
15 অক্টোবর 2026
স্টাডি বাংলাদেশ কী? বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সহজ করতে সরকার চালু করছে ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ নামের একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল। প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হচ্ছে — এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই ভর্তির তথ্য, যোগ্যতা ও আবেদন করা যাবে। উদ্দেশ্য, সুবিধা ও পরবর্তী ধাপ নিচে বিস্তারিত।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টাল
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুপরিচিত করতে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ নামে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় এই পোর্টালের আওতায় আসবে। গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা আন্তর্জাতিকীকরণ এবং এটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক করার সরকারি নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টাল: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত
‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টালটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও সুবিন্যস্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা একটি একক পোর্টালের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। এই পোর্টাল বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুগম প্রবেশদ্বার তৈরি করবে।
উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে সরকারের অঙ্গীকার
এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক করার সরকারি নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টাল চালুর মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনবে এবং আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। উচ্চশিক্ষার এই আন্তর্জাতিকীকরণ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং উন্নত করতে এবং বিশ্বব্যাপী তাদের স্বীকৃতি বাড়াতেও সহায়ক হবে। এটি বাংলাদেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
ইউজিসি ও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের ভূমিকা
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তিনি গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করেন। অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ২০২৩ সালের ২৩ মে ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এরপর থেকেই তিনি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকীকরণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ইউজিসি এই পোর্টাল বাস্তবায়নে তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে, যাতে এটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের কার্যকর সেবা প্রদান করতে পারে এবং দেশের উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত থাকে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়: নির্বাচন প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনা হবে। এই ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ‘Higher Education Acceleration and Transformation (HEAT)’ প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে আগ্রহপত্র (Expression of Interest) আহ্বান করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো, একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা। এই ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে পোর্টালটির কার্যকারিতা যাচাই করা এবং অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে এর আওতায় আনা। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি হবে।
ইন্টারন্যাশনাল অফিস স্থাপন ও অন্যান্য সুবিধা
‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টাল চালুর পাশাপাশি, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্যে আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অফিসগুলো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে এবং বৈশ্বিক গবেষণা তহবিলের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে, ইন্টারন্যাশনাল অফিসগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যা তাদের ভিসা প্রক্রিয়া, আবাসন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সহায়তা দেবে। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য আরও খবর দেখুন: আরও খবর দেখুন
শিক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য জানতে ভিজিট করুন: সব শিক্ষা সংবাদ
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টালের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টালের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা।
প্রশ্ন: প্রাথমিকভাবে কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় এই পোর্টালের আওতায় আসবে?
উত্তর: প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় এই অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনা হবে।
প্রশ্ন: ইন্টারন্যাশনাল অফিস স্থাপনের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: ইন্টারন্যাশনাল অফিস স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক গবেষণা তহবিলের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
তথ্যসূত্র
- উৎস ১
- উৎস ২
- উৎস ৩
- উৎস ৪
- উৎস ৫
- উৎস ৬
- উৎস ৭
- উৎস ৮
- উৎস ৯
- উৎস ১০
- উৎস ১১
- উৎস ১২
অফিসিয়াল লিংক
📌 শেষ কথা
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টাল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রক্রিয়াকে সহজ করবে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্ব দরবারে আরও পরিচিত করে তুলবে। এই উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ পোর্টালটি নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


