
বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬: শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ২৭৪ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নবম ও দশম গ্রেডের এই পদগুলোতে অনলাইনে আবেদন চলছে ১২ নভেম্বর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে শুধু http://bcic.teletalk.com.bd পোর্টালে।
সরকারি চাকরির খোঁজে থাকা হাজারো তরুণের একটা বড় সমস্যা হলো — বিজ্ঞপ্তি বেরোলেও ভেতরের নিয়মগুলো ঠিকমতো বোঝা যায় না। কোন পদে আপনার যোগ্যতা মিলবে? বয়সসীমা হিসাব করবেন কীভাবে? আবেদন ফি ২২৩ টাকা না ৫৬ টাকা — কোনটা আপনার জন্য প্রযোজ্য? একটা ভুল তথ্য দিলেই আবেদন বাতিল হতে পারে, আর তখন মাসখানেকের অপেক্ষা বৃথা যায়।
একটা বাস্তব টিপস: অনলাইন ফর্মে জন্মতারিখ ভুল দিলে পরে সংশোধনের সুযোগ থাকে না। ফর্ম সাবমিটের আগে জন্মতারিখের সঙ্গে আপনার এনআইডি/জন্মনিবন্ধন মিলিয়ে দেখুন। বয়সসীমা নিয়ে সন্দেহ থাকলে আবেদন ফি দেওয়ার আগেই হিসাব নিশ্চিত করুন।
বেতন স্কেল কত?
নবম গ্রেডের পদগুলোর বেতন স্কেল ৪৪,০০০–১,০৫,৯০০ টাকা এবং দশম গ্রেডের পদগুলোর বেতন স্কেল ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা। এটি জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন; এর সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা যোগ হয়।
| গ্রেড | বেতন স্কেল (মাসিক) | পদের সংখ্যা | মোট শূন্যপদ |
|---|---|---|---|
| নবম গ্রেড | ৪৪,০০০ – ১,০৫,৯০০ টাকা | ১১টি | ১৬৪টি |
| দশম গ্রেড | ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা | ৮টি | ১১০টি |
সরকারি চাকরির বেতন কাঠামোতে প্রবেশপদে মূল বেতন স্কেলের নিম্নসীমা থেকে শুরু হয়। অর্থাৎ নবম গ্রেডে যোগদান করলে প্রাথমিক মূল বেতন ৪৪,০০০ টাকা থেকে শুরু হবে, আর দশম গ্রেডে ৩২,০০০ টাকা থেকে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির মাধ্যমে বেতন স্কেলের ঊর্ধ্বসীমা পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। পেনশন, গ্রাচুইটি ও অন্যান্য অবসর সুবিধাও সরকারি নিয়মে প্রযোজ্য।
অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে?
আবেদন করা যাবে শুধু http://bcic.teletalk.com.bd পোর্টালে, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ডাকযোগে বা সরাসরি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দিলাম:
- পোর্টালে প্রবেশ করুন: ব্রাউজারে http://bcic.teletalk.com.bd লিখে আবেদন পোর্টালে যান। পোর্টাল খুলতে সমস্যা হলে মোবাইল ডেটার বদলে ওয়াইফাই বা অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করে দেখুন।
- পদ নির্বাচন করুন: পদের তালিকা থেকে আপনার যোগ্যতা মিলিয়ে পদ বেছে নিন। মনে রাখবেন — সর্বোচ্চ ২টি পদে (একটি নবম + একটি দশম গ্রেডের) আবেদন করা যাবে।
- আবেদন ফর্ম পূরণ করুন: নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ সব তথ্য সঠিকভাবে লিখুন। প্রতিটি ঘর পূরণের পর একবার করে চেক করুন।
- ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন: পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ও স্বাক্ষর স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। ফাইল সাইজ ও মাপ পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন (বিস্তারিত নিচের চেকলিস্টে)।
- প্রিভিউ যাচাই করুন: সাবমিট বোতাম চাপার আগে পুরো ফর্মের প্রিভিউ দেখুন। নামের বানান, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর — এই তিনটি জায়গায় ভুল সবচেয়ে বেশি হয়।
