ত, তাই নির্ভরযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু ক্যাবলের খরচও সবচেয়ে বেশি। ট্রি টপোলজি স্টার আর বাসের মিশেল — শাখা-প্রশাখা আকারে সাজানো। আর দুই বা ততোধিক টপোলজি মিলে তৈরি হয় হাইব্রিড টপোলজি — ইন্টারনেট নিজেই হাইব্রিডের উদাহরণ।

টপোলজিবড় সুবিধাবড় অসুবিধা
বাসসস্তা ও সহজমূল ক্যাবল নষ্ট হলে সব বন্ধ
রিংডেটা চলাচল সুশৃঙ্খলএকটা নোড নষ্ট হলে ঝুঁকি
স্টারএকটা কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিরা চলেকেন্দ্রীয় ডিভাইস নষ্ট হলে সব বন্ধ
মেশসবচেয়ে নির্ভরযোগ্যসবচেয়ে ব্যয়বহুল
ট্রিবড় নেটওয়ার্ক সাজানো সহজমূল হাব নষ্ট হলে শাখা অচল
হাইব্রিডপ্রয়োজনমতো মেশানো যায়ব্যবস্থাপনা জটিল

নেটওয়ার্ক ডিভাইস: মডেম, হাব, সুইচ, রাউটার ও গেটওয়ে

নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলোর কাজ গুলিয়ে ফেলাই এই অধ্যায়ের সবচেয়ে সাধারণ ভুল। মডেমের কাজ মডুলেশন আর ডিমডুলেশন — কম্পিউটারের ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগে বদলে টেলিফোন লাইনে পাঠানো, আর ফিরতি পথে অ্যানালগকে আবার ডিজিটালে ফেরানো। হাবের কাজ সহজ: একটা পোর্টে আসা ডেটা সব পোর্টে পাঠিয়ে দেওয়া। তাই হাবে ডেটা ট্র্যাফিক বেশি হয়, আর নিরাপত্তাও কম।

সুইচ হাবের চেয়ে বুদ্ধিমান — সে ডেটা শুধু সেই কম্পিউটারেই পাঠায়, যার ঠিকানা লেখা আছে। ফলে ট্র্যাফিক কমে, গতি বাড়ে। রাউটারের কাজ দুটো আলাদা নেটওয়ার্ককে যুক্ত করা আর ডেটার জন্য সেরা পথ বেছে নেওয়া — এই পথ বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াকেই রাউটিং বলে। রিপিটার দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী করে আবার পাঠায়, যাতে দূরত্ব বাড়লেও সিগন্যাল টিকে থাকে। ব্রিজ দুটো ল্যান সেগমেন্টকে যুক্ত করে। আর গেটওয়ে দুটো ভিন্ন প্রটোকলের নেটওয়ার্কের মধ্যে অনুবাদকের কাজ করে। পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে “রাউটার কী?” — উত্তরটা এক লাইনে: ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী ডিভাইস।

মোবাইল কমিউনিকেশন: 1G থেকে 5G প্রজন্মের বিবর্তন

মোবাইল প্রযুক্তির প্রজন্মগুলো মনে রাখা সহজ, যদি বিবর্তনটা গল্পের মতো দেখো। 1G ছিল অ্যানালগ প্রযুক্তি — শুধু ভয়েস কল, গুণমান খারাপ, নিরাপত্তা কম। 2G এলো ডিজিটাল হয়ে — ভয়েসের সাথে এসএমএস, GSM আর CDMA এই প্রজন্মের পরিচিত নাম। 3G-তে এলো দ্রুত ডেটা আর ভিডিও কল — মোবাইলে ইন্টারনেট তখন সত্যিকার অর্থে ব্যবহারযোগ্য হলো। 4G, অর্থাৎ LTE, দিলো উচ্চগতির মোবাইল ব্রডব্যান্ড — ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন ক্লাস, সবকিছু হাতের মুঠোয় এলো। আর 5G-র প্রতিশ্রুতি হলো আরও বেশি গতি আর অত্যন্ত কম লেটেন্সি, যা দিয়ে স্মার্ট শহর, স্বয়ংক্রিয় যান আর রিয়েল-টাইম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।

প্রজন্মপ্রকৃতিমূল বৈশিষ্ট্য
1Gঅ্যানালগশুধু ভয়েস কল
2Gডিজিটালভয়েস + এসএমএস, GSM/CDMA
3Gডিজিটালদ্রুত ডেটা, ভিডিও কল
4Gডিজিটালউচ্চগতির মোবাইল ব্রডব্যান্ড
5Gডিজিটালঅতি উচ্চ গতি, অতি কম লেটেন্সি

উদ্দীপকে যখন দেখবে কেউ টেলিটক সিম ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক পরিবেশের ডেটা স্থানান্তর করছে, তখন বুঝতে হবে সেটা 3G-র দিকে ইঙ্গিত। আর যখন দেখবে কেউ মোবাইলে উচ্চগতির ভিডিও স্ট্রিমিং করছে, সেটা 4G-র গল্প। প্রজন্মের পার্থক্য লিখতে গেলে শুধু “গতি বেশি” লিখো না — কোন প্রজন্মে কী নতুন এলো, সেটাই লিখো। এটাই খ ও গ নম্বরের প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর এনে দেয়।

এইচএসসি আইসিটি ২য় অধ্যায় MCQ: উত্তরসহ ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

নিচের MCQ-গুলো নিজে চেষ্টা করে তারপর উত্তর মিলিয়ে নাও। এভাবে পড়লে শুধু উত্তর মুখস্থ হবে না, ভুলের জায়গাটাও ধরা পড়বে।

  1. ডেটা কমিউনিকেশনের মৌলিক উপাদান কয়টি? — ৫টি
  2. ব্যান্ডউইথের একক কী? — bps, অর্থাৎ বিট পার সেকেন্ড
  3. ১ বাইট সমান কত বিট? — ৮ বিট
  4. ব্রডব্যান্ডে ডেটা স্থানান্তরের গতি কত বা তার বেশি? — ১ Mbps
  5. কোন ট্রান্সমিশনে প্রতিটা ক্যারেক্টারের আগে স্টার্ট বিট আর পরে স্টপ বিট থাকে? — অ্যাসিনক্রোনাস
  6. কোন ট্রান্সমিশনে ডেটা ব্লক আকারে পাঠানো হয়? — সিনক্রোনাস
  7. রেডিও কোন ট্রান্সমিশন মোডের উদাহরণ? — সিমপ্লেক্স
  8. ওয়াকিটকি কোন মোডের উদাহরণ? — হাফ-ডুপ্লেক্স
  9. মোবাইল ফোন কোন মোডের উদাহরণ? — ফুল-ডুপ্লেক্স
  10. ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে কোন মোড ব্যবহৃত হয়? — মাল্টিকাস্ট
  11. UTP-এর পূর্ণরূপ কী? — Unshielded Twisted Pair
  12. অপটিক্যাল ফাইবার কোন নীতিতে কাজ করে? — পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  13. অপটিক্যাল ফাইবারের মাঝের অংশের নাম কী? — কোর
  14. ক্ল্যাডিংয়ের কাজ কী? — আলোকে কোরের ভেতরে আটকে রাখা
  15. ইন্টারনেট কোন ধরনের টপোলজি? — হাইব্রিড
  16. স্টার টপোলজির কেন্দ্রীয় ডিভাইস নষ্ট হলে কী হয়? — পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়
  17. দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে কোন ডিভাইস? — রাউটার
  18. ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগে রূপান্তরকে কী বলে? — মডুলেশন
  19. 2G প্রযুক্তির দুটি উদাহরণ কী? — GSM ও CDMA
  20. ব্লুটুথ কোন স্ট্যান্ডার্ডের প্রটোকল ব্যবহার করে? — IEEE 802.15

সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা: দুটি উদ্দীপক ও উত্তর-কৌশল

উদ্দীপক ১: একটি কলেজের তিনটি ভবনে তিনটি আলাদা ল্যান আছে। অধ্যক্ষ সব ভবনকে এক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে চান, কিন্তু ভবনগুলোর দূরত্ব বেশি হওয়ায় তার বসানো কঠিন। ক. ব্যান্ডউইথ কী? খ. স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট করা যায় এমন ব্যবস্থা বুঝিয়ে লেখো। গ. উদ্দীপকের ভবনগুলোকে তার ছাড়া যুক্ত করতে কোন প্রযুক্তি উপযুক্ত, ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে ওয়াইম্যাক্স বনাম ওয়াইফাই — কোনটি বেশি উপযুক্ত, বিশ্লেষণ করো।

এই উদ্দীপকের গ নম্বরে উত্তর হবে ওয়াইম্যাক্সের দিকে, কারণ পরিসর বড় আর ভবনগুলোর দূরত্ব বেশি। আর ঘ নম্বরে তুলনা লিখতে হবে পরিসর, ব্যয় আর গতির যুক্তি দিয়ে — শুধু “ওয়াইম্যাক্স ভালো” লিখলে হবে না, কেন ভালো সেটা দেখাতে হবে।

উদ্দীপক ২: রিমা তার গ্রামের বাড়িতে ফাইবার সংযোগ নিয়েছে, আর তার ভাই মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে। রিমার সংযোগে ভিডিও ক্লাস নির্বিঘ্নে চলে, কিন্তু ভাইয়ের সংযোগে মাঝে মাঝে আটকে যায়। ক. মডেম কী? খ. অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যান্ডউইথ বুঝিয়ে লেখো। গ. রিমার সংযোগ দ্রুত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো। ঘ. গ্রামের মতো জায়গায় ফাইবার বনাম মোবাইল নেটওয়ার্ক — কোনটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি টেকসই, মতামত দাও।

এখানে গ নম্বরের মূল কথা হলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন, উচ্চ ব্যান্ডউইথ আর তড়িৎচুম্বকীয় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তি। আর ঘ নম্বরে দুই পক্ষের যুক্তিই দিতে হবে — ফাইবারের গতি ও স্থিতি বনাম মোবাইলের সহজলভ্যতা — তারপর নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি সাজাতে হবে।

পরীক্ষার হলে এই অধ্যায়ে ভালো করার কৌশল

প্রথম কাজ: সংজ্ঞাগুলো এক লাইনে, নিজের ভাষায় লিখতে শেখো। “ব্যান্ডউইথ কী” প্রশ্নে তিন লাইনের রচনা লিখলে সময় নষ্ট, আবার শুধু “ডেটা পাঠানোর হার” লিখলেও পূর্ণ নম্বর মেলে না। মাঝপথটা ধরো — সংজ্ঞা, একক, আর একটা উদাহরণ। দ্বিতীয় কাজ: পার্থক্যের প্রশ্নগুলো ছক আকারে লেখো। সিনক্রোনাস বনাম অ্যাসিনক্রোনাস, হাব বনাম সুইচ, ওয়াইফাই বনাম ওয়াইম্যাক্স — ছকে লিখলে পরীক্ষক এক নজরে বুঝতে পারেন, আর তোমারও পয়েন্ট বাদ পড়ে না।

তৃতীয় কাজ: উদ্দীপক পড়ার সময় প্রথমে খুঁজে নাও, কোন টপিকের দিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। “তার ছাড়া, দূরত্ব বেশি” দেখলেই ওয়াইম্যাক্স, “একটা কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিরা চলে” দেখলেই স্টার টপোলজি, “দুজন একসাথে কথা বলতে পারে” দেখলেই ফুল-ডুপ্লেক্স। এই ইঙ্গিত চেনার অভ্যাসটা গড়ে উঠলে সৃজনশীল প্রশ্ন আর ভয়ের বিষয় থাকে না। আর শেষ কথা — এই অধ্যায়ের সাথে সংখ্যা পদ্ধতির সম্পর্কটা মাথায় রাখো। ডেটা কমিউনিকেশন বুঝলে পরের অধ্যায়ের বাইনারি আর ডিজিটাল ডিভাইসের ধারণাও সহজ লাগবে। এ বিষয়ে আরও পড়তে চাইলে আমাদের এইচএসসি আইসিটি ৩য় অধ্যায়: সংখ্যা পদ্ধতি নোট আর এইচএসসি আইসিটি ৪র্থ অধ্যায়: ওয়েব ডিজাইন ও HTML নোট দেখে নিতে পারো। প্রোগ্রামিং আর ডেটাবেসের নোটের জন্য রয়েছে ৫ম অধ্যায়: প্রোগ্রামিং ভাষা এবং ৬ষ্ঠ অধ্যায়: ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ডেটা কমিউনিকেশন ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্যে পার্থক্য কী? ডেটা কমিউনিকেশন হলো ডেটা পাঠানোর প্রক্রিয়া, আর কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো সেই প্রক্রিয়ার জন্য যুক্ত কম্পিউটারগুলোর ব্যবস্থা। একটা প্রক্রিয়া, আরেকটা কাঠামো — এটুকু বুঝলেই পার্থক্য পরিষ্কার।

ব্যান্ডউইথ বেশি হলে কি সবসময় ইন্টারনেট দ্রুত হবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হ্যাঁ, কিন্তু সবসময় নয়। ব্যান্ডউইথ বেশি থাকলেও সার্ভারের গতি, নেটওয়ার্কের ভিড় আর ডিভাইসের ক্ষমতা গতিকে প্রভাবিত করে। তাই ব্যান্ডউইথ একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, একমাত্র কারণ নয়।

অপটিক্যাল ফাইবার কেন তামার তারের চেয়ে ভালো? কারণ এতে আলোর গতিতে ডেটা যায়, ব্যান্ডউইথ অনেক বেশি, তড়িৎচুম্বকীয় হস্তক্ষেপ হয় না, আর দীর্ঘ দূরত্বে সিগন্যাল ক্ষয় খুব কম। তবে দাম বেশি আর স্থাপন কঠিন — এই দুটো অসুবিধাও মনে রাখতে হবে।

হাব আর সুইচের মধ্যে পার্থক্য কী? হাব ডেটা সব পোর্টে পাঠায়, সুইচ শুধু নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠায়। তাই সুইচে ট্র্যাফিক কম, গতি বেশি, আর নিরাপত্তাও ভালো।

স্টার টপোলজি কেন সবচেয়ে জনপ্রিয়? কারণ একটা কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিরা চলে, নতুন কম্পিউটার যোগ করা সহজ, আর সমস্যা খুঁজে বের করাও সহজ। কেন্দ্রীয় ডিভাইসের ওপর নির্ভরতা এর একমাত্র বড় দুর্বলতা।

2G, 3G, 4G-র মূল পার্থক্য কী? 2G ডিজিটাল ভয়েস আর এসএমএস এনেছিল, 3G দ্রুত ডেটা আর ভিডিও কল এনেছিল, আর 4G এনেছিল উচ্চগতির মোবাইল ব্রডব্যান্ড। প্রতিটা প্রজন্ম আগেরটার চেয়ে বেশি ডেটা গতি দিয়েছে।

এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন আসে? জ্ঞানমূলক প্রশ্নে সংজ্ঞা আসে, অনুধাবনে পার্থক্য আর ব্যাখ্যা আসে, আর সৃজনশীলে উদ্দীপকভিত্তিক প্রয়োগ আর উচ্চতর চিন্তন আসে। তাই সংজ্ঞা মুখস্থের পাশাপাশি উদ্দীপক চেনার অভ্যাসটাই আসল প্রস্তুতি।

উপসংহার

শেষ কথা একটাই — এই অধ্যায়টা মুখস্থের নয়, ছবি দেখে বোঝার। চোখ বন্ধ করে একবার ভাবো: তোমার মেসেজটা ফোন থেকে টাওয়ারে, টাওয়ার থেকে ফাইবারে, ফাইবার থেকে আবার টাওয়ারে, তারপর বন্ধুর ফোনে — এই যাত্রাটা মাথায় আঁকতে পারলেই অধ্যায়টা তোমার। আজকের নোটটা দুই-তিনবার রিভিশন দাও, MCQ-গুলো নিজে চেষ্টা করো, আর সৃজনশীলের উদ্দীপক দুটো খাতায় লিখে অনুশীলন করো। কোনো প্রশ্ন আটকে গেলে বইয়ের সংজ্ঞার সাথে এই নোটের ব্যাখ্যা মিলিয়ে নাও — দেখবে, উত্তরটা নিজেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

অফিসিয়াল পাঠ্যবই ও সিলেবাস যাচাইয়ের জন্য এনসিটিবির ওয়েবসাইট দেখতে পারো: nctb.gov.bd। শুভকামনা রইল তোমার পরীক্ষার জন্য — ধারাবাহিক অনুশীলনই এই অধ্যায়ে ভালো নম্বরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp