কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬ — আধুনিক সরকারি কার্যালয়ের সামনে নথিপত্র হাতে চাকরিপ্রার্থী

ঢাকায় সরকারি চাকরির খোঁজে যারা আছেন, তাঁদের জন্য এই সপ্তাহের সবচেয়ে কাজের খবরটা হলো কর অঞ্চল-৬-এর নতুন বিজ্ঞপ্তি। আবেদন শুরু হয়েছে ২৫ অক্টোবর, আর হাতে সময় আছে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত — তবে শেষ দিনের ভিড়ে সার্ভার আর টেলিটক SMS নিয়ে ঝামেলায় পড়তে না চাইলে আগেভাগে আবেদন সেরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সরাসরি উত্তর: কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-৬, ঢাকা ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪১ জন নিয়োগ দেবে। আবেদন চলছে অনলাইনে tax6.teletalk.com.bd পোর্টালে, শুরু ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে, শেষ ১৪ নভেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক — তিন স্তরের প্রার্থীরাই পদ অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন, তবে শুধু ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা।

এই পোস্টে আমি পদভিত্তিক শূন্যপদ, যোগ্যতা, টাইপিং গতির শর্ত, বেতন, ফি, SMS-এ ফি দেওয়ার নিয়ম আর আবেদনের ধাপগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে দিয়েছি। সঙ্গে থাকছে আবেদনকারীদের সবচেয়ে বেশি করা ভুলগুলো এড়ানোর পরামর্শ — যেগুলো না জানলে ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও আবেদন বাতিল হতে পারে। তবে একটা কথা আগেই পরিষ্কার করে দিই: নিচের তথ্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে যাচাই করে লেখা, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তির PDF-টা নিজে একবার পড়ে নেবেন।

Table of Contents

কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬: এক নজরে

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠানকর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-৬, ঢাকা
মন্ত্রণালয়অর্থ মন্ত্রণালয় (অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন)
মোট পদ৭টি ক্যাটাগরি, মোট ৪১ জন
চাকরির ধরনসরকারি, অস্থায়ী পদে সরাসরি নিয়োগ
কর্মস্থলঢাকা
যোগ্যতাপদ অনুযায়ী এসএসসি / এইচএসসি / স্নাতক
বয়সসীমা১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর
আবেদন শুরু২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ সময়১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা
আবেদন মাধ্যমঅনলাইন, tax6.teletalk.com.bd
আবেদন ফি১–৬ নম্বর পদ: ১১২ টাকা; ৭ নম্বর পদ: ৫৬ টাকা
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ১৮ অক্টোবর ২০২৬

একটা জরুরি শর্ত এখানেই বলে রাখি, কারণ এটাই এই বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে বড় ছাঁকনি। শুধু কর অঞ্চল-৬-এর আওতাধীন ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। ঢাকায় থাকেন কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা অন্য জেলায় — এমন প্রার্থীর আবেদন এই বিজ্ঞপ্তিতে গ্রহণযোগ্য হবে না। আমার অভিজ্ঞতায়, এই শর্তটা না পড়েই অনেকে আবেদন করে ফেলেন, পরে যাচাইয়ে গিয়ে আটকে যান। তাই আবেদনের আগে নিজের স্থায়ী ঠিকানার বিষয়টা নিশ্চিত হয়ে নিন।

কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগে কোন কোন পদে কতজন নেওয়া হবে?