- ফর্ম সাবমিট করুন: সব ঠিক থাকলে সাবমিট করুন। সাবমিটের পর একটি User ID পাবেন — এটি সংরক্ষণ করুন, ফি পরিশোধে লাগবে।
- ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করুন: ফর্ম জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল থেকে SMS-এর মাধ্যমে ফি দিতে হবে। সময় পার হলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
একটা কথা স্পষ্ট করে বলি: ফি না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন সম্পূর্ণ হয় না। শুধু ফর্ম সাবমিট করে নিশ্চিন্তে বসে থাকবেন না। User ID পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করুন।
আবেদনের আগে প্রস্তুতির চেকলিস্ট (ব্যবহারিক নির্দেশনা)
নোট: নিচের চেকলিস্টটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির অংশ নয়। টেলিটক পোর্টালে সরকারি চাকরিতে আবেদনের সাধারণ নিয়ম থেকে সংগৃহীত আমার ব্যবহারিক নির্দেশনা — আবেদনের আগে পোর্টালের নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (সাধারণত 300×300 পিক্সেল, সর্বোচ্চ 100 KB, JPG ফরম্যাট)।
- সাদা কাগজে কালো কালিতে করা স্বাক্ষরের স্ক্যান (সাধারণত 300×80 পিক্সেল, সর্বোচ্চ 60 KB, JPG ফরম্যাট)।
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি না থাকলে জন্মনিবন্ধন নম্বর)।
- সব শিক্ষাগত সনদের রোল/রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও পাসের সাল।
- সক্রিয় মোবাইল নম্বর — User ID ও পরবর্তী SMS এই নম্বরে আসবে।
- টেলিটক প্রিপেইড সিমে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স (ফির চেয়ে কিছুটা বেশি রাখুন)।
- ঠিকানার তথ্য: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা (গ্রাম/মহল্লা, ডাকঘর, থানা, জেলা)।
আবেদন ফি কীভাবে পরিশোধ করবেন?
সাধারণ প্রার্থীদের ফি ২২৩ টাকা; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ প্রার্থীদের ফি ৫৬ টাকা। ফি পরিশোধ করতে হবে ফর্ম সাবমিটের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, শুধু টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল থেকে SMS-এর মাধ্যমে।
| প্রার্থীর ধরন | আবেদন ফি |
|---|---|
| সাধারণ প্রার্থী | ২২৩ টাকা |
| ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / শারীরিক প্রতিবন্ধী / তৃতীয় লিঙ্গ প্রার্থী | ৫৬ টাকা |
SMS-এর মাধ্যমে ফি দেওয়ার নিয়মটি টেলিটকভিত্তিক সব সরকারি নিয়োগে একই রকম। পোর্টালে ফর্ম সাবমিটের পর যে User ID পাবেন, সেটি ব্যবহার করে দুটি SMS পাঠাতে হয়:
- প্রথম SMS: টেলিটক প্রিপেইড মোবাইলে লিখুন
BCIC <space> User IDএবং পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে। ফিরতি SMS-এ একটি PIN নম্বর পাবেন। - দ্বিতীয় SMS: লিখুন
BCIC <space> YES <space> PINএবং আবার 16222 নম্বরে পাঠান। ফি কেটে নেওয়ার পর কনফার্মেশন SMS আসবে।
সতর্কতা: উপরের SMS ফরম্যাটটি টেলিটক পোর্টালের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া — আমার ব্যবহারিক পর্যবেক্ষণ। আবেদনের সময় পোর্টালে দেখানো নির্দেশনার সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নিন, কারণ সংস্থাভেদে কীওয়ার্ড ভিন্ন হতে পারে।
💰 ফি নিয়ে জরুরি কথা: ফি পরিশোধের ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় এবং ফি ফেরত পাওয়া যায় না। User ID পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফি দিয়ে দিন — “পরে দেব” ভেবে রাখবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সূচি
বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬-এর আবেদন উইন্ডো ১৪ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিটি তারিখের অর্থ বুঝে নিন:
| ইভেন্ট | তারিখ ও সময় |
|---|---|
| বিজ্ঞপ্তি জারি | ১১ অক্টোবর ২০২৬ |
| দৈনিক আমার দেশে প্রকাশ | ১২ অক্টোবর ২০২৬ |
| অনলাইন আবেদন শুরু | ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০০ |
| বয়স গণনার রেফারেন্স তারিখ | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ |
| অনলাইন আবেদনের শেষ সময় | ১২ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ০৫:০০ |
| ফি পরিশোধের শেষ সময় | ফর্ম সাবমিটের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (SMS-এর মাধ্যমে) |
লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা বা ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়
সাধারণ স্নাতক (যেকোনো বিষয়): আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি সুযোগ প্রশাসন-ধাঁচের পদগুলোতে। নবম গ্রেডে সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) — ২২টি পদ, আর দশম গ্রেডে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা — ১২টি পদ। এই দুটি একসাথে আবেদন করলে দুই গ্রেডেই সুযোগ থাকে। সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (১৯টি) ও সহকারী অপারেশন অফিসার (৩টি) পদেও যেকোনো বিষয়ের স্নাতকরা আবেদন করতে পারেন।
হিসাববিজ্ঞান/ফিন্যান্স/অর্থনীতি/পরিসংখ্যান ব্যাকগ্রাউন্ড: এই নিয়োগে আপনার জন্য মোট ৫৬টি পদ — হিসাব কর্মকর্তা/অর্থ কর্মকর্তা (২৫টি, নবম গ্রেড) ও সহকারী হিসাব কর্মকর্তা/সহকারী অর্থ কর্মকর্তা (৩১টি, দশম গ্রেড)। দুটি পদেই আবেদন করুন; এতে সিলেকশনের সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়।
রসায়ন/কেমিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড: বিসিআইসি মূলত রাসায়নিক শিল্প সংস্থা বলে রসায়ন-সংশ্লিষ্ট পদই সবচেয়ে বেশি — সহকারী রসায়নবিদ ও সহকারী প্রকৌশলী (রসায়ন) মিলিয়ে ৬২টি, আর উপসহকারী রসায়নবিদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী (রসায়ন) মিলিয়ে ৪১টি। মোট ১০৩টি পদ, অর্থাৎ পুরো নিয়োগের প্রায় ৩৮ শতাংশ। রসায়ন পড়ুয়াদের জন্য এটাই সেরা সুযোগ।
ইঞ্জিনিয়ারিং (বিদ্যুৎ/যান্ত্রিক/পুর): সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) — ১৮টি, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও কারিগরি কর্মকর্তা — ১৩টি, সহকারী প্রকৌশলী (পুর) — ৩টি, উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) — ৩টি। নিজের ব্রাঞ্চের পদে আবেদন করুন; ব্রাঞ্চ না মিললে আবেদন করবেন না।
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং: উপসহকারী রসায়নবিদ/উপসহকারী প্রকৌশলী (রসায়ন) — ৪১টি ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) — ৩টি পদ ডিপ্লোমাধারীদের জন্য। দশম গ্রেডের এই পদগুলোতে ডিপ্লোমা ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা তুলনামূলক কম হয়।
কম্পিউটার সায়েন্স/আইটি: সহকারী প্রোগ্রামার পদে মাত্র ৩টি শূন্যপদ — সংখ্যা কম হলেও আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীদের জন্য এটাই একমাত্র সরাসরি মিল।
কোন পদে প্রতিযোগিতা বেশি বা কম হতে পারে?
এই অংশটি আমার সৎ বিশ্লেষণ, তথ্য নয়। সাধারণত যেসব পদে “যেকোনো বিষয়ে স্নাতক” যোগ্যতা চাওয়া হয়, সেখানে আবেদনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয় — কারণ প্রায় সবাই যোগ্য। সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা।
বিপরীতে, বিষয়ভিত্তিক পদগুলোতে প্রতিযোগী তুলনামূলক কম। রসায়ন ও প্রকৌশল পদে শুধু সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রার্থীরাই আবেদন করতে পারেন, তাই আবেদনকারীর পুল ছোট। বিশেষ করে সহকারী প্রকৌশলী (পুর) — মাত্র ৩টি পদ হলেও সিভিল/পুরকৌশল ব্যাকগ্রাউন্ডের সীমিত প্রার্থীরাই এতে আবেদন করবেন।
একটা কৌশলগত পরামর্শ: দুটি পদের স্লট ব্যবহার করুন বুদ্ধিমানের মতো। নবম গ্রেডে আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী মিলের পদটি বেছে নিন, আর দশম গ্রেডে তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতার পদটি। এতে অন্তত একটি ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে মনে রাখবেন — যোগ্যতা না মিলিয়ে “সুযোগ” ভেবে আবেদন করলে ফি নষ্ট ছাড়া কিছুই হবে না।
অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি নিজে যাচাই করবেন কীভাবে?
যেকোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হলো সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট। বিসিআইসির ক্ষেত্রে www.bcic.gov.bd-এর নোটিশ বোর্ডে মূল বিজ্ঞপ্তির PDF পাবেন। সেখানে পদভিত্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার শর্ত ও ফলাফলের মানদণ্ড বিস্তারিত লেখা আছে।
যাচাইয়ের সহজ পদ্ধতি: গুগলে “bcic.gov.bd notice” লিখে সার্চ করুন, অফিসিয়াল সাইটে ঢুকে নোটিশ/বিজ্ঞপ্তি সেকশনে ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি খুঁজুন। PDF ডাউনলোড করে আপনার টার্গেট পদের সারিটি মন দিয়ে পড়ুন। ফেসবুক পেজ বা অপরিচিত ব্লগের স্ক্রিনশট দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না — সেখানে পুরনো বা এডিট করা বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে থাকে।
আর একটা সতর্কতা: কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি যদি টাকার বিনিময়ে বিসিআইসিতে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, সেটি প্রতারণা। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া টেলিটক পোর্টাল ও লিখিত/মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে হয় — এর বাইরে কোনো শর্টকাট নেই।
প্রস্তুতি ও পরীক্ষা নিয়ে কী জানা জরুরি?
পরীক্ষার ধরন ও সিলেবাস এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা নিয়োগে সাধারণত লিখিত পরীক্ষা (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান) ও পরে মৌখিক পরীক্ষা হয়। কারিগরি/প্রকৌশল পদে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকে।
আমার পরামর্শ: পরীক্ষার নোটিশের অপেক্ষায় বসে না থেকে এখনই প্রস্তুতি শুরু করুন। বিগত বছরগুলোর বিসিআইসি ও সমমানের সরকারি সংস্থার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে প্যাটার্ন বুঝুন। বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, গাণিতিক যুক্তি ও বাংলাদেশ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান — এই চারটি অংশে নিয়মিত অনুশীলন করুন। প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা করে পড়লেও ১২ নভেম্বরের পর পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।
যারা একসাথে একাধিক সরকারি নিয়োগে আবেদন করছেন, তাদের জন্য সুখবর: সম্প্রতি আনসার ভিডিপি নিয়োগ ২০২৬-এর ২২৮ পদের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে — আবেদনের শেষ তারিখ ২৯ অক্টোবর। দুটি বিজ্ঞপ্তির প্রস্তুতি একসাথে নিলে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়। আরও নতুন বিজ্ঞপ্তির আপডেট পেতে আমাদের চাকরির সার্কুলার বিভাগ নিয়মিত দেখুন।
বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬-এ মোট কতজন নিয়োগ পাবেন?
মোট ২৭৪ জন। এর মধ্যে নবম গ্রেডের ১১টি পদে ১৬৪ জন এবং দশম গ্রেডের ৮টি পদে ১১০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। মোট ক্যাটাগরি ১৯টি।
২. bcic teletalk apply-এর শেষ তারিখ কবে?
অনলাইন আবেদন শেষ হবে ১২ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টায়। আবেদন পোর্টাল http://bcic.teletalk.com.bd। ফর্ম সাবমিটের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড SMS-এ ফি পরিশোধ করতে হবে।
৩. আবেদন ফি কত?
সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ২২৩ টাকা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ প্রার্থীদের জন্য ৫৬ টাকা। ফি শুধু টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল থেকে SMS-এর মাধ্যমে দেওয়া যায়।
৪. একজন প্রার্থী কয়টি পদে আবেদন করতে পারবেন?
সর্বোচ্চ ২টি পদে — একটি নবম গ্রেডের এবং একটি দশম গ্রেডের। একই গ্রেডের দুটি পদে আবেদন করা যাবে না।
৫. বয়সসীমা কীভাবে হিসাব করব?
১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদে সর্বোচ্চ বয়স ৩৮ বছর। বয়স প্রমাণে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয় — এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য ব্যবহার করুন।
৬. কোন জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন?
বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হলে সকল জেলার প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য আবেদন উন্মুক্ত।
৭. ডাকযোগে বা সরাসরি আবেদন করা যাবে কি?
না। আবেদন শুধু অনলাইনে http://bcic.teletalk.com.bd পোর্টালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। ডাকযোগে, কুরিয়ারে বা সরাসরি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
৮. পরীক্ষার তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে?
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আবেদন শেষ হওয়ার পর বিসিআইসির ওয়েবসাইট (www.bcic.gov.bd) ও SMS-এর মাধ্যমে পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হবে।
শেষ কথা
বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬ সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বছরের অন্যতম বড় সুযোগ — ১৯ ক্যাটাগরিতে ২৭৪টি পদ, নবম ও দশম দুই গ্রেডেই। রসায়ন ও প্রকৌশল ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীদের জন্য এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এই সংস্থায় তাদের সরাসরি মিলের পদ সবচেয়ে বেশি।
তবে সুযোগ বড় বলেই ভুলের মাশুলও বড়। যোগ্যতা না মিলিয়ে আবেদন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি না দেওয়া, ভুল তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ — এই ভুলগুলো প্রতিবছর হাজারো প্রার্থীর স্বপ্ন শেষ করে দেয়। এই পোস্টের চেকলিস্টগুলো ফলো করুন, অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি নিজে পড়ুন, আর ১২ নভেম্বরের আগেই আবেদন সম্পন্ন করুন।
✅ এখনই করুন: আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে ১–২টি পদ বেছে নিন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন এবং bcic.teletalk.com.bd পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করুন। দেরি না করে আজই শুরু করুন — শেষ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬।
তথ্যসূত্র: বিসিআইসির অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (জারি: ১১ অক্টোবর ২০২৬)। পোস্টটি ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত; পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলে আপডেট করা হবে।
নি। পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে বিসিআইসির ওয়েবসাইট ও SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে। আমি টেলিটক পোর্টালের সাধারণ নিয়মগুলো যাচাই করে দেখেছি — সাধারণত আবেদন শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর প্রবেশপত্র ডাউনলোডের নোটিশ আসে। নিয়মিত www.bcic.gov.bd চেক করুন।
কোন কোন ভুলে আবেদন বাতিল হয়? (এড়িয়ে চলার চেকলিস্ট)
অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দিলে, নির্ধারিত সময়ে ফি না দিলে এবং যোগ্যতা না মিললেও আবেদন করলে আবেদন বাতিল হয়। বছরের পর বছর ধরে সরকারি নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া দেখে আমি যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হতে দেখেছি, সেগুলোর তালিকা দিলাম:
- ফি না দেওয়া বা দেরিতে দেওয়া: ফর্ম সাবমিট করলেন কিন্তু ৭২ ঘণ্টার মধ্যে SMS-এ ফি দিলেন না — আবেদন বাতিল। এটাই সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- যোগ্যতা না মিলিয়ে আবেদন: হিসাববিজ্ঞান ছাড়া অন্য বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে হিসাব কর্মকর্তা পদে আবেদন — যাচাইয়ে বাদ পড়বেন, ফি ফেরত পাবেন না।
- নামের বানানে ভুল: সনদে যে বানান, ফর্মে অন্য বানান — মৌখিক পরীক্ষায় সমস্যা হয়। সনদের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখুন।
- ভুল জন্মতারিখ: এনআইডির সঙ্গে না মিললে বয়স যাচাইয়ে বাদ। এফিডেভিট দিয়ে বয়স প্রমাণ করা যাবে না — বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা আছে।
- অস্পষ্ট বা ভুল মাপের ছবি: ঝাপসা ছবি বা নির্ধারিত মাপের বাইরের ফাইল আপলোড করলে ফর্ম গ্রহণ নাও হতে পারে।
- ভুল মোবাইল নম্বর: User ID, PIN ও পরীক্ষার নোটিশ এই নম্বরে আসে। ভুল নম্বর দিলে সব তথ্য হারাবেন।
- একই গ্রেডের দুটি পদে আবেদন: নিয়ম হলো সর্বোচ্চ ২টি পদ — একটি নবম ও একটি দশম গ্রেডের। নিয়ম ভাঙলে দুটোই বাতিল হতে পারে।
- শেষ মুহূর্তে আবেদন: ১২ নভেম্বর বিকেল ৫টার ঠিক আগে সার্ভার ধীর হয়। আগেভাগে আবেদন শেষ করুন।
আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী কোন পদে আবেদন করবেন? (আমার বিশ্লেষণ)
নিচের বিশ্লেষণটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির অংশ নয় — পদসংখ্যা ও যোগ্যতার শর্ত দেখে আমার নিজের পর্যবেক্ষণ ও মতামত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মূল বিজ্ঞপ্তি পড়ে নিন।
এই পোস্টে আমি bcic job circular 2026-এর প্রতিটি তথ্য অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করে পয়েন্টভিত্তিক সাজিয়েছি। একই পোস্টে পাবেন পদভিত্তিক শূন্যপদের টেবিল, যোগ্যতা ভাঙনে ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী গাইড, ফি পরিশোধের ধাপ, আবেদন বাতিল হয় এমন ভুলের চেকলিস্ট এবং ৮টি আসল আবেদনকারীর প্রশ্নের উত্তর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন — একবার পড়লেই আর কোনো কনফিউশন থাকবে না।
বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬: এক নজরে
যারা দ্রুত মূল তথ্য জেনে নিতে চান, তাদের জন্য এক টেবিলে পুরো বিজ্ঞপ্তির সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (BCIC) — শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থা |
| পদের ধরন | ১৯টি ক্যাটাগরি; নবম ও দশম গ্রেডের কর্মকর্তা পদ |
| মোট শূন্যপদ | ২৭৪ জন (নবম গ্রেডে ১৬৪টি, দশম গ্রেডে ১১০টি) |
| বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ | ১১ অক্টোবর ২০২৬ (দৈনিক আমার দেশে প্রকাশ ১২ অক্টোবর ২০২৬) |
| আবেদন শুরু | ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০০ |
| আবেদনের শেষ তারিখ | ১২ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ০৫:০০ |
| আবেদন মাধ্যম | শুধু অনলাইনে — http://bcic.teletalk.com.bd |
| আবেদন ফি | ২২৩ টাকা (সাধারণ প্রার্থী); ৫৬ টাকা (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/শারীরিক প্রতিবন্ধী/তৃতীয় লিঙ্গ প্রার্থী) |
| বয়সসীমা | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর (নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদে সর্বোচ্চ ৩৮ বছর) |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | www.bcic.gov.bd |
⏰ শেষ তারিখ মনে রাখুন: বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬-এর অনলাইন আবেদন শেষ হচ্ছে ১২ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টায়। শেষ মুহূর্তে সার্ভার জটিলতা এড়াতে অন্তত কয়েকদিন আগে আবেদন সম্পন্ন করুন।
বিসিআইসি কী এবং এই নিয়োগ কারা চালাচ্ছে?
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থা। এটি দেশের সার ও রাসায়নিক শিল্পের প্রধান সরকারি কর্তৃপক্ষ। এর নিয়ন্ত্রণে সার কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি বিসিআইসির নিজস্ব কারখানা ও দপ্তরের শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন করেন — এই নিয়োগ কি সরাসরি সরকারি চাকরি? হ্যাঁ, বিসিআইসি একটি সরকারি সংস্থা, তাই এখানে নিয়োগ পেলে আপনি সরকারি বেতন স্কেল, ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে পুরো আবেদন টেলিটক পোর্টালে অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে — কোনো মাধ্যম বা দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে “নিয়োগ নিশ্চিত” করার দাবি প্রতারণা, এমন প্রলোভনে পড়বেন না।
বিসিআইসির ওয়েবসাইট www.bcic.gov.bd-এর নোটিশ বোর্ডে মূল বিজ্ঞপ্তিটি পাবেন। আবেদনের আগে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি নিজে একবার পড়ে নেওয়া জরুরি — পোস্টের শেষ দিকে আমি নিজে যাচাই করার সহজ পদ্ধতি বলে দিয়েছি।
কোন পদে কতজন নিয়োগ পাবেন? (পদভিত্তিক তালিকা)
১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ২৭৪ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে নবম গ্রেডের ১১টি পদের জন্য ১৬৪টি শূন্যপদ এবং দশম গ্রেডের ৮টি পদের জন্য ১১০টি শূন্যপদ রয়েছে। নবম গ্রেডের বেতন স্কেল ৪৪,০০০–১,০৫,৯০০ টাকা এবং দশম গ্রেডের বেতন স্কেল ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা।
নবম গ্রেডের পদসমূহ (বেতন স্কেল: ৪৪,০০০–১,০৫,৯০০ টাকা)
| ক্রম | পদের নাম | শূন্যপদ |
|---|---|---|
| ১ | সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) | ২২টি |
| ২ | নিরাপত্তা কর্মকর্তা | ৩টি |
| ৩ | হিসাব কর্মকর্তা / অর্থ কর্মকর্তা | ২৫টি |
| ৪ | সহকারী প্রোগ্রামার | ৩টি |
| ৫ | সহকারী ব্যবস্থাপক (ক্রয়) / সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) | ১৫টি |
| ৬ ও ৭ | সহকারী রসায়নবিদ ও সহকারী প্রকৌশলী (রসায়ন) | ৬২টি (একসাথে) |
| ৮ ও ৯ | সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও কারিগরি কর্মকর্তা | ১৩টি (একসাথে) |
| ১০ | সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) | ১৮টি |
| ১১ | সহকারী প্রকৌশলী (পুর) | ৩টি |
| মোট | ১৬৪টি | |
দশম গ্রেডের পদসমূহ (বেতন স্কেল: ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা)
| ক্রম | পদের নাম | শূন্যপদ |
|---|---|---|
| ১২ | সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা | ১২টি |
| ১৩ | সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা | ১টি |
| ১৪ | সহকারী হিসাব কর্মকর্তা / সহকারী অর্থ কর্মকর্তা | ৩১টি |
| ১৫ | সহকারী অপারেশন অফিসার | ৩টি |
| ১৬ | সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা | ১৯টি |
| ১৭ ও ১৮ | উপসহকারী রসায়নবিদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী (রসায়ন) | ৪১টি (একসাথে) |
| ১৯ | উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) | ৩টি |
| মোট | ১১০টি | |
একটা জরুরি নিয়ম মনে রাখুন: একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২টি পদে আবেদন করতে পারবেন — একটি নবম গ্রেডের এবং একটি দশম গ্রেডের। অর্থাৎ দুই গ্রেড থেকে একটা করে পদ বেছে নেওয়া যাবে, একই গ্রেডের দুটি পদে নয়। পদ বাছাইয়ের কৌশল নিচে “আমার বিশ্লেষণ” অংশে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
আবেদনের যোগ্যতা কী কী?
পদভেদে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর/স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি, বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, অথবা চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োজন। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং সকল জেলার নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাজীবনে নির্ধারিত ফলাফলের শর্ত রয়েছে।
যোগ্যতার নিয়ম পদভেদে আলাদা। মূল ভাগগুলো এভাবে বুঝে নিন:
- প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা পদ (সহকারী ব্যবস্থাপক-প্রশাসন/ক্রয়/বিক্রয়, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সহকারী অপারেশন অফিসার, সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা): যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই আবেদন করা যায়।
- হিসাব ও অর্থ পদ (হিসাব কর্মকর্তা/অর্থ কর্মকর্তা, সহকারী হিসাব কর্মকর্তা/সহকারী অর্থ কর্মকর্তা): হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, অর্থনীতি বা পরিসংখ্যান বিষয়ে ডিগ্রি প্রয়োজন।
- প্রকৌশল পদ (সহকারী প্রকৌশলী — রসায়ন/বিদ্যুৎ/যান্ত্রিক/পুর, কারিগরি কর্মকর্তা): সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রয়োজন।
- রসায়ন পদ (সহকারী রসায়নবিদ, উপসহকারী রসায়নবিদ): রসায়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি প্রয়োজন।
- ডিপ্লোমা পদ (উপসহকারী প্রকৌশলী — রসায়ন/যান্ত্রিক): সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োজন।
- সহকারী প্রোগ্রামার: কম্পিউটার সায়েন্স/আইটি সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি প্রয়োজন।
- নিরাপত্তা কর্মকর্তা/সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা: নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি শারীরিক যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
কিছু পদের জন্য সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আপনার টার্গেট পদের সঠিক শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার শর্ত ও ফলাফলের মানদণ্ড অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে পদভিত্তিক উল্লেখ আছে — আবেদনের আগে মূল বিজ্ঞপ্তির সংশ্লিষ্ট সারিটি অবশ্যই পড়ে নিন। যোগ্যতা না মিললে আবেদন করবেন না; ভুল যোগ্যতায় আবেদন করলে ফি ফেরত পাওয়া যায় না।
বয়সসীমা কত?
১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৮ বছর। বয়স প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য ব্যবহার করুন — এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
বয়স হিসাবের তারিখটা নিয়ে অনেকের কনফিউশন হয়। এখানে বয়স গণনার রেফারেন্স তারিখ হলো ১৪ অক্টোবর ২০২৬, অর্থাৎ আবেদন শুরুর দিন। আপনার জন্মতারিখ থেকে এই তারিখ পর্যন্ত বয়স হিসাব করুন। যদি ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ আপনার বয়স ঠিক ১৮ বছর পূর্ণ হয় বা ৩২ বছর ১১ মাস ২৯ দিন হয় — তবু আপনি যোগ্য। কিন্তু ওই তারিখে ৩৩ বছরে পা দিলে সাধারণ কোটায় আবেদন করা যাবে না।


