কর অঞ্চল-৯ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬ — সরকারি অফিস ভবনের সামনে নথি হাতে একজন কর্মকর্তা

ঢাকায় থাকেন, আর সরকারি চাকরির খোঁজ করছেন? তাহলে এই খবরটা আপনার জন্যই। অনেকেই মাসের পর মাস শুধু বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় থাকেন, আর ভালো একটা সার্কুলার এলে শেষ দিনের তাড়াহুড়োয় ভুল করে বসেন। কর অঞ্চল-৯ ঢাকার নতুন নিয়োগটা সেই দিক থেকে একটু আলাদা — আবেদনের সময় এখনো হাতে আছে, কিন্তু শর্তগুলো বেশ নির্দিষ্ট। তাই আগেভাগে সবকিছু জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কর অঞ্চল-৯ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬-এ ৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায়, চলবে ১৪ নভেম্বর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে tax9.teletalk.com.bd পোর্টালের মাধ্যমে। ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে থাকতে হবে, আর আবেদন করতে পারবেন শুধু ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা।

আমার অভিজ্ঞতায়, কর অঞ্চলের নিয়োগগুলোতে সবচেয়ে বেশি আবেদন আসে অফিস সহকারী আর সাঁটমুদ্রাক্ষরিক পদে। কারণ এই পদগুলোতে এইচএসসি বা স্নাতক পাসেই আবেদন করা যায়, আর টাইপিং জানা থাকলে সুযোগটা বাস্তবসম্মত মনে হয়। তবে এখানেই একটা কথা মনে রাখবেন — টাইপিংয়ের গতি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে দেওয়া আছে। গতি না থাকলে শুধু আবেদন করে লাভ নেই, ব্যবহারিক পরীক্ষাতেই আটকে যাবেন। তাই আবেদনের আগেই নিজের গতি মেপে নিন।

এই পোস্টে আমি বিজ্ঞপ্তির সব তথ্য এক জায়গায় সাজিয়ে দিয়েছি — পদভিত্তিক শূন্যপদ, যোগ্যতা, বেতন স্কেল, বয়স, ফি, আবেদনের ধাপ আর সাধারণ ভুলগুলো। শেষে থাকছে আবেদনকারীদের আসল প্রশ্নগুলোর উত্তর। একটা অনুরোধ থাকবে: আবেদন জমা দেওয়ার আগে মূল বিজ্ঞপ্তিটা একবার নিজে মিলিয়ে নেবেন। চাকরির আবেদনে অন্যের লেখা ভরসা নয়, মূল বিজ্ঞপ্তিই শেষ কথা।

Table of Contents

কর অঞ্চল-৯ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬: এক নজরে

প্রতিষ্ঠানকর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-৯, ঢাকা
মন্ত্রণালয়অর্থ মন্ত্রণালয় (জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন)
পদের ক্যাটাগরি৯টি
মোট শূন্যপদ৩৮ জন
চাকরির ধরনসরকারি, অস্থায়ী ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ
কর্মস্থলঢাকা (প্রধান কার্যালয়: ৩২ গরীব-ই-নেওয়াজ এভিনিউ, সেক্টর-১৩, উত্তরা, ঢাকা)
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ২৫ অক্টোবর ২০২৬, দৈনিক যুগান্তর
আবেদন শুরু২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ তারিখ১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টা
আবেদনের মাধ্যমঅনলাইন, tax9.teletalk.com.bd
বয়সসীমা১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর
আবেদন ফি১১২ টাকা (১–৬ নম্বর পদ), ৫৬ টাকা (৭–৯ নম্বর পদ ও অনগ্রসর প্রার্থী)
যারা আবেদন করতে পারবেনশুধু ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা

অনেকে গুগলে tax9 job circular লিখেও এই বিজ্ঞপ্তিটা খোঁজেন। বাংলায় হোক বা ইংরেজিতে, তথ্য একই — ৩৮টি পদ, আবেদনের শেষ সময় ১৪ নভেম্বর। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন: কর অঞ্চল-৯ আর কর অঞ্চল-১৩ বা কর অঞ্চল-৬ এক জিনিস নয়। প্রতিটার আবেদন পোর্টাল আলাদা, শেষ তারিখ আলাদা। ভুল পোর্টালে আবেদন করলে ফি-ও যাবে, সময়ও যাবে।

কোন কোন পদে কতজন নেওয়া হবে?

এই নিয়োগে সবচেয়ে বেশি পদ সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটরে — ১১টি। তারপর অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৯টি। বাকি পদগুলোতে ১ থেকে ৫টি করে শূন্যপদ আছে। নিচের টেবিলে পুরো হিসাবটা মিলিয়ে দেখুন — যোগ করলে ঠিক ৩৮ হয়।

ক্রমিকপদের নামপদসংখ্যাগ্রেড ও বেতন স্কেল
১সাঁট লিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর৪টিগ্রেড-১৩, ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা
২উচ্চমান সহকারী৪টিগ্রেড-১৪, ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা
৩সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর১১টিগ্রেড-১৪, ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা
৪অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক৯টিগ্রেড-১৬, ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা
৫গাড়িচালক১টিগ্রেড-১৬, ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা
৬মেশিন অপারেটর১টিগ্রেড-১৬, ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা
৭নোটিশ সার্ভার২টিগ্রেড-২০, ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা
৮অফিস সহায়ক৫টিগ্রেড-২০, ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা
৯নিরাপত্তাপ্রহরী১টিগ্রেড-২০, ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা
মোট৩৮টি

পদ বাছার সময় শুধু সংখ্যা দেখবেন না। আমার পরামর্শ হলো, প্রথমে দেখুন কোন পদের যোগ্যতা আপনার সঙ্গে মেলে, তারপর দেখুন প্রতিযোগিতা কেমন হতে পারে। সাঁটমুদ্রাক্ষরিক পদে সংখ্যা বেশি হলেও সাঁটলিপি জানা প্রার্থী কম — তাই দক্ষতা থাকলে সেখানে সুযোগটা আসলে বেশি। আর অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারী সবচেয়ে বেশি হয়, কারণ যোগ্যতা শুধু এসএসসি।

পদভিত্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ও টাইপিং গতি কী?

এই অংশটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল পদে আবেদন করলে ফি-টাই নষ্ট। প্রতিটা পদের যোগ্যতা নিচে আলাদা করে দেওয়া হলো। নিজের সনদ আর দক্ষতার সঙ্গে মিলিয়ে নিন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

১. সাঁট লিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (৪টি, গ্রেড-১৩)

যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএতে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি লাগবে। সাঁটলিপির গতি প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ৮০ শব্দ ও বাংলায় ৫০ শব্দ হতে হবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরের গতি প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ৩০ শব্দ ও বাংলায় ২৫ শব্দ। সেই সঙ্গে কম্পিউটার ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল, ফ্যাক্স মেশিন চালনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

২. উচ্চমান সহকারী (৪টি, গ্রেড-১৪)

যেকোনো বিষয়ে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএতে স্নাতক ডিগ্রি লাগবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরের গতি প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ৩০ শব্দ ও বাংলায় ২৫ শব্দ। ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল ও ফ্যাক্স মেশিন চালনার দক্ষতা চাওয়া হয়েছে। এই পদে সাঁটলিপি লাগে না, তাই যারা শুধু টাইপিংয়ে ভালো, তাদের জন্য এটা ভালো বিকল্প।

৩. সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (১১টি, গ্রেড-১৪)

স্নাতক ডিগ্রি (দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ) লাগবে। সাঁটলিপির গতি প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ৭০ শব্দ ও বাংলায় ৪৫ শব্দ। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরের গতি প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ৩০ শব্দ ও বাংলায় ২৫ শব্দ। কম্পিউটার চালনার দক্ষতাও থাকতে হবে। খেয়াল করুন, সাঁট লিপিকার পদের চেয়ে এখানে সাঁটলিপির গতি কিছুটা কম চাওয়া হয়েছে, কিন্তু পদসংখ্যা প্রায় তিন গুণ।

৪. অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (৯টি, গ্রেড-১৬)

যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএতে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরের গতি প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ২০ শব্দ ও বাংলায় ২০ শব্দ। ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল ও ফ্যাক্স মেশিন চালনার দক্ষতা লাগবে। এইচএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য এই নিয়োগের সবচেয়ে বড় দরজা এটাই।

৫. গাড়িচালক (১টি, গ্রেড-১৬)