এই বিজ্ঞপ্তিতে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪১ জন নেওয়া হবে। পদভিত্তিক সংখ্যা যোগ করলে হিসাবটা মিলে যায় — ১ + ৮ + ২ + ৯ + ১০ + ২ + ৯ = ৪১। নিচের টেবিলে পুরো ছবিটা এক নজরে দেখে নিন, তারপর প্রতিটি পদের বিস্তারিত যোগ্যতা পড়ুন।

ক্রমিকপদের নামপদসংখ্যাগ্রেডবেতন স্কেল (টাকা)
১কম্পিউটার অপারেটর১টি১৩২৪,০০০–৫৮,০০০
২প্রধান সহকারী৮টি১৩২৪,০০০–৫৮,০০০
৩সাঁটলিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর২টি১৩২৪,০০০–৫৮,০০০
৪সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর৯টি১৪২৩,৫০০–৫৬,৮০০
৫অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক১০টি১৬২১,৯০০–৫২,৯০০
৬গাড়িচালক২টি১৬২১,৯০০–৫২,৯০০
৭অফিস সহায়ক৯টি২০২০,০০০–৪৮,৪০০
মোট৪১টি

সবচেয়ে বেশি পদ আছে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে — ১০টি। এরপর সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক পদে ৯টি করে। এইচএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য অফিস সহকারী পদটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ, আর এসএসসি পাসদের জন্য অফিস সহায়ক ও গাড়িচালক পদ দুটি। স্নাতকদের জন্য প্রধান সহকারী, সাঁটলিপিকার ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিক পদগুলোতে মোট ১৯টি আসন আছে।

প্রতিটি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও টাইপিং গতি কী?

এই অংশটা মন দিয়ে পড়ুন। সরকারি নিয়োগে টাইপিং আর সাঁটলিপির গতির শর্তে অনেকেই আটকে যান — শুধু ডিগ্রি থাকলেই হবে না, গতি প্রমাণ করতে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষায়।

১. কম্পিউটার অপারেটর (১টি, গ্রেড-১৩)

স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি লাগবে। কম্পিউটার টাইপিংয়ে বাংলায় প্রতি মিনিটে ২৫ শব্দ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দের গতি থাকতে হবে, এবং সংশ্লিষ্ট Standard Aptitude Test-এ উত্তীর্ণ হতে হবে।

২. প্রধান সহকারী (৮টি, গ্রেড-১৩)

যেকোনো বিষয়ে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার টাইপিংয়ে বাংলায় ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দ প্রতি মিনিটের গতি লাগবে। সঙ্গে ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল ও ফ্যাক্স চালনায় দক্ষতা চাওয়া হয়েছে।

৩. সাঁটলিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর (২টি, গ্রেড-১৩)

যেকোনো বিষয়ে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণিসহ স্নাতক ডিগ্রি। সাঁটলিপিতে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ৮০ শব্দ ও বাংলায় ৫০ শব্দের গতি, আর টাইপিংয়ে ইংরেজিতে ৩০ ও বাংলায় ২৫ শব্দের গতি থাকতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন।

৪. সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর (৯টি, গ্রেড-১৪)

যেকোনো বিষয়ে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণিসহ স্নাতক ডিগ্রি। সাঁটলিপিতে ইংরেজিতে ৭০ শব্দ ও বাংলায় ৪৫ শব্দ প্রতি মিনিটের গতি, আর টাইপিংয়ে ইংরেজিতে ৩০ ও বাংলায় ২৫ শব্দের গতি লাগবে।

৫. অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (১০টি, গ্রেড-১৬)

এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় অন্যূন দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ উত্তীর্ণ হতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২০ শব্দ টাইপিংয়ের গতি থাকতে হবে। এই পদে কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকা আবশ্যক।

৬. গাড়িচালক (২টি, গ্রেড-১৬)

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। হালকা গাড়ি চালানোর বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে এবং নির্ধারিত ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

৭. অফিস সহায়ক (৯টি, গ্রেড-২০)

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আবেদন করা যাবে। এই পদের জন্য আলাদা কোনো টাইপিং গতির শর্ত নেই, তাই এসএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য এটা সবচেয়ে সহজ প্রবেশপথ।

একটা বাস্তব পরামর্শ দিই। টাইপিং গতির শর্তটা অনেকেই হালকাভাবে নেন, কিন্তু ব্যবহারিক পরীক্ষায় নির্ধারিত গতির চেয়ে কম হলেই বাদ পড়তে হয়। আপনি যদি অফিস সহকারী বা প্রধান সহকারী পদে আবেদন করেন, আবেদনের পরের সপ্তাহগুলোতে প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং অনুশীলন চালিয়ে যান। পরীক্ষার হলে নতুন করে গতি বাড়ানো যায় না।

বয়সসীমা কত? কারা আবেদন করতে পারবেন?

প্রার্থীর বয়স ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয় — জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বয়সের বিশেষ ছাড় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে, তাই নিজের ক্ষেত্রে ছাড় প্রযোজ্য কি না, তা বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে নিন।

আবেদনকারীদের জন্য আরও কয়েকটি শর্ত আছে। প্রথমত, আগেই বলেছি — শুধু ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, একজন প্রার্থী শুধু একটি পদেই আবেদন করতে পারবেন; একাধিক পদে আবেদন করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। তৃতীয়ত, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার সময় অনাপত্তিপত্র (NOC) দেখাতে হবে। চতুর্থত, লিখিত, ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো টিএ/ডিএ দেওয়া হবে না।

এই শর্তগুলো পড়তে বিরক্তিকর লাগতে পারে, কিন্তু আমার পরামর্শ হলো — আবেদন বোতামে ক্লিক করার আগে এই চারটি পয়েন্ট নিজের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ভুল তথ্য বা ভুয়া কাগজপত্র দিলে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিক বাতিলের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগে বেতন কত হবে?

বেতন স্কেল নির্ধারিত হয়েছে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী, গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত। মূল বেতনের সঙ্গে সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা এবং বার্ষিক উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা প্রযোজ্য হবে। তাই হাতে পাওয়া মাসিক বেতন মূল স্কেলের চেয়ে বেশি হবে, তবে সঠিক অঙ্ক পদায়ন ও কর্মস্থলের ওপর নির্ভর করে।

গ্রেডবেতন স্কেল (টাকা)পদ
১৩২৪,০০০–৫৮,০০০কম্পিউটার অপারেটর, প্রধান সহকারী, সাঁটলিপিকার
১৪২৩,৫০০–৫৬,৮০০সাঁটমুদ্রাক্ষরিক
১৬২১,৯০০–৫২,৯০০অফিস সহকারী, গাড়িচালক
২০২০,০০০–৪৮,৪০০অফিস সহায়ক

একই ধরনের কর অঞ্চলের অন্য বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে তুলনা করতে চাইলে আমাদের কর অঞ্চল-৯ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬ পোস্টটাও দেখতে পারেন — সেখানে ৩৮ পদে আবেদন চলছে, শেষ তারিখও ১৪ নভেম্বর। তবে মনে রাখবেন, দুটি আলাদা বিজ্ঞপ্তি, আলাদা পোর্টাল — একটার আবেদন অন্যটায় কাজ করবে না।

আবেদন ফি কত ও কীভাবে দেবেন?

আবেদন ফি টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল থেকে SMS-এর মাধ্যমে দিতে হবে, অনলাইন ফরম জমা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। এই ৭২ ঘণ্টার নিয়মটাই সবচেয়ে বেশি আবেদন বাতিলের কারণ হয় — ফরম জমা দিয়ে ফি দিতে ভুলে গেলে আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

পদপরীক্ষার ফি + সার্ভিস চার্জমোট
১–৬ নম্বর পদ১০০ টাকা + ১২ টাকা১১২ টাকা
৭ নম্বর পদ (অফিস সহায়ক)৫০ টাকা + ৬ টাকা৫৬ টাকা
অনগ্রসর শ্রেণি (শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, তৃতীয় লিঙ্গ) — সব পদ৫০ টাকা + ৬ টাকা৫৬ টাকা

SMS-এর নিয়মটা ঠিকভাবে লিখে রাখুন। প্রথম SMS: TAX6 <স্পেস> User ID লিখে পাঠান 16222 নম্বরে। ফিরতি SMS-এ একটি PIN আসবে। দ্বিতীয় SMS: TAX6 <স্পেস> YES <স্পেস> PIN লিখে আবার 16222 নম্বরে পাঠান। ফি জমা হলে নিশ্চিতকরণ বার্তা আসবে — সেটা সংরক্ষণ করে রাখুন, পরে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সময় কাজে লাগবে।

অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে? ধাপে ধাপে

আবেদন প্রক্রিয়াটা সহজ, কিন্তু প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকতে হবে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

  1. পোর্টালে যান: tax6.teletalk.com.bd ঠিকানায় প্রবেশ করুন এবং Application Form অপশনে ক্লিক করুন।
  2. পদ নির্বাচন করুন: নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী একটি পদ বেছে নিন। মনে রাখবেন, একাধিক পদে আবেদন করা যাবে না।
  3. ফরম পূরণ করুন: ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ভুলভাবে লিখুন। নাম, জন্মতারিখ ও রোল নম্বরের বানান সনদের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নিন।
  4. ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন: রঙিন ছবি ৩০০x৩০০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ১০০ KB) এবং স্বাক্ষর ৩০০x৮০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ৬০ KB) হতে হবে।
  5. যাচাই করে জমা দিন: Submit করার আগে পুরো ফরম আরেকবার পড়ুন। জমা দেওয়ার পর Applicant’s Copy ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন — এতে আপনার User ID থাকবে।
  6. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিন: উপরের SMS নিয়মে টেলিটক প্রি-পেইড সিম থেকে ফি পরিশোধ করুন এবং নিশ্চিতকরণ বার্তা সংরক্ষণ করুন।

আবেদনকারীদের জন্য আমার পরামর্শ: শেষ দিনের জন্য ফেলে রাখবেন না। শেষ দিনে পোর্টালে চাপ বাড়ে, আর কোনো ছোট ভুল হলে সংশোধনের সময় থাকে না। আবেদন করার পর User ID ও PIN-এর স্ক্রিনশট আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করুন — ফোন হারালে বা মেসেজ মুছে গেলে এটাই আপনার ভরসা।

ছবি ও স্বাক্ষরের মাপ কেমন হবে?

অনলাইন আবেদনে ছবি ও স্বাক্ষরের মাপ নিয়ে অনেকেই আটকে যান। নিয়মটা পরিষ্কার: রঙিন ছবি ৩০০x৩০০ পিক্সেল, ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ১০০ KB; স্বাক্ষর ৩০০x৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ KB। সদ্য তোলা পরিষ্কার ছবি ব্যবহার করুন — পুরোনো, ঝাপসা বা অন্য কারও ছবি দিলে যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে। ছবির ফাইল বড় হলে যেকোনো ছবি কমপ্রেসর দিয়ে আকার কমিয়ে নিন, তবে মুখ যেন স্পষ্ট থাকে।

আবেদন করার আগে যে ভুলগুলো এড়াবেন

গত কয়েক বছরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে যে ভুলগুলো বারবার চোখে পড়ে, সেগুলো এক জায়গায় জড়ো করলাম।

  • জেলার শর্ত না পড়া: ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও আবেদন করা — এই বিজ্ঞপ্তিতে এটা সরাসরি অযোগ্যতা।
  • একাধিক পদে আবেদন: সুযোগ বাড়াতে দুটি পদে আবেদন করলে উল্টো দুটোই বাতিল হতে পারে।
  • ফি দিতে দেরি: ফরম জমা দিয়ে ৭২ ঘণ্টা পার করে ফেললে আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
  • টাইপিং গতি যাচাই না করা: সনদে গতি লেখা থাকলেই হবে না — ব্যবহারিক পরীক্ষায় গতি প্রমাণ করতে হবে।
  • ভুল তথ্য দেওয়া: নামের বানান, জন্মতারিখ বা রোল নম্বরে ভুল থাকলে পরে সংশোধনের সুযোগ নাও মিলতে পারে।
  • শেষ মুহূর্তে আবেদন: ১৪ নভেম্বর বিকেল ৪টার ঠিক আগে আবেদন করতে গিয়ে নেটওয়ার্ক বা SMS জটিলতায় পড়া খুবই সাধারণ ঘটনা।

পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে? প্রবেশপত্র কোথায় পাবেন?

পদ অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া আলাদা হবে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক পরীক্ষা (টাইপিং, সাঁটলিপি বা ড্রাইভিং — পদ অনুযায়ী) দিতে হয়, তারপর মৌখিক পরীক্ষা। অফিস সহকারী ও সাঁটলিপি-সংক্রান্ত পদে ব্যবহারিক পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার তারিখ ও প্রবেশপত্র সংক্রান্ত তথ্য এখনো ঘোষণা করা হয়নি — যোগ্য প্রার্থীদের SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে, এবং tax6.teletalk.com.bd পোর্টাল থেকে User ID ও Password দিয়ে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। কোনো ফেসবুক পোস্ট বা অপরিচিত নম্বরের SMS-কে পরীক্ষার তারিখ বলে বিশ্বাস করবেন না; শুধু অফিশিয়াল পোর্টাল ও SMS-ই ভরসাযোগ্য।

প্রস্তুতির দিক থেকে বললে, এই ধরনের পদের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নই বেশি থাকে। যারা সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য বিপিএটিসি নিয়োগ ২০২৬ ও পুলিশ সিআইডি নিয়োগ ২০২৬ পোস্ট দুটোতেও একই ধরনের পদ ও প্রস্তুতির ধারণা পাবেন।

কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

ঘটনাতারিখ ও সময়
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ১৮ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন আবেদন শুরু২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা
অনলাইন আবেদনের শেষ সময়১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা
ফি জমার শেষ সময়ফরম জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
প্রবেশপত্র ও পরীক্ষার তারিখপরে SMS ও পোর্টালে জানানো হবে

কর অঞ্চল-৬-এর কাজ কী? এই চাকরি কেন আলাদা?

কর অঞ্চল-৬ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ঢাকার একটি কর প্রশাসনিক অঞ্চল। এখানকার কর্মীদের মূল কাজ আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনা, করদাতাদের সেবা দেওয়া, ফাইল ও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং অফিসের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চালানো। কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহকারী পদে যাঁরা যোগ দেবেন, তাঁদের বেশিরভাগ সময় কাটবে ডেটা এন্ট্রি, চিঠিপত্র তৈরি, ফাইল প্রসেসিং ও করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে। সাঁটলিপি ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিক পদে সভা ও শুনানির বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা এবং তা টাইপ করে প্রতিবেদন আকারে সাজানো মূল দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

অনেকেই ভাবেন, কর অফিসের চাকরি মানেই শুধু হিসাবের কাজ। বাস্তবে এই পদগুলোর বেশিরভাগই প্রশাসনিক ও কম্পিউটার-নির্ভর। তাই যাঁরা কম্পিউটারে স্বচ্ছন্দ, নথিপত্র গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করেন এবং ধৈর্য ধরে রুটিন কাজ করতে পারেন, তাঁদের জন্য এই চাকরি বেশ মানানসই। আরেকটা দিকও আছে — কর অফিসের কাজে নিয়মকানুন ও সময়সীমা মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রিটার্ন জমার মৌসুমে কাজের চাপ বাড়ে, তখন নির্ভুলভাবে দ্রুত কাজ করার ক্ষমতাটাই আলাদা করে চোখে পড়ে।

যাঁরা এই বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করছেন, তাঁদের জন্য আমার আরেকটা পরামর্শ আছে। শুধু আবেদন করেই বসে থাকবেন না — লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করুন। বিগত বছরের কর অঞ্চল ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী পদের প্রশ্নপত্র দেখলে বোঝা যায়, বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, সাধারণ গণিত ও বাংলাদেশ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান থেকেই বেশিরভাগ প্রশ্ন আসে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে এই চারটি বিষয় অনুশীলন করলে পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়ে। আর টাইপিং পদের প্রার্থীদের জন্য প্রতিদিনের টাইপিং অনুশীলন তো আগেই বলেছি — এটা প্রস্তুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

একটা কথা মনে রাখা ভালো। সরকারি চাকরির আবেদনে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তাড়াহুড়ো আর অসতর্কতা। ফরম পূরণের সময় ধীরে-সুস্থে প্রতিটি ঘর পড়ুন, সনদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নিন, তারপর জমা দিন। জমা দেওয়ার পর Applicant’s Copy-টা সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ করুন। এই ছোট ছোট সতর্কতাই শেষ পর্যন্ত আপনার আবেদনকে নিরাপদ রাখে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬-এ মোট কতজন নেওয়া হবে?
৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪১ জন নেওয়া হবে। সবচেয়ে বেশি পদ অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে (১০টি), তারপর সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক পদে ৯টি করে।

২. আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা পর্যন্ত tax6.teletalk.com.bd পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। তবে ফরম জমা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিতে হবে, নইলে আবেদন অসম্পূর্ণ থাকবে।

৩. কারা আবেদন করতে পারবেন?
শুধু ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। বয়স ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর হতে হবে। পদ অনুযায়ী এসএসসি, এইচএসসি বা স্নাতক পাস লাগবে।

৪. আবেদন ফি কত?
১–৬ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা, অফিস সহায়ক পদের জন্য ৫৬ টাকা। অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য সব পদে ফি ৫৬ টাকা। ফি টেলিটক প্রি-পেইড সিম থেকে SMS-এ দিতে হবে।

৫. ছবি ও স্বাক্ষরের মাপ কেমন হবে?
রঙিন ছবি ৩০০x৩০০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ১০০ KB) এবং স্বাক্ষর ৩০০x৮০ পিক্সেল (সর্বোচ্চ ৬০ KB) হতে হবে।

৬. একজন প্রার্থী কি একাধিক পদে আবেদন করতে পারবেন?
না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী একজন প্রার্থী শুধু একটি পদেই আবেদন করতে পারবেন। একাধিক পদে আবেদন করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

৭. প্রবেশপত্র কবে পাওয়া যাবে?
পরীক্ষার তারিখ ও প্রবেশপত্র এখনো ঘোষণা করা হয়নি। যোগ্য প্রার্থীদের SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে এবং tax6.teletalk.com.bd থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে।

শেষ কথা

কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬ এসএসসি থেকে স্নাতক — সব স্তরের ঢাকার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটা বাস্তব সুযোগ। ৪১টি পদের মধ্যে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন পদ বেছে নিন, ১৪ নভেম্বর বিকেল ৪টার অনেক আগেই আবেদন সেরে ফেলুন, আর ফি দেওয়ার SMS-টা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে ভুলবেন না। আবেদন করার আগে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি আর tax6.teletalk.com.bd পোর্টালের নির্দেশনা আরেকবার মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

আবেদন জমা দেওয়ার পর কাজ শেষ নয় — বরং পরের ধাপের প্রস্তুতি শুরু। User ID, PIN ও নিশ্চিতকরণ বার্তা নিরাপদে সংরক্ষণ করুন, কারণ প্রবেশপত্র ডাউনলোড থেকে শুরু করে পরীক্ষার হলে উপস্থিতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এগুলো লাগবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষাগত সনদের মূল কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ ও ছবি আগে থেকে এক জায়গায় গুছিয়ে রাখুন, যাতে ডাক পেলে হুট করে খুঁজতে না হয়। আর সরকারি চাকরিতে কর্মরত প্রার্থীরা অনাপত্তিপত্রের বিষয়টা আগে থেকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেরে রাখুন — শেষ মুহূর্তে এই কাগজ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই বিপদে পড়েন।

অফিশিয়াল লিংক: অনলাইন আবেদন — tax6.teletalk.com.bd। এই পোস্টটি তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা; কোনো তথ্যে সন্দেহ থাকলে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিকেই চূড়ান্ত বলে ধরুন।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp