
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর (Junior Scholarship Exam 2026) ফরম পূরণের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫–২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ শেষ করতে পারেনি, কেবল তারাই বিলম্ব ফি ছাড়া এই সুযোগ পাবে। সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখও ২৯ অক্টোবর।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান ফরম পূরণ শেষ করতে পারেনি — এমন তথ্য পৌঁছেছিল বোর্ডের কাছে। ফলে বাদ পড়ার আশঙ্কায় ছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক। এই বর্ধিত সময়ই তাদের জন্য শেষ ভরসা। এই পোস্টে আপনি জানবেন নতুন সময়সূচির পূর্ণ বিবরণ, কারা এই সুযোগ পাবেন, ফি জমার সঠিক নিয়ম, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সম্পূর্ণ রুটিন, বোর্ডের নির্দেশনা এবং ভালো ফলের জন্য প্রস্তুতির কার্যকর কৌশল।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন সময়সূচি কী?
সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা যাবে ২৫ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এই পাঁচ দিনে যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি, তারা বিলম্ব ফি ছাড়াই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। সোনালী সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার শেষ সময়ও রাখা হয়েছে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে।
একটি বিষয় লক্ষণীয় — এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফরম পূরণের সময় বাড়াল ঢাকা বোর্ড। সময়সীমা পরিবর্তনের পূর্ণ চিত্রটি একনজরে দেখে নিন:
| বিজ্ঞপ্তির তারিখ | ফরম পূরণের সময়সীমা | ফি জমার শেষ তারিখ |
|---|---|---|
| ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১–১২ সেপ্টেম্বর | ১৩ সেপ্টেম্বর |
| ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪–২৩ সেপ্টেম্বর | ২৪ সেপ্টেম্বর |
| ১৭ অক্টোবর ২০২৬ (সর্বশেষ) | ২৫–২৯ অক্টোবর | ২৯ অক্টোবর |
প্রথম দফায় ২৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে ১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় দেওয়া হয়েছিল। অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো শেষ করতে না পারায় ১৩ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে সময় বাড়িয়ে ১৪–২৩ সেপ্টেম্বর করা হয়। এবার তৃতীয় দফায় বোর্ড আরও এক ধাপ এগিয়ে ২৫–২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সুযোগ দিল — তবে এবারের সুযোগটি আগের দুই দফার মতো সবার জন্য নয়, কেবল পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।
এই বর্ধিত সুযোগ কারা পাবেন, কারা পাবেন না?
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট করে বলেছে — শুধুমাত্র সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সুযোগ পাবে, যারা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি। অর্থাৎ, যে প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে সময়মতো ফরম পূরণ শেষ করেছে, তাদের শিক্ষার্থীরা এই বর্ধিত সময়ের আওতায় আসবে না। সুযোগটি কেবল পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সংরক্ষিত।
অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে — ৪০ শতাংশের এই নিয়মটি আসলে কী? জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের সব শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করতে পারে না; নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর (সাধারণত মেধাক্রম অনুযায়ী বাছাইকৃত) ফরম পূরণ করতে পারে। এই সীমার মধ্যেই যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি, তারাই এখন ২৫–২৯ অক্টোবরের মধ্যে কাজটি সেরে নিতে পারবে।
আপনার সন্তান অষ্টম শ্রেণিতে পড়লে এখনই তার প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন — প্রতিষ্ঠানটি এই বর্ধিত সুযোগের আওতায় পড়ে কিনা এবং আপনার সন্তানের ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে কিনা। শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা এড়াতে আগেভাগে খোঁজ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ফরম পূরণ ও ফি জমা দেবেন কীভাবে?
ফরম পূরণের কাজটি শিক্ষার্থী বা অভিভাবক সরাসরি করতে পারেন না — এটি করে থাকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান প্রধান বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে শিক্ষার্থীদের তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করবেন এবং সোনালী সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি ২৯ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেখে নিন:
- শিক্ষার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা: প্রতিষ্ঠান প্রধান ৬ষ্ঠ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করবেন এবং নির্ধারিত ৪০ শতাংশের মধ্যে কারা থাকছে তা নিশ্চিত করবেন।
- অনলাইনে ফরম পূরণ: বোর্ডের নির্ধারিত পোর্টালে লগইন করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর তথ্য (নাম, জন্মতারিখ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর) যাচাই করে ফরম পূরণ সম্পন্ন করা।
- ফি জমার স্লিপ তৈরি: ফরম পূরণ শেষে সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের স্লিপ তৈরি করা।
- ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফি জমা: সোনালী সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং জমার রসিদ সংরক্ষণ করা।
সুখবর হলো, এবারের বর্ধিত সময়ে বিলম্ব ফি ছাড়াই ফরম পূরণ করা যাবে। তবে একটি সতর্কবাণী মনে রাখুন — ২৯ অক্টোবরের পর আর কোনো সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বোর্ড বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তাই শেষ দিনের অপেক্ষা না করে আগেভাগেই কাজ শেষ করার পরামর্শ দিচ্ছি। শেষ মুহূর্তে সার্ভার জ্যাম বা ব্যাংকিং জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে হবে? (সম্পূর্ণ রুটিন)
২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৮ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) এবং শেষ হবে ১৫ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার)। সারাদেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে চার দিনে চারটি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সম্পূর্ণ রুটিনটি নিচে দেওয়া হলো:
| তারিখ | বার | বিষয় | পূর্ণমান | সময় |
|---|---|---|---|---|
| ৮ ডিসেম্বর | মঙ্গলবার | বাংলা | ১০০ | সকাল ১০টা – বেলা ১টা |
| ১০ ডিসেম্বর | বৃহস্পতিবার | ইংরেজি | ১০০ | সকাল ১০টা – বেলা ১টা |
| ১৩ ডিসেম্বর | রোববার | গণিত | ১০০ | সকাল ১০টা – বেলা ১টা |
| ১৫ ডিসেম্বর | মঙ্গলবার | বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | ৫০ + ৫০ = ১০০ | সকাল ১০টা – বেলা ১টা |
শেষ দিনের পরীক্ষাটি একটু ভিন্ন — সেদিন দুটি বিষয়ের পরীক্ষা একসঙ্গে হবে। বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা (১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা — মোট তিন ঘণ্টায় দুটি বিষয় শেষ হবে। চারটি বিষয় মিলিয়ে মোট ৪০০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত শিক্ষাপঞ্জিতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ১৫ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ছিল। তবে বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা কিছুটা এগিয়ে এনে ৮–১৫ ডিসেম্বরের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ছয়টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগেই প্রতিটি নির্দেশনা ভালোভাবে জেনে নিন:
- ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিতি: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। দেরি করে গেলে মানসিক চাপ বাড়ে এবং পরীক্ষা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- নির্ধারিত সময় মেনে পরীক্ষা: প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। বিশেষ করে শেষ দিনে বিজ্ঞান (দেড় ঘণ্টা) ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (দেড় ঘণ্টা) — দুই বিষয়ের সময় আলাদাভাবে মাথায় রাখুন।
- সাত দিন আগে প্রবেশপত্র সংগ্রহ: পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবে। প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না।
- OMR ফরম সঠিকভাবে পূরণ: উত্তরপত্রের OMR ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না — OMR মেশিনে ভাঁজ করা খাতা পড়তে সমস্যা হয়, ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
- অনুমোদিত ক্যালকুলেটর: পরীক্ষায় বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। প্রোগ্রামেবল বা অসাধারণ ফিচারের ক্যালকুলেটর নিয়ে যাবেন না।
- মোবাইল ফোন নিষেধ: কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোনসহ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনতে পারবেন না। ভুলেও ফোন নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকবেন না — ধরা পড়লে পরীক্ষা বাতিল হতে পারে।
ফরম পূরণের আগে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন (চেকলিস্ট)
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ফরম পূরণের সময় ছোট ছোট কিছু ভুল পরে বড় জটিলতা তৈরি করে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিভাবকদের জন্য একটি কার্যকর চেকলিস্ট:
- তথ্যের অমিল যাচাই করুন: শিক্ষার্থীর নাম, জন্মতারিখ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর মূল সনদ ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নিন। একবার ফরম জমা হয়ে গেলে সংশোধন করা জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
- ৪০% কোটার নিয়ম মেনে চলুন: শিক্ষার্থী নির্বাচনে মেধাক্রম ও নীতিমালা অনুসরণ করুন। নীতিমালা লঙ্ঘন হলে বোর্ড আপত্তি তুলতে পারে।
- ফি জমার রসিদ সংরক্ষণ করুন: সোনালী সেবায় ফি জমা দেওয়ার রসিদ যত্নে রাখুন — এটি ফি পরিশোধের একমাত্র প্রমাণ।
- শেষ দিনের অপেক্ষা করবেন না: ২৯ অক্টোবর শেষ তারিখ হলেও আগেভাগে শেষ করুন। শেষ মুহূর্তে সার্ভার জট বা ব্যাংকিং সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
- ফরমের প্রিন্ট কপি যাচাই করুন: অনলাইনে ফরম পূরণের পর প্রিন্ট নিয়ে প্রতিটি তথ্য আরেকবার মিলিয়ে দেখুন।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো করতে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি হয় অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে — তাই বোর্ড বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক ধারণা স্পষ্ট করাই ভালো ফলের মূল কৌশল। গত বছরগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মুখস্থবিদ্যার চেয়ে ধারণাভিত্তিক প্রশ্নই বেশি আসে। ফরম পূরণ শেষ হলে পরীক্ষার বাকি প্রায় সাত সপ্তাহের প্রস্তুতি এভাবে সাজান:
বাংলা: ব্যাকরণে পূর্ণ নম্বরের লক্ষ্য
বাংলা প্রশ্নে ব্যাকরণ অংশে নিয়ম জানলেই পূর্ণ নম্বর তোলা সম্ভব। সমাস, কারক, সন্ধি, বাক্য রূপান্তর — প্রতিটি নিয়ম উদাহরণসহ অনুশীলন করুন। রচনা বা ভাব-সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কাঠামো মুখস্থ না করে নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাস গড়ুন; মূল্যায়নে মৌলিকত্বের নম্বর থাকে।
ইংরেজি: গ্রামার + নিয়মিত লেখার অভ্যাস
ইংরেজিতে গ্রামার অংশ (tense, voice, narration, transformation) নিয়মিত অনুশীলন করলে বড় অংশের নম্বর নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত একটি প্যারাগ্রাফ বা কম্পোজিশন লিখুন এবং ১০টি নতুন শব্দ শিখে বাক্যে প্রয়োগ করুন।
গণিত: প্রতিদিন সমস্যা সমাধান
গণিতে ভালো করার একমাত্র উপায় নিয়মিত অনুশীলন। প্রতিটি অধ্যায়ের সূত্র এক পাতায় নোট করে রাখুন এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক সমস্যা সমাধান করুন। ভুল হওয়া অঙ্কগুলো আলাদা খাতায় নোট করে সপ্তাহে একদিন পুনরায় করুন। অষ্টম শ্রেণির গণিতের অধ্যায়ভিত্তিক নোট ও সৃজনশীল সমাধানের জন্য আমাদের অষ্টম শ্রেণি গণিত ৩য় অধ্যায়: পরিমাপ — সম্পূর্ণ নোট পোস্টটি দেখতে পারেন।
বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সংক্ষিপ্ত নোটের শক্তি
এই দুটি বিষয়ে ৫০ নম্বর করে — অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুল উত্তরের ওপর জোর দিন। প্রতিটি অধ্যায়ের মূল পয়েন্ট সংক্ষিপ্ত নোটে তুলে রাখুন, চিত্র-সহ পড়ুন (বিজ্ঞানে চিত্রভিত্তিক প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ) এবং সংজ্ঞাগুলো নিজের ভাষায় লিখে অনুশীলন করুন।
সবশেষে একটি সময়-পরিকল্পনা: এখন থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একটি করে বিষয়ের দুর্বল অধ্যায় শেষ করুন, শেষ দুই সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন এবং পরীক্ষার আগের রাতে নতুন কিছু না পড়ে পুরনো নোট রিভিশন করুন।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পরীক্ষার নাম | জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ (Junior Scholarship Exam 2026) |
| আয়োজক | ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সারাদেশে একযোগে) |
| পরীক্ষার্থী | অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী; ফরম পূরণ ৬ষ্ঠ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে |
| ফরম পূরণ (বর্ধিত সময়) | ২৫–২৯ অক্টোবর ২০২৬, বিলম্ব ফি ছাড়া |
| ফি জমা (সোনালী সেবা) | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত |
| পরীক্ষার তারিখ | ৮–১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| মোট নম্বর | ৪০০ (মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তির ভিত্তি) |
| সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি | ১৭ অক্টোবর ২০২৬, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের বর্ধিত সময়সীমা কবে শেষ হচ্ছে?
২৯ অক্টোবর ২০২৬। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১৭ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফরম পূরণ সম্পন্ন করতে হবে।
সব শিক্ষার্থী কি এই বর্ধিত সুযোগ পাবেন?
না। কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি।
বর্ধিত সময়ে ফরম পূরণে কি বিলম্ব ফি দিতে হবে?
না। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫–২৯ অক্টোবরের মধ্যে বিলম্ব ফি ছাড়াই ফরম পূরণ করা যাবে।
সোনালী সেবায় ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ কবে?
২৯ অক্টোবর ২০২৬। ফরম পূরণের পাশাপাশি নির্ধারিত ফি এই তারিখের মধ্যে সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে শুরু হবে?
৮ ডিসেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) বাংলা পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে এবং ১৫ ডিসেম্বর শেষ হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।
পরীক্ষায় মোট কত নম্বরের পরীক্ষা হবে?
মোট ৪০০ নম্বর। বাংলা ১০০, ইংরেজি ১০০, গণিত ১০০ এবং বিজ্ঞান ৫০ + বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০ = ১০০। এই ৪০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে।
প্রবেশপত্র কবে সংগ্রহ করতে হবে?
পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
উপসংহার
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফরম পূরণের সময় তৃতীয়বারের মতো বাড়িয়ে ঢাকা বোর্ড পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষ সুযোগ দিয়েছে। ২৫–২৯ অক্টোবরের এই পাঁচ দিন বিলম্ব ফি ছাড়াই ফরম পূরণ ও সোনালী সেবায় ফি জমার সুযোগ থাকছে। তবে মনে রাখবেন — এই সুযোগ কেবল তাদের জন্য, যারা নির্ধারিত ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ সময়মতো শেষ করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি পরামর্শ — শেষ দিনের অপেক্ষা না করে আগেভাগেই প্রক্রিয়া শেষ করুন। আর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি — এখনই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফরম পূরণ নিশ্চিত করুন, তারপর মনোযোগ দিন ৮ ডিসেম্বরের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সঠিক পরিকল্পনা আর নিয়মিত অনুশীলনই বৃত্তি পাওয়ার চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন: অষ্টম শ্রেণি গণিত ৩য় অধ্যায়: পরিমাপ — সম্পূর্ণ নোট, সূত্র ও সৃজনশীল সমাধান | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৬-২৭: আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে — ইউনিট, যোগ্যতা, পরীক্ষার তারিখ
তথ্যসূত্র: ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি; শিক্ষা সংবাদ, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর-এর প্রতিবেদন।