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। হালকা গাড়ি চালনার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে এবং ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। লাইসেন্সের মেয়াদ আর ক্যাটাগরি আগেই যাচাই করে নিন — মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে আবেদন করলে পরে ঝামেলায় পড়বেন।

৬. মেশিন অপারেটর (১টি, গ্রেড-১৬)

এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ফটোকপি মেশিন চালনায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পদ মাত্র একটা, তাই আবেদন করার আগে ভাবুন — এই কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা আপনার আছে কি না।

৭. নোটিশ সার্ভার (২টি, গ্রেড-২০)

এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আবেদন করা যাবে। এই পদে মাঠে গিয়ে নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার কাজ থাকে, তাই শারীরিকভাবে সচল থাকা জরুরি।

৮. অফিস সহায়ক (৫টি, গ্রেড-২০)

এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অফিসের দৈনন্দিন সহায়ক কাজ — ফাইল আনা-নেওয়া, অফিস গোছানো, চিঠিপত্র পৌঁছে দেওয়া — এসবই এই পদের কাজ। আবেদনকারী বেশি হবে, এটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিন।

৯. নিরাপত্তাপ্রহরী (১টি, গ্রেড-২০)

এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পদ মাত্র একটা, তবে যোগ্যতা সহজ হওয়ায় আগ্রহী প্রার্থী অনেক থাকবেন।

বয়সসীমা ও জেলার শর্ত কী?

১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয় — সনদে যে জন্মতারিখ আছে, সেটাই চূড়ান্ত। আর সবচেয়ে কড়া শর্তটা হলো জেলা: শুধু ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। ঢাকায় ভাড়া থাকলেই হবে না, স্থায়ী ঠিকানা ঢাকা জেলার হতে হবে।

আবেদনকারীদের জন্য আমার পরামর্শ: বয়স হিসাবটা নিজে একবার ক্যালকুলেটরে মিলিয়ে নিন। ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আপনার বয়স কত দাঁড়ায়, সেটা বের করুন। এক দিনের এদিক-ওদিকেও প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে, আর ফি ফেরত পাবেন না। বিভাগীয় প্রার্থী হলে আবেদনের আগেই কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিয়ে রাখুন — মৌখিক পরীক্ষার সময় সেটা দেখাতে হবে।

বেতন কত পাবেন?

বেতন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক। গ্রেড-১৩ পদে মূল বেতন শুরু ২৪,০০০ টাকা থেকে, সর্বোচ্চ ৫৮,০০০ টাকা পর্যন্ত। গ্রেড-১৪ পদে ২৩,৫০০ থেকে ৫৬,৮০০ টাকা। গ্রেড-১৬ পদে ২১,৯০০ থেকে ৫২,৯০০ টাকা। আর গ্রেড-২০ পদে ২০,০০০ থেকে ৪৮,৪০০ টাকা। মূল বেতনের সঙ্গে সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা, বার্ষিক উৎসব বোনাস ও বৈশাখী ভাতা যুক্ত হবে।

একটা কথা পরিষ্কার করে বলি — হাতে কত টাকা পাবেন, সেটা পদায়ন আর ভাতার নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো পোস্টে “এত টাকা পাবেনই” বলে দেওয়া সংখ্যায় চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবেন না। বেতন স্কেলটাই বিজ্ঞপ্তির নিশ্চিত তথ্য, সেটাই ধরুন।

আবেদন ফি কত ও কীভাবে দেবেন?

১ থেকে ৬ নম্বর পদের জন্য পরীক্ষার ফি ১০০ টাকা, সঙ্গে টেলিটক সার্ভিস চার্জ ১২ টাকা — মোট ১১২ টাকা। ৭ থেকে ৯ নম্বর পদের জন্য ফি ৫০ টাকা, চার্জ ৬ টাকা — মোট ৫৬ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীরা সব পদেই মোট ৫৬ টাকা দেবেন।

ফি দিতে হবে টেলিটক প্রি-পেইড সিম থেকে এসএমএসের মাধ্যমে। প্রথম এসএমএস: TAX9 লিখে স্পেস দিয়ে User ID লিখে পাঠান 16222 নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে একটা PIN আসবে। দ্বিতীয় এসএমএস: TAX9 লিখে স্পেস দিয়ে YES, স্পেস দিয়ে PIN লিখে পাঠান 16222 নম্বরে। আবেদন জমা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি না দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। নিজের নামে টেলিটক সিম না থাকলেও চলবে — পরিবারের কারো সিম থেকে ফি দেওয়া যায়।

User ID বা PIN ভুলে গেলে ঘাবড়াবেন না। User ID জানা থাকলে TAX9 Help User User ID লিখে 16222 নম্বরে পাঠান। PIN জানা থাকলে TAX9 Help PIN PIN নম্বর লিখে পাঠান। আর একটা জরুরি কথা — ফি জমা দেওয়ার আগে Applicant’s Copy-তে দেওয়া নির্দেশনাটা পড়ে নিন, সেটাই চূড়ান্ত।

অনলাইনে আবেদন করার ধাপে ধাপে নিয়ম

আবেদন করার আগে হাতের কাছে যা যা রাখবেন, তার একটা চেকলিস্ট দিচ্ছি। এই তালিকাটা আগে গুছিয়ে নিলে ফরম পূরণ করতে গিয়ে আটকাবেন না।

  • সব পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাসের সন, বোর্ড ও জিপিএ/সিজিপিএ
  • সদ্য তোলা রঙিন ছবি — ৩০০ × ৩০০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট
  • স্পষ্ট স্বাক্ষর — ৩০০ × ৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট
  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ নম্বর
  • সচল মোবাইল নম্বর (এসএমএস আর প্রবেশপত্রের আপডেট এই নম্বরেই আসবে)
  • পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ টেলিটক প্রি-পেইড সিম

এবার ধাপগুলো। প্রথমে tax9.teletalk.com.bd-তে যান। Application Form অপশনে ক্লিক করে যে পদে আবেদন করতে চান, সেটা নির্বাচন করুন। টেলিটক অলজবসের প্রিমিয়াম মেম্বার হলে Yes দিয়ে আইডি দিন, তথ্য নিজে থেকে পূরণ হয়ে যাবে। মেম্বার না হলে No সিলেক্ট করে মূল ফরম খুলুন।

ফরমের প্রতিটা ঘর — নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা — মূল সনদ দেখে হুবহু পূরণ করুন। সনদে যেভাবে নামের বানান আছে, সেভাবেই লিখুন। ছবি আর স্বাক্ষর নির্ধারিত সাইজে স্ক্যান করে আপলোড করুন। সাবমিট করার পর ছবিসহ Applicant’s Copy ডাউনলোড করে কালার প্রিন্ট করে রাখুন। এই কপিতেই আপনার User ID থাকবে, ফি দেওয়ার সময় এটাই লাগবে।

একজন প্রার্থী শুধু একটা পদেই আবেদন করতে পারবেন। একাধিক পদে আবেদন করলে প্রার্থিতা বাতিলের ঝুঁকি থাকে। তাই আগেই ঠিক করুন কোন পদে আবেদন করবেন, তারপর ফরম পূরণ করুন। আর আবেদন জমা দেওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিতে ভুলবেন না — এই ভুলটা প্রতি নিয়োগেই বহু প্রার্থী করেন।

আবেদন করার আগে যে ভুলগুলো এড়াবেন

  • ঢাকা জেলার বাইরের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে আবেদন করা — এটা শুরুতেই বাতিলের কারণ হবে।
  • একাধিক পদে আবেদন করা — নিয়ম অনুযায়ী শুধু একটা পদে আবেদন করা যাবে।
  • ছবি বা স্বাক্ষরের সাইজ না মিলিয়ে আপলোড করা — সাইজ বেশি হলে ফরম জমাই হবে না।
  • সনদের সঙ্গে না মিলিয়ে নামের বানান লেখা — পরে সংশোধনের সুযোগ থাকে না।
  • ফি দিতে ৭২ ঘণ্টার বেশি দেরি করা — সময় পেরোলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল।
  • শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করা — শেষ দিনে সার্ভার ব্যস্ত থাকে, অনেকেই জমা দিতে পারেন না।
  • ভুল পোর্টালে আবেদন করা — এই নিয়োগের পোর্টাল শুধু tax9.teletalk.com.bd, অন্য কোনো ট্যাক্স জোনের পোর্টাল নয়।

আরো দুটো শর্ত মনে রাখবেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো টিএ/ডিএ দেওয়া হবে না। আর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পদের সংখ্যা বাড়াতে-কমাতে পারে, এমনকি বিজ্ঞপ্তি বাতিলও করতে পারে। আবেদনে কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও হতে পারে। তাই সত্য তথ্য দেওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ।

পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সাধারণত এই ধরনের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হয়, তারপর সংশ্লিষ্ট পদের ব্যবহারিক পরীক্ষা (যেমন টাইপিং বা সাঁটলিপি) আর সবশেষে মৌখিক পরীক্ষা। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক টাইপিং পরীক্ষা দিতে হয়, তারপর মৌখিক পরীক্ষা। প্রবেশপত্র সংক্রান্ত তথ্য এসএমএসে আর tax9.teletalk.com.bd পোর্টালে জানানো হবে।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ খুব সোজা। টাইপিং পদের প্রার্থীরা প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা গতি মেপে অনুশীলন করুন — বাংলা আর ইংরেজি দুটোতেই। কারণ ব্যবহারিক পরীক্ষায় গতি না থাকলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেও লাভ হবে না। সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি আর গণিতের প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন দেখুন। প্রশ্নের ধরন বুঝে গেলে প্রস্তুতিটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

যারা একই সময়ে অন্য নিয়োগেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আরো কিছু চলমান বিজ্ঞপ্তি দেখে রাখা ভালো। যেমন বিপিএটিসি নিয়োগ ২০২৬-এ ৩৯টি পদে আবেদন চলছে, পুলিশ সিআইডি নিয়োগ ২০২৬-এ ১৮টি পদ আছে। বড় নিয়োগগুলোর মধ্যে বিসিআইসি নিয়োগ ২০২৬ আর পিএসসি নন-ক্যাডার নিয়োগ ২০২৬ সম্পর্কেও জেনে রাখতে পারেন। তবে একসঙ্গে অনেকগুলোতে আবেদন করলেও প্রতিটার প্রস্তুতি আলাদা করে নিতে হবে — সবার প্রশ্নের ধরন এক নয়।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: এক নজরে

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ২৫ অক্টোবর ২০২৬
আবেদন শুরু২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ তারিখ১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টা
ফি জমার শেষ সময়আবেদন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
বয়স গণনার তারিখ১ অক্টোবর ২০২৬
পরীক্ষার তারিখপরে জানানো হবে (এসএমএস ও পোর্টালে)

কর অঞ্চল-৯ ঢাকা সম্পর্কে সংক্ষেপে

কর অঞ্চল-৯ ঢাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত একটি রাজস্ব প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। দেশের প্রত্যক্ষ আয়কর আহরণ, করদাতাদের সেবা দেওয়া আর জাতীয় কোষাগারে রাজস্ব প্রবাহ ঠিক রাখা — এসব কাজই এই দপ্তরের মূল দায়িত্ব। প্রধান কার্যালয় উত্তরার সেক্টর-১৩-তে, ৩২ গরীব-ই-নেওয়াজ এভিনিউতে। যারা এখানে চাকরি পাবেন, তাদের কাজের পরিবেশ হবে পুরোপুরি সরকারি অফিসের — ফাইল, নথি, করদাতা সেবা আর অফিস প্রশাসন ঘিরেই দিন কাটবে।

এই প্রেক্ষাপটটা জানা থাকলে একটা সুবিধা হয়। অফিস সহকারী বা উচ্চমান সহকারী পদে যারা আসবেন, তাদের প্রতিদিনের কাজের বড় অংশই হবে নথি ব্যবস্থাপনা আর কম্পিউটারে কাজ। সাঁটলিপি পদের কাজ হবে সভা আর শুনানির বক্তব্য লিখে রাখা। তাই আবেদনের সময় শুধু “সরকারি চাকরি” ভেবে আবেদন না করে, কাজের ধরনটা নিজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। যে কাজে আপনি স্বচ্ছন্দ, সেই পদে টিকে থাকা অনেক সহজ হয়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর কী করবেন?

আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকেই ভাবেন কাজ শেষ। আসলে এখান থেকেই সতর্ক থাকার পালা শুরু। প্রথম কাজ: Applicant’s Copy-টা কালার প্রিন্ট করে একটা ফাইলে রেখে দিন, আর মোবাইলে একটা ছবি তুলে রাখুন। এই কপিতেই User ID আছে, আর পরবর্তীতে যেকোনো তথ্য যাচাই করতে এটাই লাগবে। দ্বিতীয় কাজ: ফি জমা দেওয়ার কনফার্মেশন এসএমএসটা ডিলিট করবেন না। ওই এসএমএসটাই প্রমাণ যে আপনার আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে।

তৃতীয় কাজ: আবেদনের সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছেন, সেটা পরীক্ষার দিন পর্যন্ত সচল রাখুন। প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তথ্য এসএমএসেই আসবে, আর নম্বর বন্ধ থাকলে সেই বার্তা আপনি পাবেন না। মাঝে মাঝে tax9.teletalk.com.bd পোর্টালে ঢুকে নোটিশ বোর্ডটা দেখে নিন। নতুন কোনো নির্দেশনা এলে সেখানেই প্রথম প্রকাশ করা হয়। আর কেউ যদি ফোন করে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়, সঙ্গে সঙ্গে বুঝে নেবেন সেটা প্রতারণা — সরকারি নিয়োগে এভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয় না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কর অঞ্চল-৯ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬-এ মোট কতজন নেওয়া হবে?

৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৮ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। সবচেয়ে বেশি পদ সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটরে (১১টি), তারপর অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে (৯টি)।

আবেদনের শেষ তারিখ কবে?

আবেদনের শেষ তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টা। এরপর পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাবে। শেষ দিনের ভিড় এড়াতে আগেই আবেদন করে ফি জমা দেওয়াই ভালো।

ঢাকার বাইরের জেলার প্রার্থীরা কি আবেদন করতে পারবেন?

না। এই নিয়োগে শুধু ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। ঢাকায় ভাড়া থাকলেও স্থায়ী ঠিকানা অন্য জেলার হলে আবেদন করা যাবে না।

আবেদন ফি কত?

১ থেকে ৬ নম্বর পদের জন্য মোট ১১২ টাকা, ৭ থেকে ৯ নম্বর পদের জন্য মোট ৫৬ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীরা সব পদেই ৫৬ টাকা দেবেন। ফি দিতে হবে টেলিটক প্রি-পেইড সিম থেকে এসএমএসের মাধ্যমে, আবেদন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে।

একজন প্রার্থী কি একাধিক পদে আবেদন করতে পারবেন?

না। একজন প্রার্থী শুধু যেকোনো একটা পদে আবেদন করতে পারবেন। একাধিক পদে আবেদন করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

পরীক্ষার তারিখ কবে জানানো হবে?

পরীক্ষার তারিখ বিজ্ঞপ্তিতে এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আবেদন শেষ হওয়ার পর প্রবেশপত্র ও পরীক্ষার সূচি এসএমএসের মাধ্যমে আর tax9.teletalk.com.bd পোর্টালে জানানো হবে। তাই আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরটা সচল রাখুন।

অফিসিয়াল আবেদন পোর্টাল কোনটা?

অফিসিয়াল আবেদন পোর্টাল tax9.teletalk.com.bd। প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট taxeszone9dhaka.gov.bd। এই দুটো ছাড়া অন্য কোনো সাইটে আবেদন করবেন না, আর কারো কাছে ফি-র টাকা পাঠাবেন না।

শেষ কথা

ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে সরকারি চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য কর অঞ্চল-৯-এর এই ৩৮ পদের নিয়োগটা সত্যিই একটা ভালো সুযোগ — বিশেষ করে যাদের টাইপিং বা সাঁটলিপির দক্ষতা আছে। সময় আছে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত, কিন্তু আমার পরামর্শ থাকবে আজকালের মধ্যেই আবেদনটা সেরে ফেলুন। শেষ দিনের তাড়াহুড়োয় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়, আর সেই ভুলের দাম দিতে হয় ফি আর সুযোগ দুটো দিয়েই।

আবেদন করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তিটা একবার মিলিয়ে নিন, আর অফিসিয়াল পোর্টাল tax9.teletalk.com.bd থেকেই আবেদন করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে জানাতে পারেন, আর এই নিয়োগের আপডেট পেতে সাইটে চোখ রাখুন।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp