কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রাম নিয়োগ ২০২৬

কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রাম নিয়োগ ২০২৬-এ মোট ২৬টি পদে আবেদন চলছে। কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক — এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে নিয়োগ হবে। অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ১৫ অক্টোবর, আর শেষ হবে ৫ নভেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টায়।

চট্টগ্রামের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই বিজ্ঞপ্তিটা একটু অন্যরকম। কারণ এখানে আবেদন করতে পারবেন শুধু চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা। আমার অভিজ্ঞতায়, জেলা-কোটার এই শর্তটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়। অনেকে ঢাকা থেকে আবেদন করে ফেলেন, পরে মৌখিক পরীক্ষায় গিয়ে আটকে যান। তাই প্রথমেই পরিষ্কার করে নিই — আপনি যদি চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে এই বিজ্ঞপ্তি আপনার জন্য নয়। আর আপনি যদি চট্টগ্রামের হন, তাহলে হাতে সময় খুব বেশি নেই। আবেদন শেষ হবে ৫ নভেম্বর, আর ফি দিতে হবে আবেদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে।

এই লেখায় আমি পুরো বিজ্ঞপ্তিটা ভেঙে ভেঙে বুঝিয়ে দেব — কোন পদে কতজন নেবেন, কী যোগ্যতা লাগবে, বয়স কত হতে হবে, ফি কত, আর ধাপে ধাপে কীভাবে আবেদন করবেন। শেষে থাকছে প্রস্তুতির পরামর্শ আর আবেদনকারীদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলোর উত্তর। যারা গুগলে ctax1 job circular 2026 লিখে খুঁজছেন, তাদের জন্যও এখানে সব তথ্য এক জায়গায় থাকছে।

Table of Contents

এক নজরে কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রাম নিয়োগ ২০২৬

আগে পুরো ছবিটা একবার দেখে নিন। তারপর বিস্তারিত পড়ুন।

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠানকর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রাম (জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন)
মোট পদ৫টি ক্যাটাগরিতে ২৬টি শূন্যপদ
আবেদন শুরু১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ তারিখ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা
আবেদন মাধ্যমঅনলাইন, ctax1.teletalk.com.bd
বয়সসীমা১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছর
আবেদন ফি১১২ টাকা (১-৪ নম্বর পদ) ও ৫৬ টাকা (৫ নম্বর পদ ও কোটা)
কারা আবেদন করতে পারবেনশুধু চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দা
বিজ্ঞপ্তির স্মারক ও তারিখক-১ (চট্ট)/সংস্থা/জনবল নিয়োগ/২০২৬/, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কোন পদে কতজন নেওয়া হবে?

মোট ২৬টি পদের হিসাবটা খুব পরিষ্কার। পাঁচটি পদের সংখ্যা যোগ করলেই ২৬ মেলে — ১ + ৩ + ৯ + ৪ + ৯। কোনো অস্পষ্টতা নেই এখানে। নিচের টেবিলে পদ, গ্রেড, শূন্যপদ আর শিক্ষাগত যোগ্যতা একসাথে দিলাম, যাতে আপনি নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন।

পদগ্রেড ও বেতন স্কেলপদসংখ্যাশিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা
কম্পিউটার অপারেটরগ্রেড-১৩, ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা১বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক (সম্মান) বা সমমান। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলায় ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দের গতি। স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিটিউড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।
উচ্চমান সহকারীগ্রেড-১৪, ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা৩দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক বা সমমান সিজিপিএ। বাংলায় ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দের মুদ্রাক্ষর গতি। ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল ও ফ্যাক্স পরিচালনায় দক্ষতা।
সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটরগ্রেড-১৪, ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা৯দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক বা সমমান। সাঁটলিপিতে বাংলায় ৪৫ ও ইংরেজিতে ৭০ শব্দের গতি। মুদ্রাক্ষরে বাংলায় ২৫ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দের গতি।
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকগ্রেড-১৬, ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা৪দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি বা সমমান। বাংলায় ও ইংরেজিতে ২০ শব্দের মুদ্রাক্ষর গতি। কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা।
অফিস সহায়কগ্রেড-২০, ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা৯এসএসসি বা সমমান পাস।

একটা কথা মনে রাখবেন — বেতন স্কেলগুলো মূল বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেডের পাশে যেভাবে ছাপা হয়েছে, সেভাবেই এখানে দেওয়া হলো। এর সঙ্গে সরকারি নিয়মে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত হবে।

কে আবেদন করতে পারবেন? বয়স আর জেলার শর্ত

এই বিজ্ঞপ্তির দুটো শর্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে। প্রথমটা বয়স, দ্বিতীয়টা জেলা।

বয়সসীমা কত?

১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যই চূড়ান্ত। আবেদন ফরমে বয়সের ঘরে ভুল তথ্য দিলে পরে যাচাইয়ে বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই জন্মতারিখ লেখার সময় সনদের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নিন।

শুধু চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা কেন?

এই নিয়োগ চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত। মৌখিক পরীক্ষার সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিকত্বের সনদ দেখাতে হবে। আমার পরামর্শ — সনদটা এখনই হাতে আছে কি না দেখে নিন। না থাকলে আবেদনের আগেই সংগ্রহের ব্যবস্থা করুন, কারণ শেষ মুহূর্তে এই কাগজ জোগাড় করা বেশ ঝামেলার।

একজন কি একাধিক পদে আবেদন করতে পারবেন?

না। একজন প্রার্থী শুধু একটি পদেই আবেদন করতে পারবেন। একাধিক পদে আবেদন করলে সব আবেদন বাতিল হয়ে যাবে — এটা বিজ্ঞপ্তির কঠোর শর্ত। তাই নিজের যোগ্যতা আর টাইপিং গতির সঙ্গে সবচেয়ে ভালো মেলে এমন একটা পদ বেছে নিন, তারপর সেখানেই মনোযোগ দিন।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো একসাথে

ঘটনাতারিখ ও সময়
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ১৩ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন আবেদন শুরু১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা
অনলাইন আবেদন শেষ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা
ফি জমার শেষ সময়আবেদন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (টেলিটক প্রিপেইড সিমে এসএমএসের মাধ্যমে)
পরীক্ষার তারিখপরে অফিশিয়াল পোর্টালে জানানো হবে

এখানে একটা ভুল প্রায়ই হয়। অনেকে ভাবেন, আবেদন ফরম জমা দিলেই কাজ শেষ। আসলে তা নয়। ফরম জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই ফরম জমা দেওয়ার দিনই ফি দেওয়ার চেষ্টা করুন, শেষ দিনের জন্য ফেলে রাখবেন না।

আবেদন ফি কত? কীভাবে দেবেন?

ফি দুই ধাপে ভাগ করা। ১ থেকে ৪ নম্বর পদের জন্য পরীক্ষার ফি ১০০ টাকা, সঙ্গে টেলিটক সার্ভিস চার্জ ১২ টাকা — মোট ১১২ টাকা। ৫ নম্বর পদ অফিস সহায়কের জন্য ফি ৫০ টাকা, চার্জ ৬ টাকা — মোট ৫৬ টাকা। শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সব পদেই মোট ৫৬ টাকা।

ফি দিতে হবে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমে। প্রথম এসএমএসে লিখুন CTAX1, একটা স্পেস, তারপর আপনার ইউজার আইডি — পাঠান ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে একটা পিন নম্বর আসবে। দ্বিতীয় এসএমএসে লিখুন CTAX1, স্পেস, YES, স্পেস, পিন নম্বর — আবার ১৬২২২-তে পাঠান। ফি জমা হলে কনফার্মেশন এসএমএসে ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড পাবেন। এই মেসেজটা যত্ন করে রেখে দিন, প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সময় এটাই লাগবে।

ইউজার আইডি বা পিন হারিয়ে গেলে ঘাবড়াবেন না। CTAX1 Help USER লিখে ইউজার আইডি, বা CTAX1 Help PIN লিখে পিন নম্বর ১৬২২২-তে পাঠিয়ে পুনরুদ্ধার করা যায়। টেলিটকের হেল্পলাইন ১২১-তেও যোগাযোগ করা যায়।

ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি

আবেদন করতে হবে ctax1.teletalk.com.bd ঠিকানায়। পুরো প্রক্রিয়াটা আমি ধাপে ধাপে সাজিয়ে দিলাম, যাতে প্রথমবার আবেদন করলেও কোথাও আটকে না যান।

  1. প্রথমে ctax1.teletalk.com.bd-তে যান এবং কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের বিজ্ঞপ্তিটি বেছে নিন।
  2. আপনার পদের Application Form খুলুন। নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ঠিকানা — সব তথ্য সনদের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন।
  3. সাম্প্রতিক রঙিন ছবি আপলোড করুন — ৩০০×৩০০ পিক্সেল, জেপিজি ফরম্যাট, সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট।
  4. স্বাক্ষর আপলোড করুন — ৩০০×৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট। স্বাক্ষরটা সাদা কাগজে কালো কালিতে পরিষ্কার করে লিখে স্ক্যান করুন।
  5. শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা ও কোটার তথ্য (প্রযোজ্য হলে) সাবধানে পূরণ করুন।
  6. ফরম জমা দেওয়ার আগে Preview দেখে পুরোটা একবার পড়ুন। একটা ভুল বানানও পরে ঝামেলা বাধাতে পারে।
  7. Submit করার পর Applicant’s Copy ডাউনলোড করে প্রিন্ট বা সংরক্ষণ করুন। এতে আপনার ইউজার আইডি থাকবে।
  8. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক এসএমএসের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করুন।

আমার অভিজ্ঞতায়, ছবি আর স্বাক্ষরের মাপ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন আটকায়। ছবি বড় হলে সাইট নেয় না, আবার অস্পষ্ট হলে পরে যাচাইয়ে সমস্যা হয়। তাই আবেদনের আগেই ছবি আর স্বাক্ষর নির্ধারিত মাপে তৈরি করে রাখুন। কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে করলে তাদের মাপটা মুখে বলে দিন — ৩০০×৩০০ আর ৩০০×৮০।

আবেদনের সময় যেসব কাগজপত্র হাতে রাখবেন

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ
  • সব শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র (এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক — পদের প্রয়োজন অনুযায়ী)
  • চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দার সনদ
  • সাম্প্রতিক রঙিন ছবি (নির্ধারিত মাপে) ও স্বাক্ষর
  • কোটার প্রমাণপত্র (প্রযোজ্য হলে)
  • টেলিটক প্রিপেইড সিম (ফি দেওয়ার জন্য)
  • ২০২৪ সালের পুরোনো বিজ্ঞপ্তিতে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের জন্য: নতুন করে আবেদন করার দরকার নেই — পুরোনো আবেদনই এই নিয়োগ চক্রে বৈধ থাকবে

এই শেষ পয়েন্টটা অনেকেই জানেন না। ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তিতে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের আবার আবেদন করতে হবে না। আপনি যদি সেই দলের হন, তাহলে নতুন করে ফি দিয়ে ডাবল আবেদন করবেন না — তাতে বরং জটিলতা বাড়বে।

পরীক্ষা কীভাবে হবে? নির্বাচন প্রক্রিয়া

সরকারি নিয়োগের ধাপগুলো সাধারণত একই রকম হয়। প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, তারপর পদ অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা, সবশেষে মৌখিক পরীক্ষা। কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী আর সাঁটলিপিকার পদের জন্য টাইপিং গতি আর সাঁটলিপির ব্যবহারিক পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেই হবে না — নির্ধারিত গতিতে টাইপ করতে না পারলে পরের ধাপে যাওয়া যাবে না।

লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান আর অফিস-প্রশাসন সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকে। কর অঞ্চলের পদ বলে আয়কর সংক্রান্ত প্রাথমিক ধারণা থাকলে সুবিধা হয়। তবে মূল বিজ্ঞপ্তিতে সিলেবাস আলাদা করে না থাকলে অতিরিক্ত কিছু পড়ে সময় নষ্ট না করে মৌলিক বিষয়গুলোই ঝালিয়ে নেওয়া ভালো।

প্রস্তুতির জন্য আমার পরামর্শ

আবেদনকারীদের জন্য আমার পরামর্শটা খুব সোজা। প্রথমে টাইপিং গতিটা মেপে নিন। বাংলায় ২৫ আর ইংরেজিতে ৩০ শব্দের গতি মুখে বলা সহজ, কিন্তু পরীক্ষার চাপে অনেকের গতি কমে যায়। প্রতিদিন ২০-২৫ মিনিট নিয়মিত অনুশীলন করলে দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণীয় উন্নতি হয়। সাঁটলিপিকার পদের প্রার্থীদের জন্য ডিকটেশন অনুশীলনটা আরও জরুরি — বাংলায় ৪৫ আর ইংরেজিতে ৭০ শব্দের সাঁটলিপি গতি একদিনে আসে না।

দ্বিতীয়ত, মৌখিক পরীক্ষার জন্য নিজের জেলা আর কর অঞ্চলের কাজ সম্পর্কে দুটো লাইন জেনে রাখুন। কেন কর অঞ্চলে চাকরি করতে চান, অফিস সহকারী বা উচ্চমান সহকারীর কাজ আসলে কী — এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজের ভাষায় গুছিয়ে রাখুন। মুখস্থ উত্তর বোর্ডে ধরা পড়ে যায়, নিজের ভাষায় বলা উত্তরই বিশ্বাসযোগ্য শোনায়।

তৃতীয়ত, আবেদনের পর Applicant’s Copy আর ফি জমার কনফার্মেশন মেসেজ — দুটোই আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করুন। ফোন হারালে বা মেসেজ মুছে গেলে যাতে বিপদে না পড়েন।

যেসব ভুলে আবেদন বাতিল হতে পারে

  • চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও আবেদন করা
  • একাধিক পদে আবেদন করা
  • ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি না দেওয়া
  • ভুল মাপের বা অস্পষ্ট ছবি-স্বাক্ষর আপলোড করা
  • সনদের সঙ্গে না মিলিয়ে নাম বা জন্মতারিখ লেখা
  • শেষ দিনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা — সার্ভার ব্যস্ত থাকলে ফরম জমা নাও হতে পারে

ঢাকার কর অঞ্চলের নিয়োগের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

অনেকে কর অঞ্চল-৯ ঢাকা বা কর অঞ্চল-৬ ঢাকার বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে এটাকে গুলিয়ে ফেলেন। পার্থক্যটা পরিষ্কার। ঢাকার বিজ্ঞপ্তিগুলো ঢাকার প্রার্থীদের জন্য, আর এটি শুধু চট্টগ্রামের জন্য। পদসংখ্যাও আলাদা — ঢাকায় ৩৮ বা ৪১টি পদ ছিল, এখানে ২৬টি। আবেদনের পোর্টালও আলাদা — ঢাকার জন্য tax9 বা tax6, আর এখানে ctax1। ভুল পোর্টালে আবেদন করলে সেটা এই নিয়োগে গণ্য হবে না। তাই লিংকটা বারবার মিলিয়ে নিন।

আরও পড়ুন: কর অঞ্চল-৯ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬: ৩৮ পদে আবেদন চলছে, শেষ ১৪ নভেম্বর | কর অঞ্চল-৬ ঢাকা নিয়োগ ২০২৬: ৪১ পদে আবেদন চলছে, শেষ ১৪ নভেম্বর | বিপিএটিসি নিয়োগ ২০২৬: ৩৯ পদে আবেদন চলছে, শেষ তারিখ ৭ নভেম্বর | পুলিশ সিআইডি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: ১৮ পদে আবেদন চলছে, যোগ্যতা, বেতন ও শেষ তারিখ

সচরাচর জিজ্ঞাসা করা প্রশ্ন

কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রাম নিয়োগ ২০২৬-এর আবেদনের শেষ তারিখ কবে?

অনলাইন আবেদনের শেষ তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা। তবে ফি জমা দিতে হবে আবেদন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। তাই শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেভাগে আবেদন শেষ করাই নিরাপদ।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

শুধু চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। মৌখিক পরীক্ষায় স্থায়ী বাসিন্দার সনদ দেখাতে হবে। অন্য জেলার বাসিন্দাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

বয়সসীমা কত?

১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আবেদন ফি কত?

১ থেকে ৪ নম্বর পদের জন্য মোট ১১২ টাকা, ৫ নম্বর পদ ও কোটা প্রার্থীদের জন্য মোট ৫৬ টাকা। ফি টেলিটক প্রিপেইড সিম থেকে এসএমএসের মাধ্যমে দিতে হবে।

কোন পদে কতটি শূন্যপদ আছে?

কম্পিউটার অপারেটর ১টি, উচ্চমান সহকারী ৩টি, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর ৯টি, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৪টি ও অফিস সহায়ক ৯টি — মোট ২৬টি।

একাধিক পদে আবেদন করা যাবে কি?

না। একজন প্রার্থী শুধু একটি পদে আবেদন করতে পারবেন। একাধিক পদে আবেদন করলে সব আবেদন বাতিল হবে।

২০২৪ সালের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের কি আবার আবেদন করতে হবে?

না। ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তিতে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের পুরোনো আবেদনই এই নিয়োগ চক্রে বৈধ থাকবে। তাদের নতুন করে আবেদন করার দরকার নেই।

পরীক্ষার তারিখ কবে জানা যাবে?

পরীক্ষার তারিখ, প্রবেশপত্র ও কেন্দ্রের তথ্য পরে অফিশিয়াল পোর্টাল ctax1.teletalk.com.bd-তে প্রকাশ করা হবে। আবেদনের পর ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখুন।

পদভিত্তিক কাজের ধরন: আসলে দিনভর কী করতে হয়

পদের নাম দেখে অনেকেই আন্দাজে আবেদন করেন, অথচ কাজের ধরনটা জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়। আমি এখানে প্রতিটি পদের দৈনন্দিন কাজের একটা বাস্তব ছবি দিচ্ছি, যাতে আপনি নিজের স্বভাব আর দক্ষতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন।

কম্পিউটার অপারেটর মূলত ডেটা এন্ট্রি আর তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করেন। করদাতাদের তথ্য সিস্টেমে তোলা, রিপোর্ট তৈরি করা, অফিসের ডেটাবেজ ঠিক রাখা — এসবই তার দায়িত্ব। এই পদে মাত্র ১টি শূন্যপদ, তাই প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি হবে বলেই ধরে নেওয়া যায়। বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক আর স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিটিউড টেস্টের শর্তটাও এখানে বাড়তি ছাঁকনি হিসেবে কাজ করবে।

উচ্চমান সহকারী অফিসের ফাইল আর নথিপত্রের প্রাণ। নথি তৈরি, ফাইল চালাচালি, চিঠিপত্রের খসড়া, রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ — একজন উচ্চমান সহকারীর হাত ধরেই অফিসের দৈনন্দিন কাজ এগোয়। যারা গোছানো কাজ পছন্দ করেন আর লেখালেখিতে স্বচ্ছন্দ, তাদের জন্য এই পদটা ভালো মিলবে।

সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে শূন্যপদ সবচেয়ে বেশি — ৯টি। এই পদের কাজ সভা বা বক্তব্যের সাঁটলিপি নেওয়া আর পরে তা টাইপ করে নথিভুক্ত করা। সাঁটলিপির গতি এখানে আসল যোগ্যতা। অনেক স্নাতক প্রার্থীর সাঁটলিপি শেখা থাকে না, তাই এই পদে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হতে পারে — যাদের সাঁটলিপি জানা আছে, তাদের জন্য এটা একটা বাস্তব সুবিধা।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদটি এইচএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। চিঠি টাইপ করা, ডেটা এন্ট্রি, ফাইল সাজানো — কাজের ধরনটা উচ্চমান সহকারীর কাছাকাছি, তবে শিক্ষাগত শর্তটা কম। আর অফিস সহায়ক পদে এসএসসি পাসেই আবেদন করা যায়। ফাইল আনা-নেওয়া, অফিসের দৈনন্দিন সহায়তা, নথি সংরক্ষণে সাহায্য — এই কাজগুলোই মূল দায়িত্ব। ৯টি শূন্যপদ থাকায় এসএসসি পাস প্রার্থীদের জন্য এটাই সবচেয়ে সহজলভ্য দরজা।

আবেদনের পর কী করবেন: ৫ নভেম্বর থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত

আবেদন জমা দিয়েই কাজ শেষ ভাববেন না। আমার পরামর্শ, আবেদনের পরের সময়টাকে তিন ভাগে ভাগ করে নিন। প্রথম সপ্তাহে নিজের টাইপিং গতি আর সাঁটলিপি অনুশীলনের রুটিন ঠিক করুন। প্রতিদিন একই সময়ে অনুশীলন করলে গতি স্থিতিশীল হয়। দ্বিতীয় ধাপে বাংলা, ইংরেজি, গণিত আর সাধারণ জ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিন। সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নের ধরন মোটামুটি পরিচিত — বিগত বছরের কর অঞ্চলের প্রশ্নপত্র দেখলে ধারণা পাবেন। তৃতীয় ধাপে, প্রবেশপত্র প্রকাশের খবর রাখুন। প্রবেশপত্র সাধারণত আবেদনের পোর্টালেই পাওয়া যায়, আর পরীক্ষার কেন্দ্র চট্টগ্রাম শহরের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

একটা সতর্কতাও দরকার। পরীক্ষার তারিখ নিয়ে ফেসবুক বা ইউটিউবে নানা গুজব ছড়ায়। শুধু অফিশিয়াল পোর্টালের নোটিশকেই বিশ্বাস করুন। কেউ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন বা চাকরির প্রলোভন দেখালে সেটা প্রতারণা — কর অঞ্চলের নিয়োগে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই।

কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রাম অফিস সম্পর্কে

কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের কার্যালয় আগ্রাবাদ এলাকায়, সিজিও ভবন-১-এর তৃতীয় তলায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে এই অঞ্চল চট্টগ্রাম জেলার প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ, করদাতাদের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ আর রাজস্ব প্রশাসনের কাজ দেখে। চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত, আর বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে এখানকার কর অফিসের কাজের পরিধিও বড়। এই প্রেক্ষাপটটা মৌখিক পরীক্ষায় কাজে লাগতে পারে — কেন এই অঞ্চলে কাজ করতে চান, তার উত্তরে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গুরুত্বের কথা নিজের ভাষায় বলতে পারলে উত্তরটা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য শোনায়।

আবেদন করার আগে শেষ চেকলিস্ট

সাবমিট বোতামে চাপ দেওয়ার আগে এই কয়েকটা জিনিস একবার মিলিয়ে নিন। নামের বানান সনদের সঙ্গে মিলছে তো? জন্মতারিখ ঠিক আছে তো? পদের নামটাই কি আপনি চেয়েছিলেন, নাকি ভুল করে অন্য পদ বেছে ফেলেছেন? ছবি আর স্বাক্ষর নির্ধারিত মাপের তো? জেলার ঘরে চট্টগ্রাম লেখা আছে তো? এই পাঁচটা প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলেই সাবমিট করুন। তারপর Applicant’s Copy সংরক্ষণ করুন আর সঙ্গে সঙ্গে ফি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। তাড়াহুড়ো করে আবেদন করা আর ধীরেসুস্থে ভুল আবেদন করা — দুটোই সমান ক্ষতিকর। মাঝপথটাই সঠিক: সময় নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে, কিন্তু ৫ নভেম্বরের অনেক আগেই আবেদন শেষ করা।

শেষ কথা

চট্টগ্রামের প্রার্থীদের জন্য ২৬টি পদ খুব বড় সংখ্যা না হলেও, জেলা-সীমিত নিয়োগ বলে প্রতিযোগিতাটা তুলনামূলকভাবে গণ্ডির মধ্যে থাকে। অর্থাৎ, সারা দেশের প্রার্থীরা এখানে আবেদন করতে পারবেন না। এই সুবিধাটা কাজে লাগাতে হলে শুধু একটা কাজ করতে হবে — নির্ভুলভাবে, সময়মতো আবেদন করা। আর টাইপিং গতিটা পরীক্ষার আগেই যাচাই করে নেওয়া।

আবেদন করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তিটা একবার নিজে পড়ে নিন। এই লেখায় আমি যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিই শেষ কথা। ৫ নভেম্বর বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদন শেষ করুন, আর ফি দিন আবেদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। শুভকামনা রইল।

তথ্যসূত্র: কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রামের বিজ্ঞপ্তি (স্মারক: ক-১ (চট্ট)/সংস্থা/জনবল নিয়োগ/২০২৬/, ১৩ অক্টোবর ২০২৬) ও অফিশিয়াল আবেদন পোর্টাল ctax1.teletalk.com.bd।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp