
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ চলবে ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, আর পরীক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা বিলম্ব ফি দিয়ে ফরম পূরণ করা যাবে ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ফি বিজ্ঞান বিভাগে ২,৪৩৫ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ২,৩১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবছর ফরম পূরণের মৌসুমে একই দৃশ্য দেখা যায় — কেউ শেষ তারিখ ভুলে যায়, কেউ স্কুলের চাপে নোটিশের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফেলে, আবার কারো নাম-বিষয়ের ভুল থেকে যায় সম্ভাব্য তালিকায়। একটা মিসড ডেডলাইন মানেই একটা বছর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি। তাই এই পোস্টে ঢাকা বোর্ডের ১৭ অক্টোবরের নোটিশের সব তারিখ, ফি, নিয়ম, ধাপে ধাপে করণীয় আর একটি যাচাই-চেকলিস্ট এক জায়গায় সাজিয়ে দিলাম — যাতে আপনি বা আপনার সন্তান কোনো ভুল না করে নির্ভুলভাবে ফরম পূরণ করতে পারেন।
এসএসসি ফরম পূরণ ২০২৭: এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ সব তারিখ
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) এক নোটিশে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ ও ফি জমার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করে। নোটিশ অনুযায়ী তারিখগুলো নিচের টেবিলে দেখুন:
| কাজ | তারিখ |
|---|---|
| সম্ভাব্য তালিকা (Probable List) প্রকাশ | ১৫ নভেম্বর ২০২৬ (বোর্ডের ওয়েবসাইটে) |
| বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইন ফরম পূরণ | ১৬–২৩ নভেম্বর ২০২৬ |
| বিলম্ব ফিসহ অনলাইন ফরম পূরণ | ২৪–২৯ নভেম্বর ২০২৬ |
| ফি জমার শেষ তারিখ (বিলম্ব ফি ছাড়া) | ২৪ নভেম্বর ২০২৬ |
| ফি জমার শেষ তারিখ (বিলম্ব ফিসহ) | ৩০ নভেম্বর ২০২৬ |
লক্ষ্য করুন, ফরম পূরণের শেষ তারিখ আর ফি জমার শেষ তারিখ এক নয় — ফি জমা দেওয়ার জন্য একদিন অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে। বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণকারীদের ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ শেষ করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ফি জমা দিতে হবে।
এসএসসি ফরম পূরণের ফি কত? বিভাগ অনুযায়ী ফি-তালিকা
নোটিশে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিভাগভেদে মোট ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নিচের টেবিলে দেখুন আপনার বিভাগের ফি কত:
| বিভাগ | নিয়মিত পরীক্ষার্থীর ফি |
|---|---|
| বিজ্ঞান (Science) | ২,৪৩৫ টাকা |
| ব্যবসায় শিক্ষা (Business Studies) | ২,৩১৫ টাকা |
| মানবিক (Humanities) | ২,৩১৫ টাকা |
বিলম্ব ফি দিয়ে ফরম পূরণ করলে পরীক্ষার্থীপ্রতি অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ বিলম্ব ফিসহ বিজ্ঞান বিভাগের মোট ফি দাঁড়াবে ২,৫৩৫ টাকা এবং অন্য দুই বিভাগের ২,৪১৫ টাকা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, নোটিশে উল্লিখিত ফির বাইরে প্রতিষ্ঠান কোনো অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে পারবে না। অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্ভাব্য তালিকা (Probable List) কী? কোথায় পাবেন?
সম্ভাব্য তালিকা হলো বোর্ডের প্রকাশিত সেই তালিকা, যেখানে এসএসসি ২০২৭-এ অংশ নিতে যাওয়া পরীক্ষার্থীদের তথ্য থাকে — নাম, রোল, বিভাগ, বিষয়সহ প্রয়োজনীয় বিবরণ। ১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে এই তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
তালিকা প্রকাশের পর যা করবেন:
- নিজের নামের বানান, বাবা-মায়ের নাম মিলিয়ে দেখুন।
- বিভাগ (বিজ্ঞান/ব্যবসায় শিক্ষা/মানবিক) সঠিক আছে কি না যাচাই করুন।
- ঐচ্ছিক ও আবশ্যিক বিষয়ের তালিকা ঠিক আছে কি না দেখুন।
- কোনো ভুল পেলে দেরি না করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান — ফরম পূরণের আগেই সংশোধন করাতে হবে।
মনে রাখবেন, ফরম পূরণ হয়ে গেলে পরে নাম-বিষয় সংশোধন করা জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। তাই সম্ভাব্য তালিকা দেখাই ফরম পূরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
অনলাইন ফরম পূরণ কীভাবে করবেন? ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া
এসএসসির ফরম পূরণ অনলাইনে হয়, তবে এটি পরীক্ষার্থী একা করে না — প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বোর্ডের নির্ধারিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। সাধারণ ধাপগুলো নিচে দিলাম:
ধাপ ১: স্কুলের নির্দেশনা অনুসরণ করুন
সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশের পর প্রতিটি স্কুল তাদের পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময়সূচি ও পদ্ধতি জানিয়ে দেয়। স্কুলের নোটিশ বোর্ড ও শ্রেণিশিক্ষকের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফি প্রস্তুত রাখুন
আপনার নাম, বিভাগ, বিষয়তালিকা সম্ভাব্য তালিকার সাথে মিলিয়ে নিন এবং নোটিশ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি প্রস্তুত রাখুন। ফি জমা দেওয়ার সময় লিখিত রসিদ নিতে ভুলবেন না।
ধাপ ৩: প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইন ফরম পূরণ
প্রতিষ্ঠান বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ফরম পূরণ সম্পন্ন করে। পরীক্ষার্থী হিসেবে আপনার কাজ হলো সঠিক তথ্য ও সময়মতো ফি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
ধাপ ৪: ফি জমার বিষয়টি নিশ্চিত করুন
বিলম্ব ফি ছাড়া আবেদনকারীদের ২৪ নভেম্বরের মধ্যে এবং বিলম্ব ফিসহ আবেদনকারীদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ফি পরিশোধ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান ফি জমা দিয়েছে কি না, রসিদ দেখে নিশ্চিত হোন।
ধাপ ৫: নিশ্চয়ন সংরক্ষণ করুন
ফরম পূরণ সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণপত্র (রসিদ বা নিশ্চয়ন) যত্নে সংরক্ষণ করুন। পরবর্তীতে প্রবেশপত্র সংগ্রহের সময় এগুলো কাজে লাগতে পারে।
বিলম্ব ফি দিয়ে ফরম পূরণ করলে কী হবে?
কোনো কারণে ১৬–২৩ নভেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ করতে না পারলে ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা বিলম্ব ফি দিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ থাকবে। এই ক্ষেত্রে ফি জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।
তবে বিলম্ব ফির এই “দ্বিতীয় সুযোগ”-এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। শেষ মুহূর্তে সার্ভার জট, স্কুলের ব্যস্ততা বা তথ্যগত ভুলের কারণে ফরম আটকে গেলে সংশোধনের সময় পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। আমাদের পরামর্শ: প্রথম সপ্তাহেই (১৬–২৩ নভেম্বর) ফরম পূরণ শেষ করে ফেলুন — এতে ১০০ টাকা বাঁচবে, মানসিক চাপও কমবে।
এসএসসি ২০২৭ পরীক্ষার পথচলা: নির্বাচনী পরীক্ষা থেকে ফরম পূরণ পর্যন্ত
ফরম পূরণ হঠাৎ করে আসে না — এর পেছনে পুরো একটা প্রস্তুতি-চক্র আছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বোর্ড জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং স্কুলগুলোকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে ফল প্রকাশ করতে হবে।
লক্ষ্য করুন কীভাবে তারিখগুলো একটার সাথে আরেকটা গাঁথা: নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর, আর ঠিক ওই দিনই বোর্ড সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করবে। তার পরদিন, ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু ফরম পূরণ। অর্থাৎ নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই এই ফরম পূরণের মাধ্যমে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হবে। এই ধারাবাহিকতা বুঝলে প্রতিটা ডেডলাইনের গুরুত্ব পরিষ্কার হয়ে যায়।
জিপিএ উন্নয়ন, অকৃতকার্য ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য কী নিয়ম?
নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি বোর্ডের নোটিশে জিপিএ উন্নয়ন (ইমপ্রুভমেন্ট), অকৃতকার্য ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা নির্দেশনা রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ফি, বিষয়সংখ্যা ও শর্ত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মতো নাও হতে পারে।
আপনি যদি এই শ্রেণির পরীক্ষার্থী হন, তাহলে সাধারণ ফি-তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। বোর্ডের মূল নোটিশের সংশ্লিষ্ট অংশ পড়ুন এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শাখার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম জেনে নিন। ভুল ধারণা নিয়ে ফরম পূরণ করলে পরে জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
স্কুল অতিরিক্ত ফি চাইলে কী করবেন?
এটাই প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি অভিযোগের জায়গা। বোর্ডের নোটিশ এবারও দ্ব্যর্থহীন: নোটিশে উল্লিখিত ফির বাইরে প্রতিষ্ঠান কোনো অতিরিক্ত টাকা নিতে পারবে না, আর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী হিসেবে আপনার করণীয়:
- ফি দেওয়ার আগে নোটিশের ফি-তালিকার সাথে মিলিয়ে নিন — বিজ্ঞান ২,৪৩৫ টাকা, অন্য বিভাগ ২,৩১৫ টাকা (বিলম্ব ফি ছাড়া)।
- যে টাকাই দিন, লিখিত রসিদ নিন। রসিদে টাকার পরিমাণ ও খাত উল্লেখ থাকতে হবে।
- অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হলে শান্তভাবে বোর্ডের নোটিশের এই নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিন।
- সমস্যা না মিটলে বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পথ খোলা আছে — নোটিশেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ফরম পূরণের আগে যাচাই করার ৭-দফা চেকলিস্ট
ফরম জমা দেওয়ার আগে এই সাতটি বিষয় একবার মিলিয়ে নিন — পাঁচ মিনিটের এই যাচাই আপনাকে বড় ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারে:
- নামের বানান: সম্ভাব্য তালিকায় আপনার নাম, বাবা ও মায়ের নামের বানান সনদপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
- বিভাগ ও বিষয়: বিজ্ঞান/ব্যবসায় শিক্ষা/মানবিক বিভাগ এবং সব আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয় ঠিক আছে কি না যাচাই করুন।
- পরীক্ষার্থীর ধরন: আপনি নিয়মিত, অনিয়মিত, নাকি জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী — সঠিক শ্রেণিতে ফরম পূরণ হচ্ছে কি না নিশ্চিত হোন।
- ফির পরিমাণ: আপনার বিভাগের নির্ধারিত ফির সাথে মিলিয়ে নিন; অতিরিক্ত টাকা দেবেন না।
- সময়সীমা: ২৩ নভেম্বরের মধ্যে (বিলম্ব ফি ছাড়া) কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখুন।
- রসিদ সংরক্ষণ: ফি জমার রসিদ ও ফরম পূরণের নিশ্চয়ন নিরাপদে রাখুন।
- যোগাযোগ: কোনো অস্পষ্টতা থাকলে দেরি না করে শ্রেণিশিক্ষক বা স্কুলের পরীক্ষা শাখার সাথে কথা বলুন।
যে ভুলগুলো প্রতিবছর হয় — এ বছর এড়িয়ে চলুন
বছরের পর বছর ধরে ফরম পূরণের মৌসুমে কয়েকটি ভুল বারবার ঘটে। সচেতন থাকলে এগুলো এড়ানো সহজ:
- শেষ দিনের অপেক্ষা: ২৩ নভেম্বর “এখনো অনেক সময় আছে” ভেবে বসে থাকবেন না। স্কুলভেদে অভ্যন্তরীণ ডেডলাইন আরও আগেও হতে পারে।
- সম্ভাব্য তালিকা না দেখা: অনেকেই তালিকা না দেখেই ফরম পূরণ করে ফেলে, পরে নামের ভুল ধরা পড়ে। ১৫ নভেম্বর তালিকা দেখা বাধ্যতামূলক অভ্যাস করুন।
- মৌখিক আশ্বাসে টাকা দেওয়া: রসিদ ছাড়া কোনো টাকা দেবেন না — পরে প্রমাণ করা যায় না।
- নোটিশ না পড়া: অন্যের মুখে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বোর্ডের নোটিশ বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের খবর নিজে পড়ুন।
বিজ্ঞান বিভাগের ফি বেশি কেন? ফির পেছনের যুক্তি
অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন — বিজ্ঞান বিভাগে ২,৪৩৫ টাকা, অথচ ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে ২,৩১৫ টাকা; এই ১২০ টাকার পার্থক্য কেন? এর সাধারণ ব্যাখ্যা হলো বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) পরীক্ষা থাকে, যার আয়োজনে অতিরিক্ত খরচ হয়। বোর্ড পরীক্ষার ফি নির্ধারণের সময় তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক — দুই ধরনের পরীক্ষার ব্যয়ই বিবেচনায় নেয়।
তবে মনে রাখবেন, এটা ফির পরিমাণ বোঝার জন্য সাধারণ ব্যাখ্যা মাত্র; বোর্ডের নোটিশে যে অঙ্ক দেওয়া আছে, সেটাই চূড়ান্ত। আপনার কাজ হলো নোটিশের অঙ্কের সাথে স্কুলের চাওয়া টাকা মিলিয়ে দেখা — মিল না থাকলে প্রশ্ন করা।
ফরম পূরণের পর কী হবে? পরের ধাপগুলো
ফরম পূরণ শেষ হওয়ার পর প্রক্রিয়া কিন্তু থেমে থাকে না। সাধারণত এরপর যা ঘটে:
- বোর্ড জমা পড়া ফরম যাচাই করে চূড়ান্ত পরীক্ষার্থী তালিকা প্রস্তুত করে।
- পরীক্ষার আগে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) বিতরণ করা হয়।
- বোর্ড পরবর্তীতে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে — ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন এখনো ঘোষণা হয়নি, ঘোষণা হলে আমরা জানিয়ে দেব।
এই ধাপগুলোর প্রতিটিতেই আপনার তথ্য ঠিক থাকা জরুরি। ফরম পূরণের সময় যে তথ্য দিয়েছেন, প্রবেশপত্রে সেই তথ্যই ছাপা হবে — তাই শুরুতেই নির্ভুলতা নিশ্চিত করুন।
ঢাকা বোর্ডের নোটিশের মূল নির্দেশনা — একসাথে
১৭ অক্টোবরের নোটিশের সব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সংক্ষেপে:
- অনলাইন ফরম পূরণ বিলম্ব ফি ছাড়া ১৬–২৩ নভেম্বর; বিলম্ব ফিসহ ২৪–২৯ নভেম্বর।
- পরীক্ষার্থীপ্রতি বিলম্ব ফি ১০০ টাকা।
- সম্ভাব্য তালিকা ১৫ নভেম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।
- ফি জমার শেষ তারিখ: বিলম্ব ফি ছাড়া ২৪ নভেম্বর, বিলম্ব ফিসহ ৩০ নভেম্বর।
- নিয়মিত পরীক্ষার্থীর ফি: বিজ্ঞান ২,৪৩৫ টাকা; ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক ২,৩১৫ টাকা।
- নোটিশ-বহির্ভূত কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না; প্রমাণ পেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
পরীক্ষার্থী নিজে কি অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবে?
সংক্ষেপে — না, এই প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক। বোর্ডের অনলাইন ফরম পূরণ ব্যবস্থায় স্কুল/কলেজ কর্তৃপক্ষ লগইন করে তাদের পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে। পরীক্ষার্থীর ভূমিকা হলো সঠিক তথ্য দেওয়া, নির্ধারিত ফি সময়মতো জমা দেওয়া এবং রসিদ সংরক্ষণ করা।
তবে সচেতন পরীক্ষার্থী হিসেবে আপনি সম্ভাব্য তালিকা নিজে দেখতে পারেন (বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর) এবং ফরমে কী তথ্য গেল তা স্কুলের কাছে জেনে নিতে পারেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সক্রিয় থাকুন — এটাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
ফি সময়মতো জমা না দিলে কী হবে?
ফরম পূরণ করলেও নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ফি পরিশোধ না হলে ফরম চূড়ান্ত হয় না — অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা ঝুঁকিতে পড়ে। বিলম্ব ফি ছাড়া আবেদনকারীদের জন্য ফি জমার শেষ তারিখ ২৪ নভেম্বর, আর বিলম্ব ফিসহ আবেদনকারীদের জন্য ৩০ নভেম্বর।
বাস্তবে ফি জমা দেওয়ার কাজটিও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়, তাই পরীক্ষার্থী হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো স্কুলের নির্ধারিত তারিখের আগেই টাকা পৌঁছে দেওয়া — কারণ স্কুলের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ডেডলাইন বোর্ডের ডেডলাইনের চেয়ে আগে হতে পারে। শেষ দিনে টাকা নিয়ে দৌড়ানোর চেয়ে এক সপ্তাহ আগে কাজ শেষ করা হাজার গুণে নিরাপদ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
এসএসসি ফরম পূরণ ২০২৭ কবে থেকে শুরু হবে?
ঢাকা বোর্ডের নোটিশ অনুযায়ী অনলাইন ফরম পূরণ শুরু হবে ১৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে। বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
ফরম পূরণের একদম শেষ তারিখ কবে?
বিলম্ব ফি ছাড়া শেষ তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২৬। পরীক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা বিলম্ব ফি দিয়ে ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণ করা যাবে।
বিজ্ঞান বিভাগে ফরম পূরণের ফি কত?
নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিভাগে ফি ২,৪৩৫ টাকা। বিলম্ব ফিসহ এই অঙ্ক দাঁড়ায় ২,৫৩৫ টাকা।
ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ফি কত?
উভয় বিভাগের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ফি ২,৩১৫ টাকা। বিলম্ব ফি যোগ করলে মোট ২,৪১৫ টাকা।
বিলম্ব ফি কত টাকা?
পরীক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা বিলম্ব ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময়সীমা ২৪–২৯ নভেম্বর, আর ফি জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।
সম্ভাব্য তালিকা কোথায় পাব?
১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেখানে নিজের তথ্য মিলিয়ে দেখে ভুল থাকলে স্কুলকে জানান।
এই সময়সূচি কি সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য?
না। এটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১৭ অক্টোবরের নোটিশের সময়সূচি। অন্য বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিশ অনুসরণ করুন।
স্কুল নোটিশের চেয়ে বেশি ফি চাইলে কী করব?
বোর্ড স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে — নোটিশের বাইরে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না। লিখিত রসিদ নিন, প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করুন; প্রমাণ পেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নোটিশেই বলা আছে।
বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশ নিজে কীভাবে যাচাই করবেন?
ফেসবুক-ইউটিউবে ফরম পূরণ নিয়ে অসংখ্য পোস্ট ঘোরে, যার অনেকগুলোতেই ভুল তারিখ বা পুরনো বছরের তথ্য থাকে। নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সবসময় মূল উৎস যাচাই করুন:
- বোর্ডের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ড: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে “নোটিশ” সেকশনে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ফরম পূরণ-সংক্রান্ত নোটিশটি খুঁজুন। তারিখ ও স্মারক নম্বর মিলিয়ে নিন।
- নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম: বিএসএস সূত্রে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসহ একাধিক জাতীয় গণমাধ্যম একই তারিখ ও ফির অঙ্ক প্রকাশ করেছে — একাধিক উৎসে মিল থাকলে তথ্য নির্ভরযোগ্য।
- স্কুলের অফিসিয়াল নোটিশ: আপনার প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড বা অফিসিয়াল গ্রুপে দেওয়া নির্দেশনা বোর্ডের নোটিশের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
- ভুয়া পেজ এড়িয়ে চলুন: “ফরম পূরণের তারিখ পরিবর্তন” বা “ফি কমানো হয়েছে” — এমন চমকপ্রদ দাবি দেখলে প্রথমে বোর্ডের ওয়েবসাইট যাচাই করুন, শেয়ার করার আগে নয়।
অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
এই পোস্টের সব তারিখ ও ফি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নোটিশ অনুযায়ী। রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নোটিশ প্রকাশিত হয় — তারিখ ও ফির অঙ্কে পার্থক্য থাকতে পারে।
আপনি অন্য বোর্ডের হলে নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটের নোটিশ সেকশন নিয়মিত দেখুন। তবে এই পোস্টের চেকলিস্ট, ভুল এড়ানোর পরামর্শ ও ফি-যাচাইয়ের কৌশল সব বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্যই সমানভাবে কাজে লাগবে — প্রক্রিয়ার ধরন সব বোর্ডেই প্রায় এক।
অভিভাবকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
ফরম পূরণের পুরো প্রক্রিয়ায় অভিভাবকের সক্রিয় ভূমিকা পরীক্ষার্থীর নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আপনার সন্তান হয়তো তারিখ মনে রাখবে না বা স্কুলের নোটিশ পড়তে ভুলে যাবে — এই জায়গাগুলোতে আপনার নজরদারি দরকার:
- ফরম পূরণের টাকা নিজে স্কুলে জমা দিন বা সন্তানের সাথে যান, এবং রসিদ নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।
- সম্ভাব্য তালিকায় সন্তানের নাম-বিষয় নিজে একবার মিলিয়ে দেখুন — ছোট ভুলও পরে বড় সমস্যা হয়।
- স্কুল যদি নোটিশের বাইরে অতিরিক্ত টাকা চায়, সন্তানকে একা চাপের মুখে ফেলবেন না; নিজে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলুন।
- ২৩ নভেম্বরের আগেই ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে কি না, স্কুল থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন — “হয়ে যাবে” শুনে নিশ্চিন্ত হবেন না।
একটা ফরম, একটা রসিদ, একটা যাচাই — এই তিনটি কাজ ঠিকমতো করলেই আপনার সন্তানের এসএসসি ২০২৭-এর পথে প্রথম বাধা নিরাপদে পার হয়ে যাবে।
মনে রাখার মতো ৫টি তারিখ — এক লাইনে
পুরো পোস্টের সারসংক্ষেপ এই পাঁচটি তারিখে: ১৫ নভেম্বর সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ; ১৬–২৩ নভেম্বর বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ; ২৪–২৯ নভেম্বর ১০০ টাকা বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ; ২৪ নভেম্বর ফি জমার শেষ তারিখ (বিলম্ব ফি ছাড়া); ৩০ নভেম্বর ফি জমার শেষ তারিখ (বিলম্ব ফিসহ)। ফি: বিজ্ঞান ২,৪৩৫ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক ২,৩১৫ টাকা। এই পাঁচটি তারিখ ফোনের ক্যালেন্ডারে এখনই সেভ করে রাখুন, আর স্কুলের নিজস্ব ডেডলাইনটাও পাশে লিখে রাখুন।
উপসংহার
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের পুরো চিত্র এখন আপনার সামনে: ১৫ নভেম্বর সম্ভাব্য তালিকা, ১৬–২৩ নভেম্বর বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ, ২৪–২৯ নভেম্বর বিলম্ব ফিসহ সুযোগ, আর ফি বিজ্ঞানে ২,৪৩৫ টাকা, অন্য বিভাগে ২,৩১৫ টাকা। সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো সময়মতো কাজ শেষ করা আর নোটিশের বাইরে এক টাকাও না দেওয়া।
এই পোস্টটি আপনার পরিচিত কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাজে লাগতে পারে — তাদের সাথে শেয়ার করুন, যাতে কেউ তারিখ মিস না করে। ফরম পূরণ-সংক্রান্ত আরও খবর জানতে চোখ রাখুন ক্লাসনোটবিডির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের সর্বশেষ আপডেটে এবং ভর্তি-সংক্রান্ত খবরের জন্য দেখুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৬-২৭-এর বিস্তারিত নির্দেশনা।
তথ্যসূত্র: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এর নোটিশ; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বিএসএস), ডেইলি নিউ নেশন। অন্য বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা নিজ বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশ যাচাই করে নিন।


